০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা দুই দিন ধরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের মাঝে আন্তর্জাতিক বুলবুনিতে স্বর্ণের দাম দুই দিন ধরে ঠিক ঠাক নিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থনীতির অস্থিরতার প্রেক্ষিতে Tuesday-তে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৫৪২.৭ ডলারে। এর আগে সোমবার আউন্সপ্রতি মূল্য ছিল ৪,৪৭৯.৫৪ ডলার—যা ৩০ মার্চের পর থেকে ন্যূনতম রেকর্ড। একই সঙ্গে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ০.৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আউন্সপ্রতি ৪,৫৪৫.৫ ডলারে নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি উচ্চস্তরে স্থায়ী থাকে তাহলে ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত ডলারের মান শক্তিশালী হয়, আর শক্তিশালী ডলারে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ অপেক্ষাকৃত দামী হয়ে ওঠে—ফলে নিরাপত্তা বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। এই মৌলিক কারণগুলোর সমন্বয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর নেমে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের একই ধাক্কা বাংলাদেশেও পড়ে; জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বাজার সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বাজুস জানিয়েছে যে তারা প্রতিভর দাম ৪,৩৭৪ টাকা করে কমিয়েছে, যার ফলে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার নিচে নেমে গেছে।

নবীকৃত মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৩৮,১২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২,২৭,৩৩১ টাকা; ১৮ ক্যারেট ১,৯৪,৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরনো মেপে) স্বর্ণের দাম ১,৫৮,৬৮৯ টাকা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাই প্রধানভাবে স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারে মূল্য পরিবর্তন দ্রুত ঘটতে পারে, তাই ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের এই ওঠানামার প্রতি নজর রাখতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সরকার এগোচ্ছে, জুনে পরামর্শক কমিটি

টানা দুই দিন ধরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের মাঝে আন্তর্জাতিক বুলবুনিতে স্বর্ণের দাম দুই দিন ধরে ঠিক ঠাক নিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থনীতির অস্থিরতার প্রেক্ষিতে Tuesday-তে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৫৪২.৭ ডলারে। এর আগে সোমবার আউন্সপ্রতি মূল্য ছিল ৪,৪৭৯.৫৪ ডলার—যা ৩০ মার্চের পর থেকে ন্যূনতম রেকর্ড। একই সঙ্গে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ০.৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আউন্সপ্রতি ৪,৫৪৫.৫ ডলারে নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি উচ্চস্তরে স্থায়ী থাকে তাহলে ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত ডলারের মান শক্তিশালী হয়, আর শক্তিশালী ডলারে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ অপেক্ষাকৃত দামী হয়ে ওঠে—ফলে নিরাপত্তা বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। এই মৌলিক কারণগুলোর সমন্বয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর নেমে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের একই ধাক্কা বাংলাদেশেও পড়ে; জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বাজার সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বাজুস জানিয়েছে যে তারা প্রতিভর দাম ৪,৩৭৪ টাকা করে কমিয়েছে, যার ফলে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার নিচে নেমে গেছে।

নবীকৃত মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৩৮,১২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২,২৭,৩৩১ টাকা; ১৮ ক্যারেট ১,৯৪,৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরনো মেপে) স্বর্ণের দাম ১,৫৮,৬৮৯ টাকা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাই প্রধানভাবে স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারে মূল্য পরিবর্তন দ্রুত ঘটতে পারে, তাই ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের এই ওঠানামার প্রতি নজর রাখতে অনুরোধ করা হচ্ছে।