০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

বন্ধুর লাশ ফেরত না পেয়ে কঙ্গোর ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের এক শহরে ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের তাণ্ডব ঘটেছে—বন্ধুর মরদেহ না দেওয়ার অভিযোগে ক্ষিপ্ত জনতা চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে ভাঙচুর করেছে। ঘটনার সময় কর্মীদের প্রাণে শরণ নিতে হয়েছে এবং কেন্দ্রটি তছনছ হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, ইবোলায় মৃত এক যুবকের মরদেহ নিতে এসে তার বন্ধুদের এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিরোধ বাধে। সংক্রামকতার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ দাফনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে মরদেহ হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের বাধার পরও তারা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়, ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম থেমে যায় এবং সাহায্যকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে পালাতে বাধ্য হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সংক্রামক ইবোলা রোগে মৃত ব্যক্তিদের বিশেষভাবে নিরাপদভাবে দাফন করার ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু এসব স্বাস্থ্যবিধি বহু ক্ষেত্রে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক রীতির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে, ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও mistrust তৈরি হচ্ছে—যেটা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকেও কঠিন করে তোলে।

ডব্লিউএইচও ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বলে বলা হচ্ছে। কঙ্গোর দুই প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৬৭১টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ১৬০জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের বৃদ্ধির কারণে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

এই স্বাস্থ্যগত সংকটের সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক দাইয়েশ-সম্পর্কিত হামলায় অন্তত ১৭জন নিহত হওয়ার খবর রয়েছে—এ ধরনের সহিংসতা ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সংকটিত করছে।

বিস্তার হওয়া ভাইরাসের ধরন—বান্ডিবুগিও—এর বিরুদ্ধে বর্তমানে কার্যকর কোনো টিকা বা ওষুধ নেই বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিষেধক উদ্ভাবনে কমপক্ষে আরও ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে, ফলে আপতকালে প্রতিরোধ, সতর্কতা ও সঠিক দাহ-বিধিই প্রধান অস্ত্র। কঙ্গোর দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ইবোলার সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়েছে।

ইবোলার প্রভাব কৌশলগত ও কূটনৈতিক স্তরেও ধরা পড়ছে। দিল্লিতে হওয়ার কথা থাকা ‘‘ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সামিট’’ স্থগিত করা হয়েছে এবং কঙ্গোর জাতীয় ফুটবল দল তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করেছে। নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা যাত্রীদের জন্য কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রবেশ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

স্থানীয়দের ভীতি ও ক্ষোভ শিথিল করার জন্য স্বচ্ছতা, স্থানীয় সমাজের অনুভূতিতে সংবেদনশীল আচরণ এবং নিরাপদ দাহ-রীতি সম্পর্কে মসৃণ ব্যাখ্যা জরুরি। একই সঙ্গে নিরাপদ চিকিৎসা এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে যে নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা দরকার, তা দ্রুত নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

বন্ধুর লাশ ফেরত না পেয়ে কঙ্গোর ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের এক শহরে ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের তাণ্ডব ঘটেছে—বন্ধুর মরদেহ না দেওয়ার অভিযোগে ক্ষিপ্ত জনতা চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে ভাঙচুর করেছে। ঘটনার সময় কর্মীদের প্রাণে শরণ নিতে হয়েছে এবং কেন্দ্রটি তছনছ হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, ইবোলায় মৃত এক যুবকের মরদেহ নিতে এসে তার বন্ধুদের এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিরোধ বাধে। সংক্রামকতার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ দাফনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে মরদেহ হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের বাধার পরও তারা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়, ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম থেমে যায় এবং সাহায্যকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে পালাতে বাধ্য হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সংক্রামক ইবোলা রোগে মৃত ব্যক্তিদের বিশেষভাবে নিরাপদভাবে দাফন করার ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু এসব স্বাস্থ্যবিধি বহু ক্ষেত্রে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক রীতির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে, ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও mistrust তৈরি হচ্ছে—যেটা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকেও কঠিন করে তোলে।

ডব্লিউএইচও ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বলে বলা হচ্ছে। কঙ্গোর দুই প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৬৭১টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ১৬০জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের বৃদ্ধির কারণে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

এই স্বাস্থ্যগত সংকটের সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক দাইয়েশ-সম্পর্কিত হামলায় অন্তত ১৭জন নিহত হওয়ার খবর রয়েছে—এ ধরনের সহিংসতা ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সংকটিত করছে।

বিস্তার হওয়া ভাইরাসের ধরন—বান্ডিবুগিও—এর বিরুদ্ধে বর্তমানে কার্যকর কোনো টিকা বা ওষুধ নেই বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিষেধক উদ্ভাবনে কমপক্ষে আরও ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে, ফলে আপতকালে প্রতিরোধ, সতর্কতা ও সঠিক দাহ-বিধিই প্রধান অস্ত্র। কঙ্গোর দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ইবোলার সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়েছে।

ইবোলার প্রভাব কৌশলগত ও কূটনৈতিক স্তরেও ধরা পড়ছে। দিল্লিতে হওয়ার কথা থাকা ‘‘ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সামিট’’ স্থগিত করা হয়েছে এবং কঙ্গোর জাতীয় ফুটবল দল তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করেছে। নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা যাত্রীদের জন্য কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রবেশ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

স্থানীয়দের ভীতি ও ক্ষোভ শিথিল করার জন্য স্বচ্ছতা, স্থানীয় সমাজের অনুভূতিতে সংবেদনশীল আচরণ এবং নিরাপদ দাহ-রীতি সম্পর্কে মসৃণ ব্যাখ্যা জরুরি। একই সঙ্গে নিরাপদ চিকিৎসা এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে যে নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা দরকার, তা দ্রুত নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।