০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টানা হারে বিপর্যয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরে টানা খারাপ ফলের কারণে চাপের মুখে পড়েছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। আসরের শুরু থেকে পাঁচটি ম্যাচ খেললেও আজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বাধীন দলটি এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি। মাঠে লড়াইয়ে ধারাবাহিক পরাজয়ে নামাতে নামতে যখন দলটা ক্রান্তিকালীন সংকটে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই এই দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের মুখে এনেছেন ভারতের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান বীরেন্দ্র শেবাগ। তিনি বলেন, গত নিলামে দারুণ দামে দলে আনা অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরুন গ্রিন এখনই কলকাতার জন্য ‘বোজা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত নিলামে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপি খরচ করে গ্রিনকে ভেড়ানো হয়েছিল, যা আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল বিদেশি সংগ্রহ হিসেবে ধরা হয়। সেই বাজি এখন পর্যন্ত ফলই আনতে পারেনি। পাঁচটি ম্যাচে তিনি ব্যাট করে করেছেন মাত্র ৫৬ রান, বল হাতে নিয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। পিঠের চোটের কারণে প্রথম তিন ম্যাচে তিনি বোলিং করতেই পারেননি। সর্বশেষ চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে যে ম্যাচে কলকাতা ৩২ রানে হারেছে, সেখানে গ্রিন ২ ওভার বোলিং করে ৩০ রানের বেশি খরচ করে এবং ব্যাট করে কোনো রান না করেই ফিরেছেন — এক কথায় ব্যর্থতা।

ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেবাগ এই ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তকে সরাসরি কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী, যখন দলের পক্ষে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা সম্ভব ছিল, তখনও গ্রিনের মতো একদলীয় নিলামে এত বিপুল টাকা খরচ করা ছিল ভুল। শেবাগ মনে করেন, প্রত্যাশা মতো পারফরম্যান্স না হওয়ায় গ্রিন এখন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য দায়বদ্ধতা— একদিকে তাকে একাদশে রাখলে ফল মেলে না, বাইরে রাখলে প্রশ্ন উঠে কেন এত টাকা খরচ করা হলো। তিনি আরও বলেন, এই ব্যর্থতা স্বীকার করতে লজ্জার কিছু নেই; ম্যানেজমেন্টের উচিত দ্রুত বাস্তবে এই ভুলটি অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত বদলানো।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়ে শেবাগ কৌশলগত পরিবর্তনও প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, আপাতত গ্রিনকে সাইডবেঞ্চে রেখে নিউজিল্যান্ডের ইতিমধ্যেই ভালো ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান টিম সেইফার্টকে একাদশে নেওয়া উচিত — কারণ সেইফার্ট দলের ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে পারবেন। এছাড়া ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন চেয়েছেন: অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানেকে তিন নম্বর, রভম্যান পাওয়েলকে চার নম্বরে খেলানো এবং তরুণ আংক্রিশ রাঘুবংশীকে একটু নিচে নামিয়ে দলের ভারসাম্য রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শেবাগ মনে করেন ওপেনারদের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে দেওয়া হলেও লাভ হবে।

টানা পরাজ্যের ফলে কলকাতার প্লে-অফে ওঠা এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, আর মাঠের ধারাবাহিক ব্যর্থতার চাপ পড়ছে ম্যানেজমেন্টের ওপর। এখন প্রশ্ন হল—শেবাগের মতো সাবেক সদস্যদের দেওয়া কারিগরি পরামর্শগুলো তারা কি দ্রুত কাজে লাগাবে, নাকি এই আসরটি কলকাতার জন্য একটি কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সংকটেই রয়ে যাবে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে প্লে-অফ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় দিন গুনি করছে নাইট রাইডার্সের ভক্তরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

টানা হারে বিপর্যয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরে টানা খারাপ ফলের কারণে চাপের মুখে পড়েছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। আসরের শুরু থেকে পাঁচটি ম্যাচ খেললেও আজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বাধীন দলটি এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি। মাঠে লড়াইয়ে ধারাবাহিক পরাজয়ে নামাতে নামতে যখন দলটা ক্রান্তিকালীন সংকটে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই এই দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের মুখে এনেছেন ভারতের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান বীরেন্দ্র শেবাগ। তিনি বলেন, গত নিলামে দারুণ দামে দলে আনা অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরুন গ্রিন এখনই কলকাতার জন্য ‘বোজা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত নিলামে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপি খরচ করে গ্রিনকে ভেড়ানো হয়েছিল, যা আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল বিদেশি সংগ্রহ হিসেবে ধরা হয়। সেই বাজি এখন পর্যন্ত ফলই আনতে পারেনি। পাঁচটি ম্যাচে তিনি ব্যাট করে করেছেন মাত্র ৫৬ রান, বল হাতে নিয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। পিঠের চোটের কারণে প্রথম তিন ম্যাচে তিনি বোলিং করতেই পারেননি। সর্বশেষ চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে যে ম্যাচে কলকাতা ৩২ রানে হারেছে, সেখানে গ্রিন ২ ওভার বোলিং করে ৩০ রানের বেশি খরচ করে এবং ব্যাট করে কোনো রান না করেই ফিরেছেন — এক কথায় ব্যর্থতা।

ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেবাগ এই ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তকে সরাসরি কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী, যখন দলের পক্ষে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা সম্ভব ছিল, তখনও গ্রিনের মতো একদলীয় নিলামে এত বিপুল টাকা খরচ করা ছিল ভুল। শেবাগ মনে করেন, প্রত্যাশা মতো পারফরম্যান্স না হওয়ায় গ্রিন এখন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য দায়বদ্ধতা— একদিকে তাকে একাদশে রাখলে ফল মেলে না, বাইরে রাখলে প্রশ্ন উঠে কেন এত টাকা খরচ করা হলো। তিনি আরও বলেন, এই ব্যর্থতা স্বীকার করতে লজ্জার কিছু নেই; ম্যানেজমেন্টের উচিত দ্রুত বাস্তবে এই ভুলটি অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত বদলানো।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়ে শেবাগ কৌশলগত পরিবর্তনও প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, আপাতত গ্রিনকে সাইডবেঞ্চে রেখে নিউজিল্যান্ডের ইতিমধ্যেই ভালো ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান টিম সেইফার্টকে একাদশে নেওয়া উচিত — কারণ সেইফার্ট দলের ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে পারবেন। এছাড়া ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন চেয়েছেন: অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানেকে তিন নম্বর, রভম্যান পাওয়েলকে চার নম্বরে খেলানো এবং তরুণ আংক্রিশ রাঘুবংশীকে একটু নিচে নামিয়ে দলের ভারসাম্য রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শেবাগ মনে করেন ওপেনারদের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে দেওয়া হলেও লাভ হবে।

টানা পরাজ্যের ফলে কলকাতার প্লে-অফে ওঠা এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, আর মাঠের ধারাবাহিক ব্যর্থতার চাপ পড়ছে ম্যানেজমেন্টের ওপর। এখন প্রশ্ন হল—শেবাগের মতো সাবেক সদস্যদের দেওয়া কারিগরি পরামর্শগুলো তারা কি দ্রুত কাজে লাগাবে, নাকি এই আসরটি কলকাতার জন্য একটি কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সংকটেই রয়ে যাবে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে প্লে-অফ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় দিন গুনি করছে নাইট রাইডার্সের ভক্তরা।