মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্রতার মাঝে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা একটি মার্কিন এফ/এ-18 হর্নেট যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। বুধবার তেহরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো এই দাবি করা হলে সঙ্গে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়।
আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যভেদ করে ওই বিমানকে ধ্বংস করেছে। তবে এ ঘটনার সঠিক স্থল, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বিমানে থাকা পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে ইরান কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। দেশটির সরকারি টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে আকাশে একটি বিমানের কাছে বিশাল বিস্ফোরণের ঝলক এবং পরে ধোঁয়ার স্তম্ভের দৃশ্য দেখা যায়; তেহরান সেটিকে নিজেদের সফল অভিযানের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ও সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সেন্টকম তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছে যে কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়নি এবং তাদের সব বিমান ও পাইলট নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। তীব্র বিবাদে দুই পক্ষের কণ্ঠস্বর পরস্পরবিরোধী হওয়ায় তথ্যযুদ্ধেরই নতুন অধ্যায় তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এফ/এ-18 হর্নেট সিরিজের বিমানগুলো সাধারণত অ্যারোপ্ল্যান ক্যারিয়ার থেকে চালিত বহুমুখী ফাইটার-অ্যাটাক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরীয় এলাকাসহ ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ও স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও অভিযান চালাতে ব্যবহার করা হয়। গত কয়েক সপ্তাহে উত্তেজনার তীব্রতার কারণে ওই অঞ্চলে এসব বিমানের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের দাবি এ কারণেই সামরিক মহলে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পূর্বেও ইরান কিছুবার যুক্তরাষ্ট্রের এফ-15 ও এফ-35 ভূপাতিতের দাবি করেছিল যা ওয়াশিংটন স্বীকার করেনি; সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অনেকে এ ধরণের দাবিকে তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে এখন সরাসরি লড়াইয়ের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক ও তথ্যসামরিক চাপও উভয়পক্ষ প্রয়োগ করছে—ইরান ভিডিও প্রকাশ করে নিজ সক্ষমতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র তা প্রোপাগান্ডা হিসেবে দৃষ্টান্ত দিচ্ছে ও নিজ জনসাধারণ ও মিত্রদের আশ্বস্ত করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষভাবে সত্য যাচাই করা কঠিন। স্বাধীন ও তৃতীয় পক্ষের নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার প্রকৃত বিবরণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে এমন পাল্টাপাল্টি দাবি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে উদ্বেগ বাড়ায়। পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তরতাজা; ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ বা অফিশিয়াল ব্যাখ্যা আসতে পারে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























