১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চরফ্যাশনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা: প্রেসক্লাব–রিপোর্টার্স ইউনিটির তীব্র প্রতিবাদ

ভোলার চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর (মালতিয়া) দায়ের করা মামলাটিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি করেছেন।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা একত্রিত হয়ে সংহতি জানায় এবং বিষয়টি স্থায়ীভাবে রোধের প্রতিশ্রুতি দেন।

সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, বহিষ্কৃত নেতা প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদকে প্রতিহিংসার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে তিনি বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ ও কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যই মূলগতভাবে এই মামলাটির নেপথ্য কারণ।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ‘ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হলে তথ্যচিত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। এমন হয়রানিমূলক মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার সবচে বড় হুমকি।’ তারা অতীতের উদাহরণ টেনে জানান যে, সত্য প্রকাশ রোধের এই ধরনের ব্যবস্থাও কখনও সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সফল হবে না।

সাংবাদিকরা আরও বলেন, সংবাদ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই উচ্চতর প্রশাসনিক ও আইনগত পর্যায় থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মামলাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। নয়তো তারা রাস্তার কর্মসূচি সহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।

জানা গেছে, ২৮ এপ্রিল ওই মামলাটি দায়ের হলে আদালত তা রেকর্ডভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের সাংবাদিক সমাজে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতিবাদ সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃত্ব ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং একযোগে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশের পক্ষে এগিয়ে থাকার অঙ্গীকার করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

চরফ্যাশনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা: প্রেসক্লাব–রিপোর্টার্স ইউনিটির তীব্র প্রতিবাদ

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর (মালতিয়া) দায়ের করা মামলাটিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি করেছেন।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা একত্রিত হয়ে সংহতি জানায় এবং বিষয়টি স্থায়ীভাবে রোধের প্রতিশ্রুতি দেন।

সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, বহিষ্কৃত নেতা প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদকে প্রতিহিংসার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে তিনি বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ ও কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যই মূলগতভাবে এই মামলাটির নেপথ্য কারণ।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ‘ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হলে তথ্যচিত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। এমন হয়রানিমূলক মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার সবচে বড় হুমকি।’ তারা অতীতের উদাহরণ টেনে জানান যে, সত্য প্রকাশ রোধের এই ধরনের ব্যবস্থাও কখনও সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সফল হবে না।

সাংবাদিকরা আরও বলেন, সংবাদ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই উচ্চতর প্রশাসনিক ও আইনগত পর্যায় থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মামলাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। নয়তো তারা রাস্তার কর্মসূচি সহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।

জানা গেছে, ২৮ এপ্রিল ওই মামলাটি দায়ের হলে আদালত তা রেকর্ডভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের সাংবাদিক সমাজে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতিবাদ সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃত্ব ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং একযোগে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশের পক্ষে এগিয়ে থাকার অঙ্গীকার করেন।