০২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

ভালুকায় পরিবেশদূষণে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ কারখানার ড্রেন লাইন বন্ধ

ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ নামের একটি কারখানার বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযোগ অনুসারে কারখানাটি ছাড়পত্রের শর্ত অমান্য করে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালেই ড্রেন বন্ধ করা হয়।

পরিদর্শন ও স্থানীয় অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আশপাশের ব্যক্তি-মালিকানাধীন কৃষিজমিতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলে আসছিল। অবৈধভাবে স্থাপিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা দিয়ে শিল্প বর্জ্য সরাসরি ফসলি জমিতে প্রবাহিত হওয়ায় পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে আশেপাশের লোকজন অভিযোগ করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরে তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে দেয় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া এবং কৃষকদের পক্ষে প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, প্রায় ১৬–১৭ বছর ধরে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও হ্যারি ফ্যাশন লি. এর অবৈধ বর্জ্যে ৩৩৫.৭৪ একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং এই ক্ষতি সরকারি তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দ্রুত ক্ষতিপূরণ বিতরণ এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ক্ষতিকর ডায়িং ইউনিট বন্ধ বা স্থানান্তরের জোর দাবি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাড়পত্রে বলা ছিল অপরিশোধিত তরল বর্জ্য এবং ডমেস্টিক বর্জ্য নির্ধারিত স্টিল পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিষ্কাশন করতে হবে; কিন্তু কারখানাটি তা অনুসরণ করেনি এবং আশপাশের ব্যক্তি-মালিকানাধীন জমিতে বর্জ্য ফেলে। ফলে উপজেলা প্রশাসনকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ভালুকায় পরিবেশদূষণে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ কারখানার ড্রেন লাইন বন্ধ

ভালুকায় পরিবেশদূষণে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ কারখানার ড্রেন লাইন বন্ধ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ নামের একটি কারখানার বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযোগ অনুসারে কারখানাটি ছাড়পত্রের শর্ত অমান্য করে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালেই ড্রেন বন্ধ করা হয়।

পরিদর্শন ও স্থানীয় অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আশপাশের ব্যক্তি-মালিকানাধীন কৃষিজমিতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলে আসছিল। অবৈধভাবে স্থাপিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা দিয়ে শিল্প বর্জ্য সরাসরি ফসলি জমিতে প্রবাহিত হওয়ায় পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে আশেপাশের লোকজন অভিযোগ করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরে তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে দেয় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া এবং কৃষকদের পক্ষে প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, প্রায় ১৬–১৭ বছর ধরে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও হ্যারি ফ্যাশন লি. এর অবৈধ বর্জ্যে ৩৩৫.৭৪ একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং এই ক্ষতি সরকারি তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দ্রুত ক্ষতিপূরণ বিতরণ এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ক্ষতিকর ডায়িং ইউনিট বন্ধ বা স্থানান্তরের জোর দাবি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাড়পত্রে বলা ছিল অপরিশোধিত তরল বর্জ্য এবং ডমেস্টিক বর্জ্য নির্ধারিত স্টিল পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিষ্কাশন করতে হবে; কিন্তু কারখানাটি তা অনুসরণ করেনি এবং আশপাশের ব্যক্তি-মালিকানাধীন জমিতে বর্জ্য ফেলে। ফলে উপজেলা প্রশাসনকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।