আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে দেশের ছয়টি বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় কালবৈশাখী ও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়া অঞ্চলগুলোতে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০–৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো বায়ু বয়ে যেতে পারে এবং বৃষ্টি বা বজ্রসহ মেঘলা আকাশ দেখা দিতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫–৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এইসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শনিবার রাতে বলেন, “যদি কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্রতা বেশি হয়, তাহলে ফসল, পরিষেবা-পরিকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্যহীন ক্ষতি হতে পারে। ভারী বর্ষণ বা শিলাবৃষ্টির সময়ও ভিন্ন ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।” তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে যে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো ও বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং নানামাত্রায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
তাপমাত্রা সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা ১–৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে; রাতের তাপমাত্রাও সেই তিন বিভাগে সামান্য হ্রাস পেতে পারে। দেশের বাকী অংশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার প্রত্যাশা।
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহী ও রাঙামাটিতে ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাঙামাটিতে ২১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৫ মিলিমিটার; অন্যান্য স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি।
নদীপথে চলাচলকারী মানুষ, নৌকা-জাহাজের মালিক ও জেলেদের সতর্ক থাকার আহ্বান করা হয়েছে এবং নদীবন্দরগুলোতে নির্ধারিত সংকেত অনুসরণ করে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। আবার যারা বাইরে কাজ করেন বা খোলা জায়গায় আছেন, তারা হঠাৎ ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎ থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা রাখবেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























