সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে সুপেয় পানির দাবিতে বিশেষ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ম্যারাথন ‘রান ফর ওয়াটার-২.০’। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ছয়টায় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজার থেকে শুরু হওয়া প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার লক্ষ্য পথ পরিভ্রমণ করে ঘণ্টাখানেক পর আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে এ ম্যারাথন শেষ হয়।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আটশ’—না, মূল সংবাদে উল্লেখ ছিল দুই শতাধিক—তবে এখানে দুই শতাধিক তরুণ-তরুণী ও পরিবেশকর্মী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা মাটির কলস হাতে নিয়ে সমুদ্রতীরবর্তী জনপদের মানুষদের পানি সংগ্রহের কষ্ট ও সংকটের ছবি ফুটিয়ে তুলেন। আয়োজনের মাধ্যমে তারা নিরাপদ পানির দাবিকে জনমানসে তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে রেখেছেন।
এই কর্মসূচি স্থানীয় যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম আয়োজন করে; বাস্তবায়নে সহযোগিতায় ছিল একশনএইড বাংলাদেশ। পাশাপাশি দেশের ৩০-এর অধিক যুব সংগঠন ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয়।
ম্যায়ারথনের ফলাফলে গাবুরার জি.কে। সাব্বির হোসেন প্রথম স্থান অর্জন করেন। দ্বিতীয় হন বুড়িগোয়ালিনীর সাগর হোসেন এবং তৃতীয় স্থান জিতে নেন সাতক্ষীরা সদরের ওয়াছিমুল ইসলাম তপু।
ম্যারাথন শেষে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে একশনএইড বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজার (ইয়ুথ অ্যান্ড জাস্ট সোসাইটি) মুসতাহিদ জামি, ডেপুটি ম্যানেজার (পার্টনারশিপ ও প্রোগ্রাম) আরিফ সিদ্দিকী, সিডোর প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ শাহিন আলম, বাধন সংস্থার প্রতিনিধি শেখ ইমরান এবং এসসিএফ-এর সহকারী নির্বাহী পরিচালক হাবিবুল্ল্যাহ আল মামুন বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, উপকূলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামা এবং ঘূর্ণিঝড়-বিধ্বস্ত জলোচ্ছ্বাসের কারণে এলাকাবাসী তীব্র পানির সংকটে ভুগছেন। তাই দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম বলেন, ‘এই দৌড়ের মাধ্যমে আমরা স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বাড়াতে চাই এবং আশা করছি জাতীয় পর্যায়েও সুপেয় পানির সংকটের বিষয়ে গুরুত্ব সৃষ্টি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও উপকূলীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত; অনেক নারী-পুরুষ দীর্ঘ দূরত্ব পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহ করেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে পানি কিনে ব্যবহার করেন—এই বাস্তবতা তুলে ধরতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’
অংশগ্রহণকারীদের হাতে মাটির কলস থাকাটা ছিল একটি চিত্রাত্মক প্রতিবাদ; সেটি দেখিয়ে দেয় প্রতিদিন অনেক মানুষ কিভাবে নিরাপদ পানি পেতে সংগ্রাম করছেন। আয়োজকরা বলছেন, এমন কর্মসূচি শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়—এটি উপকূলীয় জনপদের পানির অধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর জাগরণ তৈরির একটি কার্যকর ধরণ।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























