সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে টানা দরপতনের পর তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের পুঁজিবাজারে তুলনামূলকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়ে প্রধান সূচক ইতিবাচক অঞ্চলে ফিরে এসেছে। তবে সূচক বাড়ার সত্ত্বেও বাজারে লেনদেনের গতি কিছুটা কমে গেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৩৮টির দাম কমেছে এবং ৭৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়ে যাওয়ার ধারা দিনের শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫,২১১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৫৯ পয়েন্টে এবং শক্তিশালী ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বাড়ে ১,৯৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
তथাপি বাজারে তারল্য প্রবাহ কিছুটা সংকুচিত ছিল; মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা কম। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাল ও মাঝারি মানের, লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা থাকা কোম্পানির শেয়ারগুলোতে এদিন বেশ সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে, যা সূচক পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে।
লেনদেনের সম্মুখসারিতে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ; এ কোম্পানির শেয়ার তুলনায় বেশি হাতবদল হয়ে মোট ২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আরডি ফুড ও এনসিসি ব্যাংক যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থান করে। এছাড়া টেকনো ড্রাগস, লাভেলো আইসক্রিম ও মুন্নু সিরামিকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লেনদেনের শীর্ষ দশে স্থান করে নিয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক কাসপিআই (CASPI) ৩১ পয়েন্ট বেড়েছে। এখানে ২০৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯২টির শেয়ারের দাম কমলেও ৮২টির দাম বেড়েছে। সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি।
বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, টানা দরপতনের পরে এই সামান্য ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে দেবে; তবে স্থিতিশীলতার জন্য আরও শক্তিশালী লিকুইডিটি ও ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা প্রয়োজন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























