০৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

হরমুজ প্রণালীতে একদিনে ৩৭ জাহাজ পার, নতুন রেকর্ড

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন রেকর্ড দেখা গেছে। সমুদ্র পরিবহন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে এই প্রণালী দিয়ে ৪০টিরও বেশি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে; এর মধ্যে শুধু শনিবারই ৩৭টি জাহাজ চলাচল করেছে।

তাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর একদিনে এত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল গত ১৪ এপ্রিলের ১৬টি জাহাজ। এছাড়া ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধ ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত আরও আটটি জাহাজ এটি পেরোতে সক্ষম হয়।

অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রথমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন নৌ-অবরোধ বজায় রাখবে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা ঘোষণা দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আবারও প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়েছে। আইআরজিসি জাহাজ মালিকদের মার্কিন নির্দেশনা মানতে না বলে শুধুমাত্র ইরানের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করে — ফলে এ রুটে কোনরকম বিঘ্ন বিশ্বের জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক রেকর্ড চলাচল ও রাজনৈতিক উত্তেজনা মিলিয়ে আগামীদিনে ভূ-রাজনীতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রণালীর পরিস্থিতি কি রকম হবে— সেটাই এখন নজর কাড়ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হরমুজ প্রণালীতে একদিনে ৩৭ জাহাজ পার, নতুন রেকর্ড

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন রেকর্ড দেখা গেছে। সমুদ্র পরিবহন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে এই প্রণালী দিয়ে ৪০টিরও বেশি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে; এর মধ্যে শুধু শনিবারই ৩৭টি জাহাজ চলাচল করেছে।

তাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর একদিনে এত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল গত ১৪ এপ্রিলের ১৬টি জাহাজ। এছাড়া ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধ ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত আরও আটটি জাহাজ এটি পেরোতে সক্ষম হয়।

অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রথমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন নৌ-অবরোধ বজায় রাখবে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা ঘোষণা দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আবারও প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়েছে। আইআরজিসি জাহাজ মালিকদের মার্কিন নির্দেশনা মানতে না বলে শুধুমাত্র ইরানের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করে — ফলে এ রুটে কোনরকম বিঘ্ন বিশ্বের জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক রেকর্ড চলাচল ও রাজনৈতিক উত্তেজনা মিলিয়ে আগামীদিনে ভূ-রাজনীতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রণালীর পরিস্থিতি কি রকম হবে— সেটাই এখন নজর কাড়ছে।