১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা: ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয় র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ ডব্লিউটিও সংস্কারে মৌলিক নীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সতর্কতার আহ্বান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন সময়সূচি — সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক প্রধানমন্ত্রী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রামে তিন জাহাজে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘একাত্তর আগে, বাকি সব পরে’ — মুক্তিযুদ্ধকে অন্য ইতিহাসের সঙ্গে মেলাবেন না ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলানো যাবে না

বড় পর্দায় ত্রাস: ‘রাক্ষস’-এ ভিলেন হয়ে ফিরলেন সোহেল মণ্ডল

দুই দশকের পরিধিতে নিজের শিল্পীজীবন বারবার গড়ে উঠেছে, ভাঙলেও আবার দাঁড়িয়েছেন—এই মর্মেই বর্ণনা করা যায় সোহেল মণ্ডলের অভিনয় জীবনের গল্প। মঞ্চনাটক থেকে শুরু করে নাটক ও সিনেমার বিভিন্ন ওলিগলি পেরিয়ে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার নতুন অধ্যায় ওটিটিতে সফলতা অর্জনের পর এবার তিনি বড় পর্দায় এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ছাপ ফেলেছেন।

ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত তরুণ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের ডার্ক-থ্রিলার ‘রাক্ষস’-ে দুর্ধর্ষ খলনায়কের ভূমিকায় সোহেল মণ্ডল দর্শক ও সমালোচকদের মন কেড়েছেন। ওটিটিতে পরিচিত মুখ হলেও বড় পর্দার এই বিধ্বংসী লুক এবং অভিনয়শৈলী দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল ও উন্মাদনা তৈরি করেছে। মুক্তির পর থেকে প্রচারণার অংশ হিসেবে চলমান সিনেমা প্রেক্ষাগৃহ ঘুরে দর্শকদের সরাসরি ভালোবাসা গ্রহণ করছেন তিনি।

সাফল্যকে তিনি একটি ইতিবাচক স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। বলেন, দর্শকদের স্বীকৃতিই একজন শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করে—যখন হলে এসে মানুষ ‘রাক্ষস’ নিয়ে আলোচনা ও চরিত্র বিশ্লেষণ করছে, তখন একজন অভিনেতা হিসেবে চরম সন্তুষ্টি পান তিনি। ওটিটির আলাদা জায়গা পেরিয়ে বাণিজ্যিক পর্দায় এমন একটি ভয়ঙ্কর অবতারে সামনে এসেছে, যা ঢালিউডে শক্তিশালী খলনায়কের আগমনী বার্তা দেয় বলে মত তাঁর।

এই চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করতে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। শারীরিক ফিটনেস নিয়ে আগেই কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ‘রাক্ষস’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব পান। নির্মাতা যখন চরিত্রের গভীরতা এবং প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন, সেসময় থেকেই মানসিকভাবে নিজেকে নতুন ছাঁচে গড়ে তুলতে শুরু করেন তিনি। তাছাড়া মেকআপ আর্টিস্ট ও কস্টিউম ডিজাইনারদের বিশেষ অবদান ছাড়াও এমন লুক সম্ভব ছিল না—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চরিত্রটি পর্দায় প্রাণ পেয়েছে।

এটি সোহেল মণ্ডলের বাণিজ্যিক ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে প্রথমবারের মতো কাজ নয়—২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুসাফির’-এও তাকে নেতিবাচক ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। তবে প্রায় এক দশক পর ‘রাক্ষস’ দিয়ে যে ধাঁচের এবং বিস্তারের খলচরিত্র উপস্থাপন করেছেন, তা আগের কাজের থেকে অনেকটাই ভিন্ন। তিনি মনে করেন, এই ভিন্ন ধরনের সুযোগের জন্য নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিৎ এবং এটি তার কেরিয়ারের বড় একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে সোহেল জানান, তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে চান না। জাতীয় বা বাণিজ্যিক, নায়ক না খল—যে গল্প ও চরিত্র তার শৈল্পিক সত্তাকে তৃপ্ত করবে, সেটাই তিনি গ্রহণ করবেন। আপাতত ‘রাক্ষস’-এর সাফল্য উপভোগ করছেন এবং আশা করছেন এই চলচ্চিত্র ঢালিউডে বৈচিত্র্যময় চরিত্রাভিনয়ের পথ আরও সুদৃঢ় করবে। তরুণত্ব ও অভিজ্ঞতার মিশেলে আজ তিনি বড় পর্দার এমনই এক অপরিহার্য নাম হয়ে উঠছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ

বড় পর্দায় ত্রাস: ‘রাক্ষস’-এ ভিলেন হয়ে ফিরলেন সোহেল মণ্ডল

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

দুই দশকের পরিধিতে নিজের শিল্পীজীবন বারবার গড়ে উঠেছে, ভাঙলেও আবার দাঁড়িয়েছেন—এই মর্মেই বর্ণনা করা যায় সোহেল মণ্ডলের অভিনয় জীবনের গল্প। মঞ্চনাটক থেকে শুরু করে নাটক ও সিনেমার বিভিন্ন ওলিগলি পেরিয়ে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার নতুন অধ্যায় ওটিটিতে সফলতা অর্জনের পর এবার তিনি বড় পর্দায় এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ছাপ ফেলেছেন।

ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত তরুণ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের ডার্ক-থ্রিলার ‘রাক্ষস’-ে দুর্ধর্ষ খলনায়কের ভূমিকায় সোহেল মণ্ডল দর্শক ও সমালোচকদের মন কেড়েছেন। ওটিটিতে পরিচিত মুখ হলেও বড় পর্দার এই বিধ্বংসী লুক এবং অভিনয়শৈলী দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল ও উন্মাদনা তৈরি করেছে। মুক্তির পর থেকে প্রচারণার অংশ হিসেবে চলমান সিনেমা প্রেক্ষাগৃহ ঘুরে দর্শকদের সরাসরি ভালোবাসা গ্রহণ করছেন তিনি।

সাফল্যকে তিনি একটি ইতিবাচক স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। বলেন, দর্শকদের স্বীকৃতিই একজন শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করে—যখন হলে এসে মানুষ ‘রাক্ষস’ নিয়ে আলোচনা ও চরিত্র বিশ্লেষণ করছে, তখন একজন অভিনেতা হিসেবে চরম সন্তুষ্টি পান তিনি। ওটিটির আলাদা জায়গা পেরিয়ে বাণিজ্যিক পর্দায় এমন একটি ভয়ঙ্কর অবতারে সামনে এসেছে, যা ঢালিউডে শক্তিশালী খলনায়কের আগমনী বার্তা দেয় বলে মত তাঁর।

এই চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করতে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। শারীরিক ফিটনেস নিয়ে আগেই কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ‘রাক্ষস’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব পান। নির্মাতা যখন চরিত্রের গভীরতা এবং প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন, সেসময় থেকেই মানসিকভাবে নিজেকে নতুন ছাঁচে গড়ে তুলতে শুরু করেন তিনি। তাছাড়া মেকআপ আর্টিস্ট ও কস্টিউম ডিজাইনারদের বিশেষ অবদান ছাড়াও এমন লুক সম্ভব ছিল না—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চরিত্রটি পর্দায় প্রাণ পেয়েছে।

এটি সোহেল মণ্ডলের বাণিজ্যিক ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে প্রথমবারের মতো কাজ নয়—২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুসাফির’-এও তাকে নেতিবাচক ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। তবে প্রায় এক দশক পর ‘রাক্ষস’ দিয়ে যে ধাঁচের এবং বিস্তারের খলচরিত্র উপস্থাপন করেছেন, তা আগের কাজের থেকে অনেকটাই ভিন্ন। তিনি মনে করেন, এই ভিন্ন ধরনের সুযোগের জন্য নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিৎ এবং এটি তার কেরিয়ারের বড় একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে সোহেল জানান, তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে চান না। জাতীয় বা বাণিজ্যিক, নায়ক না খল—যে গল্প ও চরিত্র তার শৈল্পিক সত্তাকে তৃপ্ত করবে, সেটাই তিনি গ্রহণ করবেন। আপাতত ‘রাক্ষস’-এর সাফল্য উপভোগ করছেন এবং আশা করছেন এই চলচ্চিত্র ঢালিউডে বৈচিত্র্যময় চরিত্রাভিনয়ের পথ আরও সুদৃঢ় করবে। তরুণত্ব ও অভিজ্ঞতার মিশেলে আজ তিনি বড় পর্দার এমনই এক অপরিহার্য নাম হয়ে উঠছেন।