১২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত ৩ মে থেকে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন দিগন্তে প্রথম ধাক্কা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঢাকা-সহ দেশের সব থানাকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএমপি: শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে মে দিবস: নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশে তারেক রহমান ষড়যন্ত্রকারীদের মোক্ষম জবাব দেওয়ার আহ্বান

হুনাইনের জাদুকরী শেষ ওভারে হায়দরাবাদ ফাইনালে

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এক নাটকীয় সন্ধ্যায় নবাগত হায়দরাবাদ কিংস মেন প্রথমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছালো। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে মাত্র ২ রানের ব্যবধানে হারিয়ে মার্নাস লাবুশেনের দল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিল। টুর্নামেন্টের শুরুতে চার ম্যাচ পর পর হারার পর হায়দরাবাদ শেষ আটটির মধ্যে সাতটে জিতে দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখিয়েছে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে হায়দরাবাদ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান করে। ওপেনিংয়ে উসমান খান মাত্র ৩০ বল খেলে ১০ চারসহ ৬১ রানের দারুন উদ্বোধনী ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন ৩৯, সাইম আইয়ুব ৩৮ এবং কুশল পেরেরা ৩৭ করে দলের স্কোর গড়ে তোলেন—সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জিং একটি টার্গেট ছেড়ে দেয় হায়দরাবাদ।

১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামাবাদের মার্ক চাপম্যান ৪৩ ও হায়দার আলি ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন এবং ম্যাচ শেষ দিকে একটি জয়যোগ্য অবস্থান তৈরি করছিল। কিন্তু উত্তেজনা তখনই চরমে ওঠে যখন শেষ দুই ওভারে প্রয়োজনীয় রান দাঁড়ায় ২৮। ১৯তম ওভার থেকে ফাহিম আশরাফের বিধ্বংসী ব্যাটে ২২ রান বেরিয়ে গেলে জয় প্রায় হাতে চলে আসে ইসলামাবাদের।

শেষ ওভারে মাত্র ৬ রানের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু হায়দরাবাদের তরুণ পেসার হুনাইন শাহ তখন প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। জোরালো ইয়র্কার ও গতিময় বোলিং করে তিনি মাত্র ৩ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান ফাহিম আশরাফকে আউট করে দলকে নাটকীয়ভাবে জয়ের মুখ দেখান। ইমাদ ওয়াসিমসহ বাকিরাও শেষ মুহূর্তে সমজ্ঞানে রান তুলতে ব্যর্থ হলে ইসলামাবাদ লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফিল্ডিংয়ে হাসান খানের একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা একটি নিশ্চিত ছয় রক্ষা করলে সেটিও জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

এই অবিশ্বাস্য বোলিং স্পেলের জন্য ২২ বছর বয়সী হুনাইন শাহ ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এবং দলকে ইতিহাসের দিকে ঠেলে দেন।

হায়দরাবাদের এই শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিশ্চিত করেছে যে আগামী রোববার তারা পেশোয়ার জালমির বিরুদ্ধে ফাইনালে নামবে। শুরুতে খেই হারানো একটি দল কীভাবে ফিরে এসে শিরোপার লড়াইয়ে পৌঁছালো—এটাই পিএসএলের এবারের সবচেয়ে বড় ক্লাইম্যাক্স হয়ে থাকবে। রোববারের ফাইনালের সামনে এখন সব দৃষ্টিই থাকবে, যেখানে অভিজ্ঞ বাবর আজমের পেশোয়ারের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

হুনাইনের জাদুকরী শেষ ওভারে হায়দরাবাদ ফাইনালে

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এক নাটকীয় সন্ধ্যায় নবাগত হায়দরাবাদ কিংস মেন প্রথমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছালো। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে মাত্র ২ রানের ব্যবধানে হারিয়ে মার্নাস লাবুশেনের দল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিল। টুর্নামেন্টের শুরুতে চার ম্যাচ পর পর হারার পর হায়দরাবাদ শেষ আটটির মধ্যে সাতটে জিতে দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখিয়েছে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে হায়দরাবাদ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান করে। ওপেনিংয়ে উসমান খান মাত্র ৩০ বল খেলে ১০ চারসহ ৬১ রানের দারুন উদ্বোধনী ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন ৩৯, সাইম আইয়ুব ৩৮ এবং কুশল পেরেরা ৩৭ করে দলের স্কোর গড়ে তোলেন—সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জিং একটি টার্গেট ছেড়ে দেয় হায়দরাবাদ।

১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামাবাদের মার্ক চাপম্যান ৪৩ ও হায়দার আলি ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন এবং ম্যাচ শেষ দিকে একটি জয়যোগ্য অবস্থান তৈরি করছিল। কিন্তু উত্তেজনা তখনই চরমে ওঠে যখন শেষ দুই ওভারে প্রয়োজনীয় রান দাঁড়ায় ২৮। ১৯তম ওভার থেকে ফাহিম আশরাফের বিধ্বংসী ব্যাটে ২২ রান বেরিয়ে গেলে জয় প্রায় হাতে চলে আসে ইসলামাবাদের।

শেষ ওভারে মাত্র ৬ রানের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু হায়দরাবাদের তরুণ পেসার হুনাইন শাহ তখন প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। জোরালো ইয়র্কার ও গতিময় বোলিং করে তিনি মাত্র ৩ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান ফাহিম আশরাফকে আউট করে দলকে নাটকীয়ভাবে জয়ের মুখ দেখান। ইমাদ ওয়াসিমসহ বাকিরাও শেষ মুহূর্তে সমজ্ঞানে রান তুলতে ব্যর্থ হলে ইসলামাবাদ লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফিল্ডিংয়ে হাসান খানের একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা একটি নিশ্চিত ছয় রক্ষা করলে সেটিও জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

এই অবিশ্বাস্য বোলিং স্পেলের জন্য ২২ বছর বয়সী হুনাইন শাহ ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এবং দলকে ইতিহাসের দিকে ঠেলে দেন।

হায়দরাবাদের এই শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিশ্চিত করেছে যে আগামী রোববার তারা পেশোয়ার জালমির বিরুদ্ধে ফাইনালে নামবে। শুরুতে খেই হারানো একটি দল কীভাবে ফিরে এসে শিরোপার লড়াইয়ে পৌঁছালো—এটাই পিএসএলের এবারের সবচেয়ে বড় ক্লাইম্যাক্স হয়ে থাকবে। রোববারের ফাইনালের সামনে এখন সব দৃষ্টিই থাকবে, যেখানে অভিজ্ঞ বাবর আজমের পেশোয়ারের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করবে।