০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এক বছরে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ — ঈদের পর কেজিতে প্রায় ১০০ টাকার উত্থান

ঈদের পর গত ২০ দিনে সোনালি মুরগির কেজি প্রতি দাম প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ; আর গত এক মাসে বাড়তি ঊর্ধ্বগতি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।

ব্যবসায়ীরা বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ সংকট প্রধানত দামের এই চড়ার কারণ। তবে খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা উল্টো অভিযোগ করেন—বড় করপোরেট হাউসগুলোর কৌশল ও বাচ্চা পোল্ট্রি ও ফিডের দাম বাড়ায় তাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণের মতো বেড়ে গেছে, ফলে বাজারে মুরগি সরবরাহে চাপ পড়েছে এবং দাম বাড়ছে।

একজন খামারি বলেন, “ফিডের দাম তিন-ছয় মাস পরপর দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা করে বাড়ে। এতে খামারের খরচ কমাতে পারছি না।”

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদারও বলেন, “বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর একপেশে কৌশলের ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হওয়ার পথে। ন্যায্য দর না পেলে অনেক খামারি ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবার মতো অবস্থায়।”

বাজার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুচরা ব্যবসায়ীরা খামারিদের কাছ থেকে সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন। কিন্তু বাড়তি পরিবহন খরচ ও চাহিদা-মত পণ্য মেলায় না থাকায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তা ৪০০ টাকার উপরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ক্রেতারা বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের জন্য সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ও দুর্বল নজরদারি থাকায় অসমতা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলেই চাহিদা ও যোগানের অনিশ্চয়তার মধ্যেই দাম ওঠানামা করছে।

পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে বাজারের ট্রান্সপারেন্সি বাড়ানো, পর্যাপ্ত তদারকি নিশ্চিত করা এবং খামারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—তবে এ কাজে শিল্প, প্রশাসন ও খামারি সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

এক বছরে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ — ঈদের পর কেজিতে প্রায় ১০০ টাকার উত্থান

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের পর গত ২০ দিনে সোনালি মুরগির কেজি প্রতি দাম প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ; আর গত এক মাসে বাড়তি ঊর্ধ্বগতি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।

ব্যবসায়ীরা বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ সংকট প্রধানত দামের এই চড়ার কারণ। তবে খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা উল্টো অভিযোগ করেন—বড় করপোরেট হাউসগুলোর কৌশল ও বাচ্চা পোল্ট্রি ও ফিডের দাম বাড়ায় তাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণের মতো বেড়ে গেছে, ফলে বাজারে মুরগি সরবরাহে চাপ পড়েছে এবং দাম বাড়ছে।

একজন খামারি বলেন, “ফিডের দাম তিন-ছয় মাস পরপর দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা করে বাড়ে। এতে খামারের খরচ কমাতে পারছি না।”

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদারও বলেন, “বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর একপেশে কৌশলের ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হওয়ার পথে। ন্যায্য দর না পেলে অনেক খামারি ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবার মতো অবস্থায়।”

বাজার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুচরা ব্যবসায়ীরা খামারিদের কাছ থেকে সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন। কিন্তু বাড়তি পরিবহন খরচ ও চাহিদা-মত পণ্য মেলায় না থাকায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তা ৪০০ টাকার উপরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ক্রেতারা বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের জন্য সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ও দুর্বল নজরদারি থাকায় অসমতা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলেই চাহিদা ও যোগানের অনিশ্চয়তার মধ্যেই দাম ওঠানামা করছে।

পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে বাজারের ট্রান্সপারেন্সি বাড়ানো, পর্যাপ্ত তদারকি নিশ্চিত করা এবং খামারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—তবে এ কাজে শিল্প, প্রশাসন ও খামারি সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি।