০১:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

শাহেদ ড্রোন অনেকটাই আটকাতে পারছে না মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের শাহেদ ধাঁচের ড্রোনগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোনই আটকাতে সক্ষম হবে না—ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রিফিংয়ের সময়ে, কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে এসব ড্রোন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সমস্যা সৃষ্টি করছে। ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া অনান্য দুই সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও একই ধারণা ব্যক্ত করেছেন।

সূত্রগুলো বলেছে, এসব ড্রোন নিচু উচ্চতায় এবং ধীর গতিতে উড়ার সক্ষমতা রাখে—এমন বৈশিষ্ট্য যা এগুলোকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় রাডার ও প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে সহজ করে তোলে। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তারা উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে উপসাগরীয় কয়েকটি অংশীদার দেশ ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ভাঙার ঝুঁকি রয়েছে—এসব বিবেচনায় করে ওই ব্রিফিং করা হয়েছিল।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন যে ইরানের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনা “ধ্বংস” করা হয়েছে এবং নতুন হামলাগুলো ইরানি নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, কর্মকর্তারা ইরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনকে আনুষঙ্গিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে তারা বলেছেন—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনীকে প্রভূতভাবে দুর্বল করা, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধ করা এবং দেশটিকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’গুলোকে অস্ত্র জোগানো থেকে বিরত রাখা।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তারা ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকে এখনও নির্দিষ্ট করেননি। ট্রাম্প বলেছেন যে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হত্যা করেছে এবং এই অভিযানে সম্ভাব্য অনেক উত্তরসূরিও নিহত হয়েছেন—এবং সেই পরবর্তী উত্তরসূরিদের খুঁজে বের করার জটিল প্রক্রিয়া চলছে।

সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে তা নিয়েও মতভেদের পরিচয় মিলেছে। আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ কিছু ব্রিফকারী তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এ সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার সম্ভাব্য সময়সীমা উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু অন্য আইনপ্রণেতারা বলেন, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

শাহেদ ড্রোন অনেকটাই আটকাতে পারছে না মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা

প্রকাশিতঃ ০৩:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের শাহেদ ধাঁচের ড্রোনগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোনই আটকাতে সক্ষম হবে না—ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রিফিংয়ের সময়ে, কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে এসব ড্রোন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সমস্যা সৃষ্টি করছে। ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া অনান্য দুই সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও একই ধারণা ব্যক্ত করেছেন।

সূত্রগুলো বলেছে, এসব ড্রোন নিচু উচ্চতায় এবং ধীর গতিতে উড়ার সক্ষমতা রাখে—এমন বৈশিষ্ট্য যা এগুলোকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় রাডার ও প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে সহজ করে তোলে। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তারা উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে উপসাগরীয় কয়েকটি অংশীদার দেশ ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ভাঙার ঝুঁকি রয়েছে—এসব বিবেচনায় করে ওই ব্রিফিং করা হয়েছিল।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন যে ইরানের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনা “ধ্বংস” করা হয়েছে এবং নতুন হামলাগুলো ইরানি নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, কর্মকর্তারা ইরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনকে আনুষঙ্গিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে তারা বলেছেন—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনীকে প্রভূতভাবে দুর্বল করা, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধ করা এবং দেশটিকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’গুলোকে অস্ত্র জোগানো থেকে বিরত রাখা।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তারা ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকে এখনও নির্দিষ্ট করেননি। ট্রাম্প বলেছেন যে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হত্যা করেছে এবং এই অভিযানে সম্ভাব্য অনেক উত্তরসূরিও নিহত হয়েছেন—এবং সেই পরবর্তী উত্তরসূরিদের খুঁজে বের করার জটিল প্রক্রিয়া চলছে।

সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে তা নিয়েও মতভেদের পরিচয় মিলেছে। আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ কিছু ব্রিফকারী তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এ সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার সম্ভাব্য সময়সীমা উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু অন্য আইনপ্রণেতারা বলেন, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।