লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত ঝলক থাকা সত্ত্বেও ইন্টার মায়ামি নিজ মাঠে এক অবিশ্বাস্য পরাজয়ের মুখে পড়েছে। ‘নু স্টেডিয়াম’-এ চতুর্থ ম্যাচেও জয় না পাওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষত যখন দলটা মাত্র ৩৩ মিনিটে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু রক্ষণভাগের ধীরতা এবং ম্যাচের শেষ পর্যায়ে মানসিক কমজোরির সতর্ক সংকেত মায়ামিকে ৪-৩ হারাতে বাধ্য করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই মেসি দৃষ্টিনন্দন খেলেছে। খেলার মাত্র চতুর্থ মিনিটে তিনি দেওয়া এক নিখুঁত পাস থেকে ইয়ান ফ্রে এগিয়ে দেন। ২৫ মিনিটে মেসির জাদুকরী পাস থেকে তেলাস্কো সেগোভিয়া ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৩৩ মিনিটে মেসি নিজে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে গোল করে মনে করিয়ে দেন, দল আজ জয়ের পথে। প্রথমার্ধে পুরো টাইমই মায়ামি আক্রমণে ছিল কাজেরত এবং মনে হচ্ছিল জয় নিশ্চিতই কেবল সময়ের ব্যাপার।
কিন্তু ৩-০ থেকে উলটা পরিস্থিতি গড়ে উঠে দ্রুত। ৩৯ মিনিটে মার্টিন ওজেদার গোল ওরল্যান্ডো সিটিকে লড়াইয়ে ফেরায়। পরেরার্ধে ওজেদা আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেন—৬৮ মিনিটে নিজ বাস্তবিক কৃতিত্বে তিনি দ্বিতীয় গোল করেন ও ব্যবধান ৩-২-এ নামান। ৭৮ মিনিটে সফল পেনাল্টি থেকে গোল করা দিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে তিনি মায়ামিকে স্তব্ধ করেন এবং ম্যাচ পুরোপুরি উল্টো দিকে মোড় নেয়।
পরিসংখ্যানও মায়ামির পক্ষে কথা বললেও শেষ ফলাফলে তা কাজে আসে নি: দল ম্যাচে ৬৪ শতাংশ বল দখল এবং ২৬টি শট নিয়েও ফিনিশিংয়ে দুর্বলতার শিকার হয়ে জয় সঙ্গী করতে ব্যর্থ হয়। যখন অনেকেই মনে করছিল ম্যাচ ড্রতেই শেষ হবে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে টাইরিস স্পাইসার গোল করে ওরল্যান্ডো সিটির অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন।
এই ফলাফলের পর ইন্টার মায়ামির রক্ষণভাগ নিয়ে প্রশ্ন তীব্র হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে মেসি এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে উজ্জ্বল থাকলেও দলের সামগ্রিক ভারসাম্যহীনতা এবং দায়িত্বশীল রক্ষণভাগ না থাকাটা বড় সমস্যা হিসেবে সামাজিক ও পেশাদার বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে। নিজেদের মাঠে টানা ফলহীনতার ধারাকে ভাঙতে না পারলে কোচ ও খেলোয়াড়দের জন্য ভবিষ্যতে লিগ প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























