ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৭টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রথম দফার বিধানসভা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটারের উপস্থিতি ছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ; সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরে, যেখানে ভোটার উপস্থিতি ৯৩.১২ শতাংশ ছিল।
এই প্রথম দফায় রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছে। নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১,৪৭৮ জন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ১৬৭ জন। কিছু আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা থাকায় প্রায় ৮০টি আসনকে ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এসব আসনে একযোগে ভোটার রয়েছেন সাড়ে তিন কোটিরও বেশি। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল; তবে রাজ্যের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
ভোর থেকেই প্রচণ্ড রোদ ও গরমের মধ্যেও ভোটাররা বুথের বাইরে লম্বা সারি তৈরি করে বসেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা নিরীক্ষণ করেন এবং ভোটারদের পরিচয়পত্র দেখে বুথে প্রবেশ নিশ্চিত করেন। তবে সকালে কিছু কেন্দ্রে ইভিএমের ত্রুটির ফলে ভোটগ্রহণ শুরু হতে বিলম্ব ঘটে। ভোটগ্রহণ শুরুর দিকেই মুর্শিদাবাদের রানীনগর, ঝাড়গ্রামের হারদা রামকৃষ্ণ উচ্চবিদ্যালয় ও বীরভূমের সিউরি কেন্দ্রে দেরি হয়। এছাড়া স্থানীয় কিছু বুথে—কান্দি (বুথ ১৩০), শমসেরগঞ্জ (বুথ ২১২) এবং শিলিগুড়ির মার্গারেট স্কুলের বুথ (২৬/৩১)—ইভিএম জটিলতার অভিযোগ উঠে। এই বিলম্বের কারণ নির্বাচন কমিশন এখনও স্পষ্ট করে প্রকাশ করেনি।
ভোটের কাঠামোগত অবস্থা ও আসনের ভিত্তিতে সংখ্যাগত তথ্য অনুযায়ী পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে ভোটারের সংখ্যা সর্বোচ্চ—প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার; অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে ভোটারের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম—প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার। প্রবাসী হিসেবে রয়েছে ৪৩ জন ভোটার। কোন কোনও আসনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী—কোচবিহার দক্ষিণ, করনদিঘি ও ইটাহার প্রতিটি আসনে ১৫ জন প্রার্থীসহ প্রতিযোগিতা রয়েছে; অপরদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৫ জন।
নির্বাচন চলাকালীন কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন বুথে জটলা, ভোট দিতে বাধা, ভোটনারী বিরোধ ও যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে এক পর্যায়ে বিরুদ্ধপাতীয় পরিবেশ সৃষ্টি হলে, সেখানে বিজেপির এক প্রার্থীর ওপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে; এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন 해당 জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ভোটপর্যবেক্ষণ চালিয়েছে।
রাজ্যটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণযোগ্য: গতবৃহস্পতিবারের এই প্রথম দফা ভোটের আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪ আসনের মধ্যে ২১৫টিতে জয় লাভ করেছিল এবং বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। এবারের নির্বাচন তৃণমূল ও বিজেপি—উভয়পক্ষেরই জন্যই গুরুত্বপূর্ণ; কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা পশ্চিমবঙ্গে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং তা নির্বাচনী মঞ্চকে আরও তীব্র করেছে।
সংক্ষেপে, প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ব্যাপক ভোটগ্রহণের মধ্যেই শেষ হলেও কিছু কেন্দ্রে ইভিএম সমস্যা ও বিক্ষিপ্ত সহিংসতার খবর নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজনাময় করে তুলেছে। দ্বিতীয় দফার ভোট ও ৪ মে ঘোষিত ফলাফল রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চিত্র নির্ধারণ করবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























