০৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সরকার ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা: ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয় র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন সময়সূচি — সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা ডব্লিউটিও সংস্কারে মৌলিক নীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সতর্কতার আহ্বান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক প্রধানমন্ত্রী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন

‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ আটকালো — উত্তেজনায় ভরা ভারতীয় রাজনীতি

গাজা উপত্যকায় ২০২৪ সালের ইস্রায়েলি সামরিক অভিযানে নিহত পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশুটি রজবের কাহিনি ঘিরে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ এখন ভারতের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলেছে। তিউনিসিয়ান নির্মাতা কুসারু বিন হানিয়া পরিচালিত এই ছবিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে প্রদর্শিত হয়েছে; আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসব ও পুরস্কারে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে এবং এ বছরকার অস্কারে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে চূড়ান্ত মনোনয়ন অর্জন করেছিল।

তবে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) ছবিটির প্রদর্শনীকে অনুমতি না দেওয়ায় দেশে সেন্সরশিপ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক জেগে উঠেছে। ছবিটি ৬ মার্চ ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল, কিন্তু বোর্ড শেষ মুহূর্তে ছাড়পত্র আটকে দিয়েছে। ছবির ভারতীয় পরিবেশক মনোজ নন্দওয়ানা জানিয়েছেন, সরাসরি লিখিত কারণ না জানালেও বোর্ডের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে যে ছবিটি মুক্তি পেলে ভারত ও ইস্রায়েলের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মানবিক ও সংবেদনশীল এক রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রকে আটকে দেয়ার সিদ্ধান্তকে জীবন্ত গণতন্ত্রে সৃজনশীল স্বাধীনতার প্রতি আঘাত হিসেবে দেখছেন অনেকে। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একজোট হয়ে প্রতিবাদ করছে। কংগ্রেস, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডি’র মতো প্রধান বিরোধী শিবিরের স্থানীয় শীর্ষ রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে একটি জোরালো প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন জয়রাম রমেশ, জন ব্রিটাস, রাম গোপাল যাদব, মনোজ কুমার ঝা এবং রাজাঠি সালমাসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা।

প্রতিবাদপত্রে তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে চলচ্চিত্র ছাড়পত্রের সিদ্ধান্ত কখনোই রাজনৈতিক স্বার্থ বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত নয়। তাদের বক্তব্য, একটি মানবিক এবং সত্যনিষ্ঠ গল্পকে আটকে দেয়ার এই সিদ্ধান্ত বাকস্বাধীনতা ও শৈল্পিক সৃজনশীলতার পরিপন্থী। এছাড়া তারা তাৎক্ষণিকভাবে সিনেমাটির ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন করে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের অনুমতি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে এবং বলেছেন, ভারতের মর্যাদা তথা আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি সুরক্ষিত রাখতে এমন সেন্সরশিপ যাতে বাধা না দেয় সে বিষয়টিও সরকারের মাথায় রাখা প্রয়োজন।

এ মুহূর্তে ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’কে ঘিরে তৈরি এই রাজনীতিক উত্তেজনা শুধুই চলচ্চিত্র জগতের সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি, গণতন্ত্রের ওপর দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক কূটনীতির মধ্যে এক জটিল দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ ও রাজনীতিবিদ—সব পক্ষেই প্রশ্ন উঠেছে যে, কোন মানদণ্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং বিচার কতটা স্বতন্ত্র ও ন্যায়সংগত। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রটির ভাগ্য এখন সম্পূর্ণরূপে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু

‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ আটকালো — উত্তেজনায় ভরা ভারতীয় রাজনীতি

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

গাজা উপত্যকায় ২০২৪ সালের ইস্রায়েলি সামরিক অভিযানে নিহত পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশুটি রজবের কাহিনি ঘিরে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ এখন ভারতের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলেছে। তিউনিসিয়ান নির্মাতা কুসারু বিন হানিয়া পরিচালিত এই ছবিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে প্রদর্শিত হয়েছে; আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসব ও পুরস্কারে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে এবং এ বছরকার অস্কারে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে চূড়ান্ত মনোনয়ন অর্জন করেছিল।

তবে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) ছবিটির প্রদর্শনীকে অনুমতি না দেওয়ায় দেশে সেন্সরশিপ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক জেগে উঠেছে। ছবিটি ৬ মার্চ ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল, কিন্তু বোর্ড শেষ মুহূর্তে ছাড়পত্র আটকে দিয়েছে। ছবির ভারতীয় পরিবেশক মনোজ নন্দওয়ানা জানিয়েছেন, সরাসরি লিখিত কারণ না জানালেও বোর্ডের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে যে ছবিটি মুক্তি পেলে ভারত ও ইস্রায়েলের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মানবিক ও সংবেদনশীল এক রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রকে আটকে দেয়ার সিদ্ধান্তকে জীবন্ত গণতন্ত্রে সৃজনশীল স্বাধীনতার প্রতি আঘাত হিসেবে দেখছেন অনেকে। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একজোট হয়ে প্রতিবাদ করছে। কংগ্রেস, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডি’র মতো প্রধান বিরোধী শিবিরের স্থানীয় শীর্ষ রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে একটি জোরালো প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন জয়রাম রমেশ, জন ব্রিটাস, রাম গোপাল যাদব, মনোজ কুমার ঝা এবং রাজাঠি সালমাসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা।

প্রতিবাদপত্রে তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে চলচ্চিত্র ছাড়পত্রের সিদ্ধান্ত কখনোই রাজনৈতিক স্বার্থ বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত নয়। তাদের বক্তব্য, একটি মানবিক এবং সত্যনিষ্ঠ গল্পকে আটকে দেয়ার এই সিদ্ধান্ত বাকস্বাধীনতা ও শৈল্পিক সৃজনশীলতার পরিপন্থী। এছাড়া তারা তাৎক্ষণিকভাবে সিনেমাটির ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন করে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের অনুমতি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে এবং বলেছেন, ভারতের মর্যাদা তথা আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি সুরক্ষিত রাখতে এমন সেন্সরশিপ যাতে বাধা না দেয় সে বিষয়টিও সরকারের মাথায় রাখা প্রয়োজন।

এ মুহূর্তে ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’কে ঘিরে তৈরি এই রাজনীতিক উত্তেজনা শুধুই চলচ্চিত্র জগতের সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি, গণতন্ত্রের ওপর দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক কূটনীতির মধ্যে এক জটিল দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ ও রাজনীতিবিদ—সব পক্ষেই প্রশ্ন উঠেছে যে, কোন মানদণ্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং বিচার কতটা স্বতন্ত্র ও ন্যায়সংগত। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রটির ভাগ্য এখন সম্পূর্ণরূপে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।