১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গান, স্লোগান ও মিছিলে মে দিবস পালিত—শ্রমজীবীরা ন্যায্য অধিকার দাবি করলেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী জালিয়াতি ও সিন্ডিকেটে আটকে পড়েছে সৌরবিদ্যুৎ খাত শফিকুল আলমের ভাই আবু নছরকে বিজ্ঞান জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে বদলি শামীমা পারভীন ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী পুলিশ সুপার শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরবরাহ সংকটে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন হবে সরকার বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে

ভারত প্রথমবার ১১ দেশ নিয়ে বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া ‘প্রগতী’

ভারত প্রথমবারের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় এক ডজন দেশকে নিয়ে বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া ‘‘প্রগতী’’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। ১৩ দিনের এই মহড়া চলবে ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এবং তত্ত্বাবধান করবে ভারতীয় সেনাবাহিনী। মহড়ার অবস্থান হিসেবে মেঘালয়ের উমরোইতে অবস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নাম করা হয়েছে।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা, যৌথ অপারেশন দক্ষতা বাড়ানো এবং পারস্পরিক আস্থাকে মজবুত করা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত জনসংযোগ পরিদপ্তর (ADGPI) জানিয়েছে, মহড়ার মূল ফোকাস থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিদ্রোহ দমন সংক্রান্ত অপারেশন। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন ও সমন্বিত অপারেশনাল কাঠামো গড়ে তোলার অংশও হবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে এশিয়ার ১১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে; তালিকায় রয়েছে লাওস, মিয়ানমার, (তালিকায় একটি অননুমোদিত নাম ‘সিসিলি’ দেখানো হয়েছে যা সম্ভবত টাইপো বা ভুল), শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভুটান। তবে প্রতিবেশী বাংলাদেশকে এই মহড়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যা নিয়ে কূটনৈতিক এবং অঞ্চলে সামরিক-নীতি সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠছে।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘প্রগতী’’ কেবল একটি সামরিক মহড়া নয়; এটি ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ—বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এই মহড়ার মাধ্যমে ভারত চাইছে বহুদেশীয় প্ল্যাটফর্মে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত কর্মকৌশল ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে।

মহড়ার সময়ে একটি দুই দিনের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজনও থাকবে, যেখানে ভারত নিজস্ব উৎপাদিত সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উপস্থাপন করবে। এ ধরনের প্রদর্শনী ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে টেকসই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি ঘোষণায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এবং মহড়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বিশদ প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামরিক মহড়া ও প্রতিরক্ষা কূটনীতি নিয়ে অনার্সপর্ধক প্রশ্নাবলী, অঞ্চলীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আগাম কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর ভবিষ্যতে আরও আলোচনা চলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গান, স্লোগান ও মিছিলে মে দিবস পালিত—শ্রমজীবীরা ন্যায্য অধিকার দাবি করলেন

ভারত প্রথমবার ১১ দেশ নিয়ে বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া ‘প্রগতী’

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ভারত প্রথমবারের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় এক ডজন দেশকে নিয়ে বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া ‘‘প্রগতী’’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। ১৩ দিনের এই মহড়া চলবে ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এবং তত্ত্বাবধান করবে ভারতীয় সেনাবাহিনী। মহড়ার অবস্থান হিসেবে মেঘালয়ের উমরোইতে অবস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নাম করা হয়েছে।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা, যৌথ অপারেশন দক্ষতা বাড়ানো এবং পারস্পরিক আস্থাকে মজবুত করা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত জনসংযোগ পরিদপ্তর (ADGPI) জানিয়েছে, মহড়ার মূল ফোকাস থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিদ্রোহ দমন সংক্রান্ত অপারেশন। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন ও সমন্বিত অপারেশনাল কাঠামো গড়ে তোলার অংশও হবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে এশিয়ার ১১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে; তালিকায় রয়েছে লাওস, মিয়ানমার, (তালিকায় একটি অননুমোদিত নাম ‘সিসিলি’ দেখানো হয়েছে যা সম্ভবত টাইপো বা ভুল), শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভুটান। তবে প্রতিবেশী বাংলাদেশকে এই মহড়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যা নিয়ে কূটনৈতিক এবং অঞ্চলে সামরিক-নীতি সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠছে।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘প্রগতী’’ কেবল একটি সামরিক মহড়া নয়; এটি ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ—বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এই মহড়ার মাধ্যমে ভারত চাইছে বহুদেশীয় প্ল্যাটফর্মে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত কর্মকৌশল ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে।

মহড়ার সময়ে একটি দুই দিনের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজনও থাকবে, যেখানে ভারত নিজস্ব উৎপাদিত সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উপস্থাপন করবে। এ ধরনের প্রদর্শনী ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে টেকসই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি ঘোষণায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এবং মহড়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বিশদ প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামরিক মহড়া ও প্রতিরক্ষা কূটনীতি নিয়ে অনার্সপর্ধক প্রশ্নাবলী, অঞ্চলীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আগাম কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর ভবিষ্যতে আরও আলোচনা চলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।