সাংবাদিক আনিস আলমগীর শনিবার (১৪ মার্চ) কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি মুক্তির পর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শুধু অন্যায় নয়, আমার সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে। আপনি বলছেন আমার সমালোচনা করেন, এরপর সমালোচনার কারণ দেখিয়ে আমাকে জেলে পাঠানো হলো। এটা তো বড় বাটপারি — গত এক হাজার বছরে এর বড় বাটপারি কেউ দেখেনি। সমালোচনা করলেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেলে দিচ্ছেন। সমালোচনা কখনো কি সন্ত্রাস হতে পারে? আমি কি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম?’
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র এক দিন আগেই কারাগারে পৌঁছায় বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত সপ্তাহের বুধবার দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) দায়ের করা একটি মামলায় আদালত আনিস আলমগীরকে জামিন প্রদান করেন। ওই জামিনের ফলে তার বিরুদ্ধে থাকা মোট দুইটি মামলায় উভয় কৌঁসলে জামিন মিলেছে। তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান জানান, দুই মামলায় জামিন পাওয়ায় মুক্তির পথে আর কোনো আইনগত বাধা ছিল না।
আসলে আনিস আলমগীরকে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার একটি ব্যায়ামাগার থেকে তদন্তের জন্য তুলে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়। পরের দিন, ১৫ ডিসেম্বর তাকে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে ওই সন্ত্রাসবিরোধী মামলা সংক্রান্ত উচ্চ আদালত গত ৫ মার্চ তাকে জামিন দেন।
মেয়াদোত্তীর্ণ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এবং তার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া মিলে ঘটনাটি সামাজিক ও আইনগত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আনিস আলমগীরের মন্তব্য ও ওই সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























