গাজা উপত্যকায় ২০২৪ সালের ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহত পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু রজবের কাহিনি ঘিরে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে। তিউনিসিয়ার আলোচিত নির্মাতা কৌথার বেন হানিয়ার পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যেই বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে মুক্তি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসা ও পুরস্কার কুড়িয়েছে; এবারে এটি অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগেও তীব্র মনোনয়নপাঠ্য ছিল।
তবে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) সিনেমাটির প্রদর্শনের ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ করায় দেশজুড়ে সেন্সরশিপ ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। নির্মাতারা ও ভারতীয় পরিবেশক মনোজ নন্দওয়ানা জানিয়েছেন, বোর্ড কোনো লিখিত কারণ জানায়নি; কেবল মৌখিকভাবে বলা হয়েছে যে সিনেমাটি দেখালে ভারত-ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সিনেমাটির মানবিক গোয়েন্দা ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করেই প্রদর্শন বন্ধ করা হয়েছে—এটাই অভিযোগ। শিক্ষক-শিল্পী ও নাগরিক কর্মী অনেকেই বলছেন, যদি কেবল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিবেচনাকে সামনে রেখে শিল্পকর্ম আটকে দেওয়া হয় তবে তা ভারতের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতার ক্ষতি করবে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে প্রধান বিরোধী দলগুলো একযোগে সরব হয়েছে। কংগ্রেস, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি এবং আরজেডি-র শীর্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে একটি যৌথ প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন জয়রাম রমেশ, জন ব্রিটাস, রাম গোপাল যাদব, মনোজ কুমার ঝা ও রাজাঠি সালমাসহ প্রভাবশালী নেতারা। তাদের দাবি, চলচ্চিত্রের ছাড়পত্র কখনওই রাজনৈতিক স্বার্থ বা কূটনৈতিক পছন্দের ওপর নির্ভর করে দেওয়া বা আটকে রাখা উচিত নয়।
বিরোধী সাংসদেরা বক্তব্য দিয়েছেন, ভারত যেন সবসময়ই ভিন্নমত ও মানবিক বিষয়ভিত্তিক সৃজনশীল কাজকে স্বাগত জানায়—এটাই একটি শক্ত গণতন্ত্রের লক্ষণ। তারা সরকারকে অনুরোধ করেছেন অবিলম্বে চলচ্চিত্রটির যৌক্তিক মূল্যায়ন করে প্রদর্শনের অনুমতি দিতে। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসিত একটি চলচ্চিত্রকে ভেতরে আটকে রাখলে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ এখন সরকারী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সিনেমা-প্রেমী থেকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, অধিকারের বক্তারা—সবার নজর এখন CBFC ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার ওপর। এই বিতর্ক কেবল একটা সিনেমার বিষয় নয়; এটি বাকস্বাধীনতা, সৃজনশীলতার স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির মধ্যে তৈরি এক জটিল দ্বৈরথের প্রতিফলন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























