০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নওগাঁয় জমিজমা লোভে একই পরিবারের চারজন গলাকেটে হত্যা; দুই ভাগনে ও দুলাভাই গ্রেপ্তার

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চার ব্যক্তি গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হাবিবুর রহমানের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম (৩০), শহিদুলের ছেলে শাহিন হোসেন ও হাবিবুরের ভাগনে সবুজ রানা (২০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনই একই গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পেছনে মূল কারণ ছিল সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ। নিহতের বাবা নমির উদ্দিন তার ১৭ বিঘা জমির মধ্যে বসতভিটাসহ ১৩ বিঘা ছেলে হাবিবুরকে লিখে দেন এবং বাকি জমি মেয়েদের নিকট হস্তান্তর করেন। হাবিবুরকে বড় অঙ্কের জমি দেয়ায় বোন, ভগ্নীপুরুষ ও ভাগনেদের সঙ্গে তার বিবাদ শুরু হয়।

পুলিশ বলছে, জমিজমা নিয়ে চলমান তর্কের জেরে শহিদুল, তার ছেলে শাহিন ও সবার মধ্যে থাকা সবুজ রানা হত্যা পরিকল্পনা করে। গত সোমবার বিকেলে হাবিবুর বাজারে গরু দেখতে যান; পরে বাড়ি ফিরেন। রাত আটটায় পরিকল্পিতভাবে হাবিবুরের বাড়িতে এসে তারা পরিবারের সদস্যদের একত্রে খাওয়ানো ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আক্রমণ করে।

পুলিশের বর্ণনায়, এক পর্যায়ে বাড়ির এক ঘরে লুকিয়ে রাখা এক হন্তাকর্মী দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘুমানো অবস্থায় হাবিবুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা যখন বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর ছাড়েন, তখন তার মাথায় হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে পড়িয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে দম্পতির দুই সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়াকে নিয়েও একইভাবে হত্যা করা হয়।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ গত মঙ্গলবার নিহতের ভগ্নে সবুজ, তার বাবা নমির উদ্দিনসহ পরিবারের কয়েকজনকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ হত্যাকাণ্ড স্বীকার করেন; তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রামের একটি খড়ের পালায় লুকানো অবস্থায় ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে আরও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের অনুসন্ধানে শহিদুল ও সবুজ স্বীকার করেছেন যে, সবাইকে হত্যা করলে হাবিবুরের নামে থাকা সম্পত্তির উত্তরাধিকার তারা ভাগাভাগি করতে পারবে—এই লক্ষ্যে তারা এই ভয়াবহ অপরাধটি সংঘটিত করে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, সহকারী সুপার আব্দুল আল মামুন শাওন, ডিবি কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব ও নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার ধরণ ও তদন্তের অগ্রগতিসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, জানায় পুলিশ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নওগাঁয় জমিজমা লোভে একই পরিবারের চারজন গলাকেটে হত্যা; দুই ভাগনে ও দুলাভাই গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চার ব্যক্তি গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হাবিবুর রহমানের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম (৩০), শহিদুলের ছেলে শাহিন হোসেন ও হাবিবুরের ভাগনে সবুজ রানা (২০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনই একই গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পেছনে মূল কারণ ছিল সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ। নিহতের বাবা নমির উদ্দিন তার ১৭ বিঘা জমির মধ্যে বসতভিটাসহ ১৩ বিঘা ছেলে হাবিবুরকে লিখে দেন এবং বাকি জমি মেয়েদের নিকট হস্তান্তর করেন। হাবিবুরকে বড় অঙ্কের জমি দেয়ায় বোন, ভগ্নীপুরুষ ও ভাগনেদের সঙ্গে তার বিবাদ শুরু হয়।

পুলিশ বলছে, জমিজমা নিয়ে চলমান তর্কের জেরে শহিদুল, তার ছেলে শাহিন ও সবার মধ্যে থাকা সবুজ রানা হত্যা পরিকল্পনা করে। গত সোমবার বিকেলে হাবিবুর বাজারে গরু দেখতে যান; পরে বাড়ি ফিরেন। রাত আটটায় পরিকল্পিতভাবে হাবিবুরের বাড়িতে এসে তারা পরিবারের সদস্যদের একত্রে খাওয়ানো ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আক্রমণ করে।

পুলিশের বর্ণনায়, এক পর্যায়ে বাড়ির এক ঘরে লুকিয়ে রাখা এক হন্তাকর্মী দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘুমানো অবস্থায় হাবিবুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা যখন বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর ছাড়েন, তখন তার মাথায় হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে পড়িয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে দম্পতির দুই সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়াকে নিয়েও একইভাবে হত্যা করা হয়।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ গত মঙ্গলবার নিহতের ভগ্নে সবুজ, তার বাবা নমির উদ্দিনসহ পরিবারের কয়েকজনকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ হত্যাকাণ্ড স্বীকার করেন; তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রামের একটি খড়ের পালায় লুকানো অবস্থায় ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে আরও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের অনুসন্ধানে শহিদুল ও সবুজ স্বীকার করেছেন যে, সবাইকে হত্যা করলে হাবিবুরের নামে থাকা সম্পত্তির উত্তরাধিকার তারা ভাগাভাগি করতে পারবে—এই লক্ষ্যে তারা এই ভয়াবহ অপরাধটি সংঘটিত করে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, সহকারী সুপার আব্দুল আল মামুন শাওন, ডিবি কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব ও নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার ধরণ ও তদন্তের অগ্রগতিসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, জানায় পুলিশ।