০৬:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

গোয়ালন্দে একই পরিবারের চারজনই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মৈজদ্দিন মন্ডলপাড়া গ্রামে একই পরিবারে চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে জরাজীর্ণ ঘরে জীবনযাপন করছে। ভাঙা-চটু টিনের চাল, সাম্প্রতিক আসবাবপত্রের অভাব ও পানি জমে থাকা ঘর—এই বাস্তবতা তাদের প্রতিদিনকে মানবেতর করে তুলেছে।

পরিবারটির সদস্যরা হলেন: মোঃ আতিয়ার মোল্লা (৪২), তাঁর সহধর্মিণী মোছাঃ রহিমা বিবি (৩৯), তাদের কন্যা আশা আক্তার (২০) ও ছেলে মোঃ বাদল মোল্লা (১৬)। সরেজমিনে দেখা গেছে ঘরে মাত্র একটি কাঠের চৌকি ছাড়া তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই। পুরনো ও জং জুকিয়ে যাওয়া টিন চালের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে ঘরের অধিকাংশ অংশে জল জমে থাকে। সংকীর্ণ ওই ঘরে পরিবারের নাবালক সন্তানদের সহ সবাইকে একসাথে থাকতে হয়।

স্থানীয়দের কথায়, আতিয়ার সাধারণ কথাবার্তা বোঝে না বা অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে অক্ষম। পরিবারের বাকি সদস্যদের অবস্থাও প্রায় একই রকম দুর্বলতা নির্দেশ করে।

আতিয়ারের পিতা মোঃ আকবর মোল্লা জানান, আতিয়ার জন্মের সময় থেকেই শ্রবণে কিছুটা সমস্যা ছিল, পরে বোঝা গেল বুদ্ধি-কমতি আছে। ছোটবেলায় মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে কোথাও চলে যেত—অনেকে খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন কিংবা নিজেই ফিরে আসতেন। বড় হয়ে মনে করেছিলেন বিয়ে দিলে হয়ত অবস্থা ঠিক হবে, কিন্তু বিয়ে দেওয়ার পর দেখা যায় করে আনার স্ত্রী থেকেও বেশি বুদ্ধি-কমতি রয়েছে। তাদের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম বলেন, পরিবারের চারজনই কাজের ক্ষেত্রে অযোগ্য মনে হওয়ায় কেউ তাদের চাকরিতে নেওয়ার আগ্রহ দেখায় না। কাজ না থাকায় তারা প্রতিবেশীদের সাহায্য কিম্বা আশ্রয়ের ওপর নির্ভর করে জীবন কেটাচ্ছে।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, তিনি বহু বছর এখানে ইমামতি করার সুবাদে পরিবারটির দুরবস্থা ভালোভাবে দেখেছেন। আতিয়ারের দুই সন্তান ছোটবেলায় মসজিদের পাশেই এসে আরবি শেখার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বুদ্ধি-কমতির কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। মাওলানা বাড়ির ছাদের অবস্থা এবং দারিদ্র্য দেখে মাঝেমধ্যে নিজের খাবার থেকে পরিবেশনও করেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা কামনা করে বলেছেন, পরিবারটিকে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নেওয়া এবং ঘর মেরামতের তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা জরুরি।

প্রতিবন্ধী আতিয়ারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নারগিস পারভীন সহায়তার জন্য যোগাযোগের নম্বর দিয়েছেন—০১৯৫৪১৩৮৪০৬ (বিকাশ পার্সোনাল নাম্বার)।

ইস্যুটি নিয়ে যোগাযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং দ্রুততম সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়াবে। প্রাথমিকভাবে তাদের জরাজীর্ণ ঘরের ওপর নতুন টিন দিয়ে ছাদ মেরামত করা হবে। এছাড়া তিনি স্থানীয় বিত্তবান ও প্রবাসীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এই পরিবারের জরুরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে—বিশেষ করে ঘর মেরামত, নিয়মিত খাদ্যাভাস ও সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা। সরকারি ও সমাজের সহমর্মিতা না গেলে এ মনুষ্যত্বহীন মানবদর্শন চলতেই থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

গোয়ালন্দে একই পরিবারের চারজনই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মৈজদ্দিন মন্ডলপাড়া গ্রামে একই পরিবারে চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে জরাজীর্ণ ঘরে জীবনযাপন করছে। ভাঙা-চটু টিনের চাল, সাম্প্রতিক আসবাবপত্রের অভাব ও পানি জমে থাকা ঘর—এই বাস্তবতা তাদের প্রতিদিনকে মানবেতর করে তুলেছে।

পরিবারটির সদস্যরা হলেন: মোঃ আতিয়ার মোল্লা (৪২), তাঁর সহধর্মিণী মোছাঃ রহিমা বিবি (৩৯), তাদের কন্যা আশা আক্তার (২০) ও ছেলে মোঃ বাদল মোল্লা (১৬)। সরেজমিনে দেখা গেছে ঘরে মাত্র একটি কাঠের চৌকি ছাড়া তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই। পুরনো ও জং জুকিয়ে যাওয়া টিন চালের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে ঘরের অধিকাংশ অংশে জল জমে থাকে। সংকীর্ণ ওই ঘরে পরিবারের নাবালক সন্তানদের সহ সবাইকে একসাথে থাকতে হয়।

স্থানীয়দের কথায়, আতিয়ার সাধারণ কথাবার্তা বোঝে না বা অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে অক্ষম। পরিবারের বাকি সদস্যদের অবস্থাও প্রায় একই রকম দুর্বলতা নির্দেশ করে।

আতিয়ারের পিতা মোঃ আকবর মোল্লা জানান, আতিয়ার জন্মের সময় থেকেই শ্রবণে কিছুটা সমস্যা ছিল, পরে বোঝা গেল বুদ্ধি-কমতি আছে। ছোটবেলায় মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে কোথাও চলে যেত—অনেকে খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন কিংবা নিজেই ফিরে আসতেন। বড় হয়ে মনে করেছিলেন বিয়ে দিলে হয়ত অবস্থা ঠিক হবে, কিন্তু বিয়ে দেওয়ার পর দেখা যায় করে আনার স্ত্রী থেকেও বেশি বুদ্ধি-কমতি রয়েছে। তাদের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম বলেন, পরিবারের চারজনই কাজের ক্ষেত্রে অযোগ্য মনে হওয়ায় কেউ তাদের চাকরিতে নেওয়ার আগ্রহ দেখায় না। কাজ না থাকায় তারা প্রতিবেশীদের সাহায্য কিম্বা আশ্রয়ের ওপর নির্ভর করে জীবন কেটাচ্ছে।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, তিনি বহু বছর এখানে ইমামতি করার সুবাদে পরিবারটির দুরবস্থা ভালোভাবে দেখেছেন। আতিয়ারের দুই সন্তান ছোটবেলায় মসজিদের পাশেই এসে আরবি শেখার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বুদ্ধি-কমতির কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। মাওলানা বাড়ির ছাদের অবস্থা এবং দারিদ্র্য দেখে মাঝেমধ্যে নিজের খাবার থেকে পরিবেশনও করেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা কামনা করে বলেছেন, পরিবারটিকে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নেওয়া এবং ঘর মেরামতের তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা জরুরি।

প্রতিবন্ধী আতিয়ারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নারগিস পারভীন সহায়তার জন্য যোগাযোগের নম্বর দিয়েছেন—০১৯৫৪১৩৮৪০৬ (বিকাশ পার্সোনাল নাম্বার)।

ইস্যুটি নিয়ে যোগাযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং দ্রুততম সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়াবে। প্রাথমিকভাবে তাদের জরাজীর্ণ ঘরের ওপর নতুন টিন দিয়ে ছাদ মেরামত করা হবে। এছাড়া তিনি স্থানীয় বিত্তবান ও প্রবাসীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এই পরিবারের জরুরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে—বিশেষ করে ঘর মেরামত, নিয়মিত খাদ্যাভাস ও সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা। সরকারি ও সমাজের সহমর্মিতা না গেলে এ মনুষ্যত্বহীন মানবদর্শন চলতেই থাকবে।