০৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা

মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে এই খবর নিশ্চিত করে।

দেশটির প্রধান নীতিনির্ধারক পরিষদ ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এক বিশেষ অধিবেশনে মোজতবাকে ওই শীর্ষপদের জন্য নির্বাচিত করে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী এই পরিষদই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি দেশটির নেতৃত্বে সংগঠিত দ্বিতীয় বড় ধরনের পরিবর্তন। এর আগে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পর আলী খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর পিতার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনির অভিষেক ইরানের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিমণ্ডলে পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন—এই রকমই ধারণা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে। পারদর্শী উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তিনি নানান নীতিমালা ও সিদ্ধান্তে জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি পদ না থাকলেও মোজতবার ওপর সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর ওপর ব্যাপক প্রভাব আছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক পরেই দেশের সশস্ত্র বাহিনী মোজতবা খামেনির প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের কথা ঘোষণা করেছে।

তবে মোজতবা খামেনির এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ উত্থাপন করেছে। তিনি প্রচলিতভাবে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় উপাধি ও ভূমিকা গ্রহণকারী নেতা না হওয়ায় কিছু পর্যবেক্ষক এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও প্রভাব নিয়ে সন্দেহ ও আলোচনা করছেন।

আন্তর্জাতিক চাপও তাঁর ওপর উল্লেখযোগ্য—২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র মোজতবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। 당시 বার্তার সঙ্গে বলা হয়েছিল যে তিনি তাঁর বাবার আঞ্চলিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনসহ আইআরজিসি, কুদস ফোর্স ও বাসিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার এই সময় পৃথিবীকে এই প্রশ্ন ভাবাচ্ছে: মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান কোন দিক নেয়? দায়িত্ব গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাথমিক সংবাদে তাঁর নির্দেশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার খবরও সামনে এসেছে, যা সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে—এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও নজর সক্রিয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে এই খবর নিশ্চিত করে।

দেশটির প্রধান নীতিনির্ধারক পরিষদ ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এক বিশেষ অধিবেশনে মোজতবাকে ওই শীর্ষপদের জন্য নির্বাচিত করে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী এই পরিষদই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি দেশটির নেতৃত্বে সংগঠিত দ্বিতীয় বড় ধরনের পরিবর্তন। এর আগে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পর আলী খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর পিতার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনির অভিষেক ইরানের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিমণ্ডলে পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন—এই রকমই ধারণা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে। পারদর্শী উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তিনি নানান নীতিমালা ও সিদ্ধান্তে জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি পদ না থাকলেও মোজতবার ওপর সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর ওপর ব্যাপক প্রভাব আছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক পরেই দেশের সশস্ত্র বাহিনী মোজতবা খামেনির প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের কথা ঘোষণা করেছে।

তবে মোজতবা খামেনির এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ উত্থাপন করেছে। তিনি প্রচলিতভাবে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় উপাধি ও ভূমিকা গ্রহণকারী নেতা না হওয়ায় কিছু পর্যবেক্ষক এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও প্রভাব নিয়ে সন্দেহ ও আলোচনা করছেন।

আন্তর্জাতিক চাপও তাঁর ওপর উল্লেখযোগ্য—২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র মোজতবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। 당시 বার্তার সঙ্গে বলা হয়েছিল যে তিনি তাঁর বাবার আঞ্চলিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনসহ আইআরজিসি, কুদস ফোর্স ও বাসিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার এই সময় পৃথিবীকে এই প্রশ্ন ভাবাচ্ছে: মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান কোন দিক নেয়? দায়িত্ব গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাথমিক সংবাদে তাঁর নির্দেশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার খবরও সামনে এসেছে, যা সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে—এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও নজর সক্রিয়।