০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

জালিয়াতি রোধে ব্যাংক কার্ড ও এমএফএস-এ তথ্যের মিল বাধ্যতামূলক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক কার্ড থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস)–এ ‘অ্যাড মানি’ করার ক্ষেত্রে কার্ডধারীর নাম ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে নথিভুক্ত নাম এক হওয়া বাধ্যতামূলক করার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই নিয়ম কার্যকরের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি বড় জালিয়াতি মামলার পর। এক সাইবার চক্র স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের কার্ডের ওটিপি বাইপাস করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছে, অপরাধীরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম কিংবা ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই কার্ড থেকে টাকা স্থানান্তর করছিল। ঘটনার পর ব্যাংককে সাময়িকভাবে কার্ড থেকে এমএফএস-এ অর্থ পাঠানো বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

নতুন নির্দেশনার প্রধান দিকগুলো হলো:

– ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্ড থেকে এমএফএস-এ অ্যাড মানি করতে চাইলে ওই এমএফএস অ্যাকাউন্ট অবশ্যই কার্ডধারীর নিজ নামে নিবন্ধিত থাকতে হবে।

– সাময়িক ব্যবস্থায় আউগাস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির কার্ড ব্যবহার করে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যাবে; তবে কার্ড সংযুক্তির সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ করতে হবে। এই টোকেন লেনদেন সফল হলে ২৪ ঘণ্টা পর ওই কার্ডটি সংশ্লিষ্ট এমএফএস অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন চালানো যাবে। এটি জালিয়াতি রোধে একটি প্রাথমিক নিরাপত্তা হিসেবে দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

– ব্যাংক কার্ড থেকে এমএফএস-এ অর্থ স্থানান্তরকে ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে নয়, ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সময় বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে দৃশ্যমান রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে ১ আগস্ট থেকে ওই কার্ড ব্যবহার করে অ্যাড মানির সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই কড়া নিয়মাবলি ব্যাংক ও এমএফএস খাতে নিরাপত্তা বাড়াবে এবং গ্রাহকের আস্থাও পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

জালিয়াতি রোধে ব্যাংক কার্ড ও এমএফএস-এ তথ্যের মিল বাধ্যতামূলক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক কার্ড থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস)–এ ‘অ্যাড মানি’ করার ক্ষেত্রে কার্ডধারীর নাম ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে নথিভুক্ত নাম এক হওয়া বাধ্যতামূলক করার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই নিয়ম কার্যকরের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি বড় জালিয়াতি মামলার পর। এক সাইবার চক্র স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের কার্ডের ওটিপি বাইপাস করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছে, অপরাধীরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম কিংবা ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই কার্ড থেকে টাকা স্থানান্তর করছিল। ঘটনার পর ব্যাংককে সাময়িকভাবে কার্ড থেকে এমএফএস-এ অর্থ পাঠানো বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

নতুন নির্দেশনার প্রধান দিকগুলো হলো:

– ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্ড থেকে এমএফএস-এ অ্যাড মানি করতে চাইলে ওই এমএফএস অ্যাকাউন্ট অবশ্যই কার্ডধারীর নিজ নামে নিবন্ধিত থাকতে হবে।

– সাময়িক ব্যবস্থায় আউগাস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির কার্ড ব্যবহার করে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যাবে; তবে কার্ড সংযুক্তির সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ করতে হবে। এই টোকেন লেনদেন সফল হলে ২৪ ঘণ্টা পর ওই কার্ডটি সংশ্লিষ্ট এমএফএস অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন চালানো যাবে। এটি জালিয়াতি রোধে একটি প্রাথমিক নিরাপত্তা হিসেবে দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

– ব্যাংক কার্ড থেকে এমএফএস-এ অর্থ স্থানান্তরকে ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে নয়, ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সময় বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে দৃশ্যমান রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে ১ আগস্ট থেকে ওই কার্ড ব্যবহার করে অ্যাড মানির সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই কড়া নিয়মাবলি ব্যাংক ও এমএফএস খাতে নিরাপত্তা বাড়াবে এবং গ্রাহকের আস্থাও পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।