১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত ৩ মে থেকে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন দিগন্তে প্রথম ধাক্কা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঢাকা-সহ দেশের সব থানাকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএমপি: শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে মে দিবস: নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশে তারেক রহমান ষড়যন্ত্রকারীদের মোক্ষম জবাব দেওয়ার আহ্বান

ইভিএম কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ: ভবানীপুরে মমতার সশরীর উপস্থিতি ও পাল্টা কটাক্ষ

আগামী ৪ মে ভোটগণনা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যকার রাজনীতি ক্রমশ তীব্র আকার নিল। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতেই কলকাতার ভবানীপুরে ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিতি ঘটায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের বাইরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হন প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী পরে অভিযোগ করেন যে ইভিএমে কারচুপির খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে বাধা দিয়েছে। পরে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে তিনি স্ট্রং রুমে প্রবেশ করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, ভোট লুটের চেষ্টা হলে তিনি শেষ শ্বাস পর্যন্ত সাড়া দেবেন।

মমতার এই তৎপরতার পর তৃণমূল শীর্ষনেতারা নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের কাছে ধর্নায় বসেন। দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে যে, নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতির মধ্যেই বিজেপি কর্মীরা সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে সিল করা ব্যালট বাক্স ভাঙার চেষ্টা করছে — একটুখানি ঘটনাও গণতন্ত্রে আঘাত হিসেবে দেখছে তারা।

তৃণমূল এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে রাজ্যের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার জবাবদিহি দাবি করেছে। দলটির বক্তব্য, ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে ফলাফল বদলানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবার তারা সরাসরি ইভিএমকে লক্ষ্য করছে।

পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেছেন মমতাকে ‘বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী’ বলে— এবং রাজ্যের ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যেন তৃণমূল কোনো অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূল পরাজয় নিশ্চিত বুঝে ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনের ওপর অভিযোগ চাপিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

ভোটগণনার ঠিক আগমুহূর্তে দুই শিবিরের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক মাঠে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কিভাবে এগোবে, তা নির্বাচনের ন্যায্যতা ও ভোটার আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ ভোটার ও পর্যবেক্ষকেরাও এখন টানটান মনোসংযোগে পরবর্তী ঘটনার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ইভিএম কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ: ভবানীপুরে মমতার সশরীর উপস্থিতি ও পাল্টা কটাক্ষ

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

আগামী ৪ মে ভোটগণনা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যকার রাজনীতি ক্রমশ তীব্র আকার নিল। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতেই কলকাতার ভবানীপুরে ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিতি ঘটায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের বাইরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হন প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী পরে অভিযোগ করেন যে ইভিএমে কারচুপির খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে বাধা দিয়েছে। পরে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে তিনি স্ট্রং রুমে প্রবেশ করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, ভোট লুটের চেষ্টা হলে তিনি শেষ শ্বাস পর্যন্ত সাড়া দেবেন।

মমতার এই তৎপরতার পর তৃণমূল শীর্ষনেতারা নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের কাছে ধর্নায় বসেন। দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে যে, নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতির মধ্যেই বিজেপি কর্মীরা সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে সিল করা ব্যালট বাক্স ভাঙার চেষ্টা করছে — একটুখানি ঘটনাও গণতন্ত্রে আঘাত হিসেবে দেখছে তারা।

তৃণমূল এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে রাজ্যের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার জবাবদিহি দাবি করেছে। দলটির বক্তব্য, ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে ফলাফল বদলানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবার তারা সরাসরি ইভিএমকে লক্ষ্য করছে।

পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেছেন মমতাকে ‘বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী’ বলে— এবং রাজ্যের ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যেন তৃণমূল কোনো অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূল পরাজয় নিশ্চিত বুঝে ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনের ওপর অভিযোগ চাপিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

ভোটগণনার ঠিক আগমুহূর্তে দুই শিবিরের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক মাঠে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কিভাবে এগোবে, তা নির্বাচনের ন্যায্যতা ও ভোটার আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ ভোটার ও পর্যবেক্ষকেরাও এখন টানটান মনোসংযোগে পরবর্তী ঘটনার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।