১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হুনাইনের জাদুকরী শেষ ওভারে হায়দরাবাদ ফাইনালে

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এক নাটকীয় সন্ধ্যায় নবাগত হায়দরাবাদ কিংস মেন প্রথমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছালো। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে মাত্র ২ রানের ব্যবধানে হারিয়ে মার্নাস লাবুশেনের দল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিল। টুর্নামেন্টের শুরুতে চার ম্যাচ পর পর হারার পর হায়দরাবাদ শেষ আটটির মধ্যে সাতটে জিতে দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখিয়েছে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে হায়দরাবাদ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান করে। ওপেনিংয়ে উসমান খান মাত্র ৩০ বল খেলে ১০ চারসহ ৬১ রানের দারুন উদ্বোধনী ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন ৩৯, সাইম আইয়ুব ৩৮ এবং কুশল পেরেরা ৩৭ করে দলের স্কোর গড়ে তোলেন—সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জিং একটি টার্গেট ছেড়ে দেয় হায়দরাবাদ।

১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামাবাদের মার্ক চাপম্যান ৪৩ ও হায়দার আলি ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন এবং ম্যাচ শেষ দিকে একটি জয়যোগ্য অবস্থান তৈরি করছিল। কিন্তু উত্তেজনা তখনই চরমে ওঠে যখন শেষ দুই ওভারে প্রয়োজনীয় রান দাঁড়ায় ২৮। ১৯তম ওভার থেকে ফাহিম আশরাফের বিধ্বংসী ব্যাটে ২২ রান বেরিয়ে গেলে জয় প্রায় হাতে চলে আসে ইসলামাবাদের।

শেষ ওভারে মাত্র ৬ রানের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু হায়দরাবাদের তরুণ পেসার হুনাইন শাহ তখন প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। জোরালো ইয়র্কার ও গতিময় বোলিং করে তিনি মাত্র ৩ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান ফাহিম আশরাফকে আউট করে দলকে নাটকীয়ভাবে জয়ের মুখ দেখান। ইমাদ ওয়াসিমসহ বাকিরাও শেষ মুহূর্তে সমজ্ঞানে রান তুলতে ব্যর্থ হলে ইসলামাবাদ লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফিল্ডিংয়ে হাসান খানের একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা একটি নিশ্চিত ছয় রক্ষা করলে সেটিও জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

এই অবিশ্বাস্য বোলিং স্পেলের জন্য ২২ বছর বয়সী হুনাইন শাহ ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এবং দলকে ইতিহাসের দিকে ঠেলে দেন।

হায়দরাবাদের এই শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিশ্চিত করেছে যে আগামী রোববার তারা পেশোয়ার জালমির বিরুদ্ধে ফাইনালে নামবে। শুরুতে খেই হারানো একটি দল কীভাবে ফিরে এসে শিরোপার লড়াইয়ে পৌঁছালো—এটাই পিএসএলের এবারের সবচেয়ে বড় ক্লাইম্যাক্স হয়ে থাকবে। রোববারের ফাইনালের সামনে এখন সব দৃষ্টিই থাকবে, যেখানে অভিজ্ঞ বাবর আজমের পেশোয়ারের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

হুনাইনের জাদুকরী শেষ ওভারে হায়দরাবাদ ফাইনালে

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এক নাটকীয় সন্ধ্যায় নবাগত হায়দরাবাদ কিংস মেন প্রথমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছালো। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে মাত্র ২ রানের ব্যবধানে হারিয়ে মার্নাস লাবুশেনের দল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিল। টুর্নামেন্টের শুরুতে চার ম্যাচ পর পর হারার পর হায়দরাবাদ শেষ আটটির মধ্যে সাতটে জিতে দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখিয়েছে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে হায়দরাবাদ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান করে। ওপেনিংয়ে উসমান খান মাত্র ৩০ বল খেলে ১০ চারসহ ৬১ রানের দারুন উদ্বোধনী ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন ৩৯, সাইম আইয়ুব ৩৮ এবং কুশল পেরেরা ৩৭ করে দলের স্কোর গড়ে তোলেন—সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জিং একটি টার্গেট ছেড়ে দেয় হায়দরাবাদ।

১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামাবাদের মার্ক চাপম্যান ৪৩ ও হায়দার আলি ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন এবং ম্যাচ শেষ দিকে একটি জয়যোগ্য অবস্থান তৈরি করছিল। কিন্তু উত্তেজনা তখনই চরমে ওঠে যখন শেষ দুই ওভারে প্রয়োজনীয় রান দাঁড়ায় ২৮। ১৯তম ওভার থেকে ফাহিম আশরাফের বিধ্বংসী ব্যাটে ২২ রান বেরিয়ে গেলে জয় প্রায় হাতে চলে আসে ইসলামাবাদের।

শেষ ওভারে মাত্র ৬ রানের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু হায়দরাবাদের তরুণ পেসার হুনাইন শাহ তখন প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। জোরালো ইয়র্কার ও গতিময় বোলিং করে তিনি মাত্র ৩ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান ফাহিম আশরাফকে আউট করে দলকে নাটকীয়ভাবে জয়ের মুখ দেখান। ইমাদ ওয়াসিমসহ বাকিরাও শেষ মুহূর্তে সমজ্ঞানে রান তুলতে ব্যর্থ হলে ইসলামাবাদ লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফিল্ডিংয়ে হাসান খানের একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা একটি নিশ্চিত ছয় রক্ষা করলে সেটিও জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

এই অবিশ্বাস্য বোলিং স্পেলের জন্য ২২ বছর বয়সী হুনাইন শাহ ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এবং দলকে ইতিহাসের দিকে ঠেলে দেন।

হায়দরাবাদের এই শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিশ্চিত করেছে যে আগামী রোববার তারা পেশোয়ার জালমির বিরুদ্ধে ফাইনালে নামবে। শুরুতে খেই হারানো একটি দল কীভাবে ফিরে এসে শিরোপার লড়াইয়ে পৌঁছালো—এটাই পিএসএলের এবারের সবচেয়ে বড় ক্লাইম্যাক্স হয়ে থাকবে। রোববারের ফাইনালের সামনে এখন সব দৃষ্টিই থাকবে, যেখানে অভিজ্ঞ বাবর আজমের পেশোয়ারের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করবে।