০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
যমুনা নয়, গুলশান অ্যাভিনিউর নিজ বাড়িতেই থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের তৎপরতা বাড়ল রাজধানীতে ঈদ জামাতে সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে ডিএমপি সদরঘাট লঞ্চ সংঘর্ষ: তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত; ২২ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ পড়বেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সদরঘাটে লঞ্চ চাপায় দুই যাত্রী নিহত, দুজন নিখোঁজ পাটুরিয়া নৌপথ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান পাটুরিয়া নৌপথ পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় দুইজন নিহত, দুই আহত ও দুই নিখোঁজ

আয়রন আকরিকের দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারের দিকে

ব্রাজিলভিত্তিক খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আয়রন আকরিকের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News এ আলোচিত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় খনি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রধান আমদানিকারক দেশ চীনের চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে—এই দুই কারণে দাম এখন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনি খাত বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদও ফুরিয়ে আসছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভেল তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদের অবনতি কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এতে এমন একটি বাজার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে অনেক উত্পাদক আর লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে না—এটিই এখন শিল্পের কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’।

পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যে নিজেদের কৌশলও বদলাচ্ছে ভেল। তারা সাধারণ মানের আকরিকের বদলে উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক দখল করবে, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার হয়।

চীনের চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত এবং দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ইস্পাত খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভেলের আশা, এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আয়রন আকরিকের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোরও পরিকল্পনা নিয়েছে।

সব মিলিয়ে ভেল মনে করছে, সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাব থাকলেও খনি খাতের স্থায়ী চাপ এবং অঞ্চলভিত্তিক চাহিদার পরিবর্তনের সমন্বয়ে আয়রন আকরিকের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের তৎপরতা বাড়ল

আয়রন আকরিকের দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারের দিকে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ব্রাজিলভিত্তিক খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আয়রন আকরিকের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News এ আলোচিত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় খনি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রধান আমদানিকারক দেশ চীনের চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে—এই দুই কারণে দাম এখন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনি খাত বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদও ফুরিয়ে আসছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভেল তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদের অবনতি কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এতে এমন একটি বাজার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে অনেক উত্পাদক আর লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে না—এটিই এখন শিল্পের কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’।

পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যে নিজেদের কৌশলও বদলাচ্ছে ভেল। তারা সাধারণ মানের আকরিকের বদলে উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক দখল করবে, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার হয়।

চীনের চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত এবং দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ইস্পাত খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভেলের আশা, এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আয়রন আকরিকের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোরও পরিকল্পনা নিয়েছে।

সব মিলিয়ে ভেল মনে করছে, সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাব থাকলেও খনি খাতের স্থায়ী চাপ এবং অঞ্চলভিত্তিক চাহিদার পরিবর্তনের সমন্বয়ে আয়রন আকরিকের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল থাকতে পারে।