০৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৯ টাকা বাড়ল ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মির্জা ফখরুল কাতার চার খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫ দুই দিনব্যাপী সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত শাহজালালে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু — একযোগে প্রায় ৩৭,৫০০ যাত্রী পাবেন উচ্চগতির ইন্টারনেট শাহরাস্তিতে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

কমলনগর এলজিইডিতে জনবল সংকট: ২১ পদের বিপরীতে মাত্র ৯ জন কাজ করছেন

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কাজে লাগার মতো কর্মী সংকটে পড়েছে। অনুমোদিত ২১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে শুধুমাত্র ৯জনই অফিস চালাচ্ছেন, ফলে প্রশাসনিক কাজ ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে মারাত্মক ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ শূন্য থাকায় গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণসহ মাঠ পর্যায়ের কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও সময়মতো সম্পাদনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারদের বিল নিষ্পত্তি বিলম্ব হওয়ায় তারা কাজ শেষ করতেও দেরি করছেন এবং সাধারণ সেবা গ্রাহকরা ছোটখাটো কাজের জন্য বারবার অফিসে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বিল নিয়েও অফিসে অনাবশ্যক ব্যাপক রেকর্ড ও বিল বিলম্ব হচ্ছে বলে কর্মচারীরা অভিযোগ করেন।

অফিসের উপস্থিত কর্মীর তালিকায় দেখা গেছে—অনুমোদিত পদের মধ্যে অনেকটি খালি থাকায় অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে খুঁটিনাটি কাজ সামলাতে হচ্ছে। কার্যসহকারী পদে পাঁচটির স্থলে মাত্র দুই জন কাজ করছেন; হিসাব রক্ষক, হিসাব সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও সার্ভেয়ার পদ ফাঁকা; অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারীর কয়েকটি পদও শুন্য। নিরাপত্তা প্রহরীরও কোনো কর্মী নেই।

সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদের ফেনীতে বদলি করা হয়। তার এই বদলি সংকটকে আরও তীব্র করেছে; তিনি চলে গেলে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে, কর্মকর্তারা বলছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উন্নয়ন কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাস্তবায়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। দুইজন সেবাপ্রত্যাশী বলছেন, ছোটখাটো কাজে হলেও দিনভর লাইনে থাকতে হয়; কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজ থাকা ও সার্বিক জনবল হীনতায় ফাইল নিষ্পত্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কর্মচারীরা জানান, মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাব কাজের গুণগত মানেও প্রশ্ন তুলেছে। ঠিকাদাররা বারবার বিল পেতে না পারায় কাজ হাতে রাখতে অস্বস্তিতে পড়ছেন এবং অনেকে অভিযোগ করছেন যে, কাজের সময়সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে; শূন্যপদ পূরণ হলে অফিসের কার্যক্রম দ্রুত গতিশীল হবে। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীও জানান, তিনি বিষয়টি অধিদপ্তরকে অবহিত করে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের আশ্বাস পেয়েছেন।

স্থানীয়রা দ্রুত শূন্যপদগুলোতে নিয়োগ দাবি করেছেন, যাতে জরুরি প্রশাসনিক কাজ, প্রকল্পের তদারকি ও বিল নিষ্পত্তি স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় এবং সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি কমে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৯ টাকা বাড়ল

কমলনগর এলজিইডিতে জনবল সংকট: ২১ পদের বিপরীতে মাত্র ৯ জন কাজ করছেন

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কাজে লাগার মতো কর্মী সংকটে পড়েছে। অনুমোদিত ২১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে শুধুমাত্র ৯জনই অফিস চালাচ্ছেন, ফলে প্রশাসনিক কাজ ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে মারাত্মক ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ শূন্য থাকায় গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণসহ মাঠ পর্যায়ের কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও সময়মতো সম্পাদনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারদের বিল নিষ্পত্তি বিলম্ব হওয়ায় তারা কাজ শেষ করতেও দেরি করছেন এবং সাধারণ সেবা গ্রাহকরা ছোটখাটো কাজের জন্য বারবার অফিসে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বিল নিয়েও অফিসে অনাবশ্যক ব্যাপক রেকর্ড ও বিল বিলম্ব হচ্ছে বলে কর্মচারীরা অভিযোগ করেন।

অফিসের উপস্থিত কর্মীর তালিকায় দেখা গেছে—অনুমোদিত পদের মধ্যে অনেকটি খালি থাকায় অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে খুঁটিনাটি কাজ সামলাতে হচ্ছে। কার্যসহকারী পদে পাঁচটির স্থলে মাত্র দুই জন কাজ করছেন; হিসাব রক্ষক, হিসাব সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও সার্ভেয়ার পদ ফাঁকা; অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারীর কয়েকটি পদও শুন্য। নিরাপত্তা প্রহরীরও কোনো কর্মী নেই।

সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদের ফেনীতে বদলি করা হয়। তার এই বদলি সংকটকে আরও তীব্র করেছে; তিনি চলে গেলে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে, কর্মকর্তারা বলছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উন্নয়ন কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাস্তবায়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। দুইজন সেবাপ্রত্যাশী বলছেন, ছোটখাটো কাজে হলেও দিনভর লাইনে থাকতে হয়; কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজ থাকা ও সার্বিক জনবল হীনতায় ফাইল নিষ্পত্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কর্মচারীরা জানান, মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাব কাজের গুণগত মানেও প্রশ্ন তুলেছে। ঠিকাদাররা বারবার বিল পেতে না পারায় কাজ হাতে রাখতে অস্বস্তিতে পড়ছেন এবং অনেকে অভিযোগ করছেন যে, কাজের সময়সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে; শূন্যপদ পূরণ হলে অফিসের কার্যক্রম দ্রুত গতিশীল হবে। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীও জানান, তিনি বিষয়টি অধিদপ্তরকে অবহিত করে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের আশ্বাস পেয়েছেন।

স্থানীয়রা দ্রুত শূন্যপদগুলোতে নিয়োগ দাবি করেছেন, যাতে জরুরি প্রশাসনিক কাজ, প্রকল্পের তদারকি ও বিল নিষ্পত্তি স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় এবং সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি কমে।