০৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে। রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজন করা সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সভার সঞ্চালক ছিলেন অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের চুক্তি কেবল বাণিজ্যের সীমাবদ্ধ বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন নীতিনির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপের পথ খুলে দেবে। যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ও লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বাজারে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির চাপ বাড়বে। এমনকি আমরা যেসব পণ্য কম দামে অন্য উৎস থেকে পেতে পারি, সেগুলো নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে আমদানি করতে বাধ্য হতে পারি—এতে দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক ব্যয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক বাজারব্যবস্থা বিকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্তাবলীর কারণে স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত হবে। কোন দেশ থেকে কী কিনব, প্রতিরক্ষাসামগ্রী কোথা থেকে সংগ্রহ করব—এ ধরনের নীতিমালা সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে বহির্বিশ্বের স্বার্থ ও নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদ। ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, চুক্তিটি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে যে সক্ষমতা গড়ে উঠেছে, তা মোটেই বানচাল করা উচিত নয়—কিন্তু কপিরাইট ও পেটেন্ট সম্পর্কিত কড়া শর্ত আরোপ হলে স্থানীয় কোম্পানিগুলো সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এ চুক্তি স্থানীয় শিল্প ও পোল্ট্রি খাতকে ধসে ফেলবে এবং গরীব-অসহায় মানুষের রুটি-রুজি ঝুঁকিতে ফেলবে। তিনি বলেন, এমন জনস্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকতে পারে না এবং বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা অনুধাবন করা উচিত; জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না মার্কিন তাবেদারি করে।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় উদ্যোগের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারকে জনগণের স্বার্থভিত্তিক নীতিকথা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে। রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজন করা সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সভার সঞ্চালক ছিলেন অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের চুক্তি কেবল বাণিজ্যের সীমাবদ্ধ বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন নীতিনির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপের পথ খুলে দেবে। যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ও লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বাজারে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির চাপ বাড়বে। এমনকি আমরা যেসব পণ্য কম দামে অন্য উৎস থেকে পেতে পারি, সেগুলো নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে আমদানি করতে বাধ্য হতে পারি—এতে দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক ব্যয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক বাজারব্যবস্থা বিকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্তাবলীর কারণে স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত হবে। কোন দেশ থেকে কী কিনব, প্রতিরক্ষাসামগ্রী কোথা থেকে সংগ্রহ করব—এ ধরনের নীতিমালা সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে বহির্বিশ্বের স্বার্থ ও নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদ। ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, চুক্তিটি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে যে সক্ষমতা গড়ে উঠেছে, তা মোটেই বানচাল করা উচিত নয়—কিন্তু কপিরাইট ও পেটেন্ট সম্পর্কিত কড়া শর্ত আরোপ হলে স্থানীয় কোম্পানিগুলো সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এ চুক্তি স্থানীয় শিল্প ও পোল্ট্রি খাতকে ধসে ফেলবে এবং গরীব-অসহায় মানুষের রুটি-রুজি ঝুঁকিতে ফেলবে। তিনি বলেন, এমন জনস্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকতে পারে না এবং বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা অনুধাবন করা উচিত; জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না মার্কিন তাবেদারি করে।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় উদ্যোগের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারকে জনগণের স্বার্থভিত্তিক নীতিকথা গ্রহণের আহ্বান জানান।