০৮:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা: ট্রাইব্যুনাল—২ পুলিশ সদস্যের ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন অর্থমন্ত্রী: ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আবু সাঈদ হত্যা: ২ পুলিশকে ফাঁসি, ৩ জনকে যাবজ্জীবন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন: এনইআইআর নীতিমালা সংশোধন করা হবে জ্বালানি বিতরণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট চালু ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের বৈঠক

আবু সাঈদ হত্যা: ২ পুলিশকে ফাঁসি, ৩ জনকে যাবজ্জীবন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শনিবার দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রায় ঘোষণাকালে তিনি বলেন, ‘‘যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল।’’ আদালতে আবু সাঈদের সেই ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

রায়ের পর কাজের প্রকাশ পায় আবু সাঈদের পরিবারের অসন্তোষ। শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেছেন, হত্যার নির্দেশদাতারা বেঁচে রয়েছেন, সব আসামির ফাঁসিই চায় তারা; পরবর্তী পদক্ষেপ সম্প্রতি আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া হবে। মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘‘ছেলের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে রায় এসেছে, কিন্তু আমি শান্তি পাবো কেবল তখনই যখন রায় কার্যকর হবে।’’

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন রায়ের প্রতিবাদ করে দাবি করেছেন, মামলায় উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব স্পষ্ট করা যায়নি। তাঁর ব্যাখ্যা—আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে গুলির কোনো ছিদ্র ছিল না, মরদেহে আর কোনো ছেদ বা ক্ষতও দেখা যায়নি এবং দেহে এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী ১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করার কথা বলা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। দোলন জানান, আসামিপক্ষ আদালতে ২০টিরও বেশি লিখিত যুক্তি উপস্থাপন করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে তা বিশ্লেষণ করে আপিল করা হবে।

ট্রাইব্যুনালের এ রায়ে মামলার সাক্ষ্য, প্রমাণ ও সাজা সংক্রান্ত আরও তথ্যও ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ২৫ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন—বেরোবির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

আরও আটজনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছেন—আরপিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রংপুর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ (দিশা), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন ও এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।

গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু হওয়ার আগে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আদালতে তোলা হয়। তারা হলেন—বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

মামলায় এখনও পলাতক রয়েছেন বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। পলাতক তালিকায় আছেন—তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ (বাচ্চু), রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান (বেল্টু), সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন (টিটু), সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী (সুমন), সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান (জীবন), তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম (নয়ন), এসআই বিভূতি ভূষণ রায় (মাধব), বেরোবির শিক্ষক ও প্রশাসনিক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ।

প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম জানান, মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে; এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্য অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়। এছাড়া, ঘটনাস্থলের সাক্ষী ও ভূমিকা সম্পর্কে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই—কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ নিহত হন। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে থাকা আবু সাঈদের সেই ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে বৃহত্তর ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।

আসামিপক্ষ রায়ে খালাস না পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পেলেই তারা আপিলে যাবে বলে জানিয়েছে। অপরপক্ষে, ক্ষতির স্বীকৃতি ও দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এটি কলকাঠি হিসেবে গণ্য হবে—ট্রাইব্যুনালের রায় ও এখনকার আপিল প্রক্রিয়া এই মামলায় পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারণ করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস

আবু সাঈদ হত্যা: ২ পুলিশকে ফাঁসি, ৩ জনকে যাবজ্জীবন

প্রকাশিতঃ ১০:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শনিবার দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রায় ঘোষণাকালে তিনি বলেন, ‘‘যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল।’’ আদালতে আবু সাঈদের সেই ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

রায়ের পর কাজের প্রকাশ পায় আবু সাঈদের পরিবারের অসন্তোষ। শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেছেন, হত্যার নির্দেশদাতারা বেঁচে রয়েছেন, সব আসামির ফাঁসিই চায় তারা; পরবর্তী পদক্ষেপ সম্প্রতি আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া হবে। মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘‘ছেলের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে রায় এসেছে, কিন্তু আমি শান্তি পাবো কেবল তখনই যখন রায় কার্যকর হবে।’’

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন রায়ের প্রতিবাদ করে দাবি করেছেন, মামলায় উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব স্পষ্ট করা যায়নি। তাঁর ব্যাখ্যা—আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে গুলির কোনো ছিদ্র ছিল না, মরদেহে আর কোনো ছেদ বা ক্ষতও দেখা যায়নি এবং দেহে এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী ১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করার কথা বলা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। দোলন জানান, আসামিপক্ষ আদালতে ২০টিরও বেশি লিখিত যুক্তি উপস্থাপন করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে তা বিশ্লেষণ করে আপিল করা হবে।

ট্রাইব্যুনালের এ রায়ে মামলার সাক্ষ্য, প্রমাণ ও সাজা সংক্রান্ত আরও তথ্যও ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ২৫ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন—বেরোবির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

আরও আটজনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছেন—আরপিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রংপুর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ (দিশা), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন ও এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।

গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু হওয়ার আগে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আদালতে তোলা হয়। তারা হলেন—বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

মামলায় এখনও পলাতক রয়েছেন বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। পলাতক তালিকায় আছেন—তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ (বাচ্চু), রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান (বেল্টু), সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন (টিটু), সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী (সুমন), সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান (জীবন), তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম (নয়ন), এসআই বিভূতি ভূষণ রায় (মাধব), বেরোবির শিক্ষক ও প্রশাসনিক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ।

প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম জানান, মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে; এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্য অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়। এছাড়া, ঘটনাস্থলের সাক্ষী ও ভূমিকা সম্পর্কে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই—কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ নিহত হন। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে থাকা আবু সাঈদের সেই ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে বৃহত্তর ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।

আসামিপক্ষ রায়ে খালাস না পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পেলেই তারা আপিলে যাবে বলে জানিয়েছে। অপরপক্ষে, ক্ষতির স্বীকৃতি ও দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এটি কলকাঠি হিসেবে গণ্য হবে—ট্রাইব্যুনালের রায় ও এখনকার আপিল প্রক্রিয়া এই মামলায় পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারণ করবে।