০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ: জনজীবন বিপর্যস্ত

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ভেঙে দিয়েছে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে।

পাকিস্তানে তাপজনিত জটিলতায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারতে বিভিন্ন এলাকায় হিটস্ট্রোক ও অতিরিক্ত গরমের কারণে একাধিক প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়েছে। মহামানুষিকভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী, শিশু, বয়স্ক ও পুরোনো রোগে ভুগছেন ব্যক্তিরা, যাদের বাড়ির ভেতর বা রেফ্রিজারেটেড পরিবেশে আশ্রয় নেই।

আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে বিরল নয়—বরং দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র এই তাপপ্রবাহগুলোর মাত্রা বেড়েই চলেছে। তাদের ব্যাখ্যা: জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল বর্ষা-পূর্ব বৃষ্টি এবং এল নিনো পরিস্থিতি মিলিয়ে অঞ্চলটিতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চচাপ এলাকার কারণে গরম বাতাস জমে থাকে, মেঘ গঠনে বাধা পড়ে এবং তাপ আরও বাড়ে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানায়, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও গুজরাটে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়েই উঠতে পারে; কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩–৫ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের আকোলায় ৪৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মাপা হয়েছে। পাকিস্তানের করাচিতে ৪৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা ২০১৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের দিনের গরম সময় বাইরে না বেরোতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশেও তাপপ্রবাহ বেড়েই চলেছে। জাতীয় আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে দেশে ২৪ দিন তাপপ্রবাহ ছিল—এটি গত ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুরে তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এখনকার এই তাপপ্রবাহ আর অস্থায়ী ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। খোলা আকাশে কাজ করারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে; গরমের কারণে কাজের ঘণ্টা কমে, আয় কমে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। কৃষি, নির্মাণ ও বহির্মুখী সেবাখাতেও প্রভাব পড়ছে।

তাদের পরামর্শে জরুরি প্রস্তুতি হিসেবে দরকার: আগাম সতর্কতা ও ওয়ার্নিং সিস্টেম জোরদার করা, নগর পরিকল্পনায় ছায়া ও সবুজ বাড়ানো, শ্রমিকদের জন্য বিশ্রাম ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা শক্ত করে তোলা এবং তাপসহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা। যদি এসব না করা হয়, ভবিষ্যতে এমন তীব্র হিটওয়েভ আরও ঘনঘন ও দীর্ঘদূরবর্তী প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সমন্বিত নীতি, স্থানীয় সচেতনতা বাড়ানো এবং দুর্বলদের জন্য জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ: জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ভেঙে দিয়েছে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে।

পাকিস্তানে তাপজনিত জটিলতায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারতে বিভিন্ন এলাকায় হিটস্ট্রোক ও অতিরিক্ত গরমের কারণে একাধিক প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়েছে। মহামানুষিকভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী, শিশু, বয়স্ক ও পুরোনো রোগে ভুগছেন ব্যক্তিরা, যাদের বাড়ির ভেতর বা রেফ্রিজারেটেড পরিবেশে আশ্রয় নেই।

আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে বিরল নয়—বরং দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র এই তাপপ্রবাহগুলোর মাত্রা বেড়েই চলেছে। তাদের ব্যাখ্যা: জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল বর্ষা-পূর্ব বৃষ্টি এবং এল নিনো পরিস্থিতি মিলিয়ে অঞ্চলটিতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চচাপ এলাকার কারণে গরম বাতাস জমে থাকে, মেঘ গঠনে বাধা পড়ে এবং তাপ আরও বাড়ে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানায়, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও গুজরাটে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়েই উঠতে পারে; কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩–৫ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের আকোলায় ৪৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মাপা হয়েছে। পাকিস্তানের করাচিতে ৪৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা ২০১৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের দিনের গরম সময় বাইরে না বেরোতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশেও তাপপ্রবাহ বেড়েই চলেছে। জাতীয় আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে দেশে ২৪ দিন তাপপ্রবাহ ছিল—এটি গত ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুরে তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এখনকার এই তাপপ্রবাহ আর অস্থায়ী ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। খোলা আকাশে কাজ করারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে; গরমের কারণে কাজের ঘণ্টা কমে, আয় কমে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। কৃষি, নির্মাণ ও বহির্মুখী সেবাখাতেও প্রভাব পড়ছে।

তাদের পরামর্শে জরুরি প্রস্তুতি হিসেবে দরকার: আগাম সতর্কতা ও ওয়ার্নিং সিস্টেম জোরদার করা, নগর পরিকল্পনায় ছায়া ও সবুজ বাড়ানো, শ্রমিকদের জন্য বিশ্রাম ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা শক্ত করে তোলা এবং তাপসহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা। যদি এসব না করা হয়, ভবিষ্যতে এমন তীব্র হিটওয়েভ আরও ঘনঘন ও দীর্ঘদূরবর্তী প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সমন্বিত নীতি, স্থানীয় সচেতনতা বাড়ানো এবং দুর্বলদের জন্য জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।