১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা: ট্রাইব্যুনাল—২ পুলিশ সদস্যের ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন অর্থমন্ত্রী: ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আবু সাঈদ হত্যা: ২ পুলিশকে ফাঁসি, ৩ জনকে যাবজ্জীবন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন: এনইআইআর নীতিমালা সংশোধন করা হবে জ্বালানি বিতরণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট চালু ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের বৈঠক

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে—বিশেষত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী বিদেশি উচ্চশিক্ষার ভিসার অনুমোদন হার মাত্র ৬৭.৬ শতাংশ, যা গত অন্তত ২১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে করা ভিসা আবেদনের ৫১ শতাংশ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি ভিসা পাচ্ছেন না।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে—ভারতে ৪০ শতাংশ, নেপালে ৬৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। একই সময়ে চীন থেকে ভিসার আবেদন কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগের যাচাই-বাছাই এখন আগের চাইতে অনেক কঠোর। আবেদনকারীরা সত্যিই পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই দেশটিতে যাচ্ছেন কি না—এটিকে এখন বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে কাগজপত্রে অভাব, অনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক তথ্য থাকলে আবেদন সহজে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।

আরও একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হলো আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন বেড়েছে ৫১ শতাংশ, ভারতের ক্ষেত্রে বেড়েছে ৩৬ শতাংশ এবং নেপালে ৯১ শতাংশ। আবেদন বৃদ্ধির ফলে প্রশাসনিক চাপ বাড়ায়ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপলক্ষ তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরও। ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বাড়লে কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘ঝুঁকি’ বেড়ে যায়, ফলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা কোর্সের আবেদন আরও কড়াকড়ি যাচাইয়ের মুখে পড়তে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া (IEAA) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার এত দ্রুত বাড়ছে—এটি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তারা প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে অপ্রত্যাশিত বিঘ্ন না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রবীণ পরামর্শদাতারা বাংলাদেশের আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলতে চাচ্ছেন—আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষাগত উদ্দেশ্য ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ পুরোপুরি সাজিয়ে নিন। আবেদনটি শক্তিশালী করতে সঠিক তথ্য দেয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সময়মতো আপলোড করা এবং পড়াশোনার ন্যায্য উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে—বিশেষত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী বিদেশি উচ্চশিক্ষার ভিসার অনুমোদন হার মাত্র ৬৭.৬ শতাংশ, যা গত অন্তত ২১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে করা ভিসা আবেদনের ৫১ শতাংশ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি ভিসা পাচ্ছেন না।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে—ভারতে ৪০ শতাংশ, নেপালে ৬৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। একই সময়ে চীন থেকে ভিসার আবেদন কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগের যাচাই-বাছাই এখন আগের চাইতে অনেক কঠোর। আবেদনকারীরা সত্যিই পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই দেশটিতে যাচ্ছেন কি না—এটিকে এখন বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে কাগজপত্রে অভাব, অনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক তথ্য থাকলে আবেদন সহজে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।

আরও একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হলো আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন বেড়েছে ৫১ শতাংশ, ভারতের ক্ষেত্রে বেড়েছে ৩৬ শতাংশ এবং নেপালে ৯১ শতাংশ। আবেদন বৃদ্ধির ফলে প্রশাসনিক চাপ বাড়ায়ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপলক্ষ তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরও। ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বাড়লে কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘ঝুঁকি’ বেড়ে যায়, ফলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা কোর্সের আবেদন আরও কড়াকড়ি যাচাইয়ের মুখে পড়তে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া (IEAA) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার এত দ্রুত বাড়ছে—এটি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তারা প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে অপ্রত্যাশিত বিঘ্ন না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রবীণ পরামর্শদাতারা বাংলাদেশের আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলতে চাচ্ছেন—আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষাগত উদ্দেশ্য ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ পুরোপুরি সাজিয়ে নিন। আবেদনটি শক্তিশালী করতে সঠিক তথ্য দেয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সময়মতো আপলোড করা এবং পড়াশোনার ন্যায্য উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।