১২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, চার নদী বিপৎসীমার ওপর সাংসদে অসুস্থ এমপি রবিউল বাশারের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রকে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক জেলায় বন্যার শঙ্কা রোসাটম মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য ময়মনসিংহ-সিলেটে রাত ১টার মধ্যে ঘণ্টায় ৬০–৮০ কিমিতে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন প্রার্থীর বৈধতা ঘোষণা, তালিকা প্রকাশ

আইপিএলে বিরাট কোহলি প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁলেন

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচে বিরাট কোহলি নতুন ইতিহাস লিখেছেন। দিল্লির স্কোর মাত্র ৭৫ রানে অলআউট হওয়ার পর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোহলির নেতৃত্বে আরেকটি জয়ের দিনে তিনি আইপিএলের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যক্তিগতভাবে অপরাজিত ২৩ রান থেকে দলের দশ উইকেটের নয়টি না করে জেতাতে থাকা সেই ইনিংসেই তিনি এই কীর্তি গড়েন।

কোহলির জন্য এই মাইলফলকটিতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে স্পিনার অক্ষর প্যাটেলের দেওয়া একটি এক রানের সাহায্যে তিনি ৯০০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করেন। মাঠে নেমার আগে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৮,৮৯৩ বা ৮ হাজার ৯৮৯ বলে উল্লেখিত রানের কাছাকাছি, আর এই এক ছোট ইনিংসেই রেকর্ডের তালিকায় আরেকটা স্বর্ণালি নাম লেখানো হল। বর্তমানে তাঁর মোট রানসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯,০১২ হাতে নেওয়া রানের হিসেবে।

আইপিএলে কোহলি কেবল মোট রানেই নয়, ধারাবাহিকতায়ও অন্যদের থেকে এগিয়ে আছেন। তিনি আইপিএল ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ হাজার, ৭ হাজার ও ৮ হাজার রানের মাইলফলকও আগে পৌঁছেছিলেন। মর্যাদার এই তালিকায় বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রোহিত শর্মার সংগ্রহ ৭,১৮৩; অর্থাৎ কোহলি তার চেয়ে ১,৮২৯ রান এগিয়ে। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ২০২৪ সালে অবসর নেওয়া শিখর ধাওয়ান, যার সংগ্রহ ৬,৭৬৯। শীর্ষ পাঁচে ডেভিড ওয়ার্নার ও লোকেশ রাহুলের নামও রয়েছে।

কেবল রানই নয়, অন্যান্য ব্যাটিং পরিসংখ্যানেও কোহলির আধিপত্য স্পষ্ট। আইপিএলে তিনি সর্বোচ্চ ৮টি সেঞ্চুরি এবং ৬৬টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক। বাউন্ডারির হিসাবেই তিনি শীর্ষে আছেন—৮০৮টি চার। ছক্কায় তিনি ৩০৫টি হাঁকিয়েছেন; এই তালিকায় রোহিত শর্মা (৩১০) সামান্য এগিয়ে রয়েছেন। শীর্ষ পাঁচের মধ্যে কেবল এই দুজনেরই ৩০০-এর বেশি ছক্কা রয়েছে। ধারাবাহিকতা, কৌশল ও ফিটনেসই তাকে এই পুনরাবৃত্ত সফলতার মূল শক্তি হিসেবে দেখা হয়।

চলমান আসরেও কোহলি অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আট ইনিংসে ৩৫১ রান নিয়ে তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন; শীর্ষে অবসর-অনন্ত অভিষেক শর্মা ৩৮০ রানে। তবু ব্যাটিং গড়ের দিক থেকে কোহলি শীর্ষ পাঁচের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে—এবারের আসরে তাঁর গড় ৫৮.৫০। বয়স বাড়লেও মাঠে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং এবং অনবদ্য ফিটনেস ভক্তদের মধ্যে এখনও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু।

এই মাইলফলক শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, আইপিএলের দীর্ঘ ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা—একজন ব্যাটসম্যানের ধারাবাহিকতা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং টুর্নামেন্টের প্রতি অব্যাহত প্রেমের প্রতীক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, চার নদী বিপৎসীমার ওপর

আইপিএলে বিরাট কোহলি প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁলেন

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচে বিরাট কোহলি নতুন ইতিহাস লিখেছেন। দিল্লির স্কোর মাত্র ৭৫ রানে অলআউট হওয়ার পর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোহলির নেতৃত্বে আরেকটি জয়ের দিনে তিনি আইপিএলের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যক্তিগতভাবে অপরাজিত ২৩ রান থেকে দলের দশ উইকেটের নয়টি না করে জেতাতে থাকা সেই ইনিংসেই তিনি এই কীর্তি গড়েন।

কোহলির জন্য এই মাইলফলকটিতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে স্পিনার অক্ষর প্যাটেলের দেওয়া একটি এক রানের সাহায্যে তিনি ৯০০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করেন। মাঠে নেমার আগে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৮,৮৯৩ বা ৮ হাজার ৯৮৯ বলে উল্লেখিত রানের কাছাকাছি, আর এই এক ছোট ইনিংসেই রেকর্ডের তালিকায় আরেকটা স্বর্ণালি নাম লেখানো হল। বর্তমানে তাঁর মোট রানসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯,০১২ হাতে নেওয়া রানের হিসেবে।

আইপিএলে কোহলি কেবল মোট রানেই নয়, ধারাবাহিকতায়ও অন্যদের থেকে এগিয়ে আছেন। তিনি আইপিএল ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ হাজার, ৭ হাজার ও ৮ হাজার রানের মাইলফলকও আগে পৌঁছেছিলেন। মর্যাদার এই তালিকায় বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রোহিত শর্মার সংগ্রহ ৭,১৮৩; অর্থাৎ কোহলি তার চেয়ে ১,৮২৯ রান এগিয়ে। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ২০২৪ সালে অবসর নেওয়া শিখর ধাওয়ান, যার সংগ্রহ ৬,৭৬৯। শীর্ষ পাঁচে ডেভিড ওয়ার্নার ও লোকেশ রাহুলের নামও রয়েছে।

কেবল রানই নয়, অন্যান্য ব্যাটিং পরিসংখ্যানেও কোহলির আধিপত্য স্পষ্ট। আইপিএলে তিনি সর্বোচ্চ ৮টি সেঞ্চুরি এবং ৬৬টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক। বাউন্ডারির হিসাবেই তিনি শীর্ষে আছেন—৮০৮টি চার। ছক্কায় তিনি ৩০৫টি হাঁকিয়েছেন; এই তালিকায় রোহিত শর্মা (৩১০) সামান্য এগিয়ে রয়েছেন। শীর্ষ পাঁচের মধ্যে কেবল এই দুজনেরই ৩০০-এর বেশি ছক্কা রয়েছে। ধারাবাহিকতা, কৌশল ও ফিটনেসই তাকে এই পুনরাবৃত্ত সফলতার মূল শক্তি হিসেবে দেখা হয়।

চলমান আসরেও কোহলি অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আট ইনিংসে ৩৫১ রান নিয়ে তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন; শীর্ষে অবসর-অনন্ত অভিষেক শর্মা ৩৮০ রানে। তবু ব্যাটিং গড়ের দিক থেকে কোহলি শীর্ষ পাঁচের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে—এবারের আসরে তাঁর গড় ৫৮.৫০। বয়স বাড়লেও মাঠে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং এবং অনবদ্য ফিটনেস ভক্তদের মধ্যে এখনও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু।

এই মাইলফলক শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, আইপিএলের দীর্ঘ ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা—একজন ব্যাটসম্যানের ধারাবাহিকতা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং টুর্নামেন্টের প্রতি অব্যাহত প্রেমের প্রতীক।