রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ও আইপিএল ভক্তদের জন্য স্মরণীয় এক দিনে বিরাট কোহলি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে টিমের চার নম্বর উইকেটে না থাকলেও ভয়ঙ্কর এক জয়ের দিনে তিনি আইপিএলের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এই ম্যাচটি ৯ উইকেটে জিতে নেয়, আর কোহলি অপরাজিত ২৩ রানে থেকে দলের জয়ের পথে ইনিংসটি শেষ করেন।
কোহলির জন্য ৯ হাজারি ক্লাবের দরজা খুলতে বেশি সংগ্রাম করতে হয়নি—দল যখন ছোট লক্ষ্য তাড়া করছিল, তখন তাঁর প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই স্পিনার অক্ষর প্যাটেলের শেষ বলে এক রান নিয়ে তিনি ঐতিহাসিক এই উচ্চতায় পৌঁছে যান। মাঠে নেমার সময় তার আইপিএল মোট ছিল ৮,৯৮৯ রান; এই ইনিংসে অপরাজিত ২৩ যোগ হয়ে বর্তমান মোট হয়েছে ৯,০১২।
এটি শুধু আরেকটি রেকর্ড নয়, বরং ধারাবাহিকতার পুরস্কার। কোহলি আগেও আইপিএল ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ হাজার, ৭ হাজার এবং ৮ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে একই দলের হয়ে নিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণে তিনি আইপিএলকে নিজেরই আঙিনায় পরিণত করেছেন।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতায় কোহলির দৌড় অন্যদের থেকে অনেকটা এগিয়ে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিনি অনেক দূর এগিয়ে আছেন; দ্বিতীয় অবস্থান থাকা রোহিত শর্মার সংগ্রহ ৭,১৮৩ রান, যা কোহলির থেকে ১,৮২৯ রান কম। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ২০২৪ সালে অবসর নেওয়া শিখর ধাওয়ান (৬,৭৬৯) এবং শীর্ষ পাঁচে রয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার ও লোকেশ রাহুল।
মোট রান ছাড়াও কোহলির আধিপত্য অন্য ব্যাটিং পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। আইপিএলে তাঁর শীর্ষ ৮টি সেঞ্চুরি ও ৬৬টি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে। বাউন্ডারির সংখ্যা ৮০৮টি চার দিয়ে শীর্ষে আছেন তিনি। ছক্কায় যদিও রোহিত শর্মা (৩১০) সামান্য এগিয়ে, কোহলি করেছেন ৩০৫টি ছক্কা—শীর্ষ পাঁচের মধ্যে কেবল এই দুইজনেরই ৩০০-এর বেশি ছক্কা আছে। ধারাবাহিকতা, মানসিকতা ও আগ্রাসী ব্যাটিং শৈলীই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
চলমান আসরে কোহলি অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে আছেন। ৮ ইনিংসে ৩৫১ রান নিয়ে বর্তমানে তিনি রানের তালিকায় চতুর্থ। এই তালিকার নেতৃত্বে আছেন অভিষেক শর্মা, যে ৩৮০ রান সংগ্রহ করেছেন। তবু ব্যাটিং গড়ের দিক থেকে কোহলিই সেরা—শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে তাঁর গড় সবচেয়ে বেশি, ৫৮.৫০। বয়স বাড়লেও মাঠে তার আগ্রাসী মনোবৃত্তি ও ফিটনেস ভক্তদের মুগ্ধ করে চলেছে।
এই কীর্তি শুধু সংখ্যার কথা নয়—কোহলির ধারাবাহিকতা, ম্যাচ পড়ার দক্ষতা ও টিমের প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্যকে আরও উজ্জ্বল করে। আইপিএলের ইতিহাসে তার নামটি দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























