ইরান ইস্যুতে পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে মার্কিন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জোরালো আলোচনা চালানো হচ্ছে। হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সামরিক ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক বাহিনী থেকে নতুন ও বিস্তারিত একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, বলে কাতারভিত্তিক আলজাজিরা এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস প্রতিবেদন করে।
সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন কারিগরি দিক ও বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বৈঠকে বিশেষত বিমান হামলা, নিক্ষিপ্ত বিশেষ অভিযান ও অন্যান্য সামরিক অপারেশনের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে নিবিড় আলোচনার তথ্য পাওয়া যায়।
মেডিয়া সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে যে, এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির একটি প্রাথমিক চিত্র স্পষ্ট হয়েছে এবং ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরান ইস্যুতে পরবর্তী ধাপে কী ধরনের কঠোর কৌশল নেওয়া হবে, তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে। তেহরান ঘোষণা করেছে যে, কোনো আক্রমণের জবাবে তারা “দীর্ঘস্থায়ী ও বেদনাদায়ক” পাল্টা আঘাত করার জন্য প্রস্তুত। রয়টার্স জানিয়েছে যে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওই দিনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বিশ্বের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবিটিও পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানির সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরানের সংঘাতের দুই মাস অতিবাহিত হলেও হরমুজ প্রণালি এখনো অবরুদ্ধ রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নৌপথ বন্ধ থাকায় জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার আশঙ্কা বাড়ছে। যদিও গত ৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি বলবৎ রয়েছে, স্থায়ী সমাধানের আলোচনা এখনই স্থবির দেখা দেয়। অন্যদিকে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত থাকায় তেহরানও প্রণালিটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড়।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্প নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এখনও অনিশ্চিতেই রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
















