তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে যে অস্পষ্টতা আছে তা নিরসন করা উচিত। তিনি জানতে চেয়েছেন, জামায়াত কি দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে রাজনীতিতে অংশ নিতে চায়, নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে?
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় নেতা স্বর্গীয় সুনীল গুপ্তের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে তিনি সংসদীয় এক আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘‘পার্লামেন্টে আমাদের বিরোধী দল, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রতিনিধিরা শরিয়াহ কায়েমের কথা বলেছেন। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে ক্ষমতায় এলে তারা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না।’’
মন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি ব্যক্তিগত মন্তব্য করতে চান না; তবে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে চান জামায়াতের প্রকৃত অবস্থান কী—চলতি সংবিধান মেনে রাজনীতি করবে, না কি শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি বললেন, ‘‘এই বিষয়ে তাদের স্পষ্ট স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরা জরুরি।’’
জামায়াতের অতীত ও বর্তমান কার্যক্রমের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী指出 করেন, ‘‘জামায়াতের জন্মলগ্ন থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। মওদুদী সাহেব জন্মলগ্নে যে কথাগুলো বলেছেন — একটি ইসলামী সংবিধান প্রয়োজন — সেই কারণে তারা পাকিস্তান গঠনের সময় বিরোধিতাও করেছিল। পরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামো মেনে নিয়েছিল তারা।’’
মন্ত্রী কিছু সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘এবারের নির্বাচনে দলটি দুজন অমুসলিম প্রার্থীর মনোনয়ন দিয়েছে, যা একটি শুভ লক্ষণ।’’
স্বপন আরও বলেন, ‘‘যে সমাজ বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করে এবং তা সমাজের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে, সেই রাষ্ট্রই বেশি সভ্য ও উন্নত হবে।’’ তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, ‘‘প্রতিটি ধর্মের মূল নির্যাস ও মূল্যবোধ একই রকম; ধর্মচর্চা ও আচার-আচরণ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই মূল্যবোধের সারবস্তুকে ঐক্যবদ্ধভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।’’
স্মরণসভার আয়োজক সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদ; সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নজমুল হক নান্নু প্রমুখ।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
















