০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহ হিলবাকী ইসি জানালেন: স্থানীয় সরকার ভোটেও পোস্টার থাকবে না দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা — নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত পল্লবীর রামিসা হত্যায় প্রধান আসামি সোহেল নৃশংস স্বীকারোক্তি রামিসা হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন—ডিবি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা, নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সংকেত ইপিআই’র সঙ্গে নিয়মিতভাবে হামের টিকা চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাটছাঁট সত্ত্বেও প্রয়োজন ৩৭ হাজার কোটি টাকা পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ ২০২৬-২৭ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ

রুবিও কিউবাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ ঘোষণা করলেন, চীন ও রাশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া

ইউএস সিনেটর মার্কো রুবিও বলেছেন, কিউবা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনা খুবই কম। রুবিওর এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে নতুন কড়া কূটনৈতিক ও আইনগত পদক্ষেপের পথে রয়েছে।

রুবিও বলেন, ১৯৯৬ সালে দুটি বিমানের ভূপাতনের ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আনিত হত্যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং চলমান উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন এক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, যদিও ওয়াশিংটন কূটনৈতিক পথকে প্রাধান্য দিচ্ছে, প্রয়োজন পড়লে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবেন এবং তা করার অধিকার ও আইনি ভিত্তি রয়েছে।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ রুবিওর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছেন যে, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয়নি। রদ্রিগেজের অভিযোগ, রুবিও মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছেন এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব উস্কে দেনায় তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে সামরিক আগ্রাসনকে উসকে দেওয়া। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার ওপর ‘নির্দয় ও পদ্ধতিগত’ নীতির দায়ি করেছেন।

ওই ঘটনায় মিয়ামিতে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে এক স্থানীয় আইন কর্মকর্তাও মন্তব্য করেছেন যে, রাউল কাস্ত্রোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা করা হলে তা নানা উপায়ে হতে পারে। রুবিও নিজেও বলেছেন, গ্রেফতার বা আনা নিয়ে প্রণালীগত গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমে বিস্তারিত বলা হবে না।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সম্মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবাকে ‘ব্যর্থ দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তার প্রশাসন মানবতার খাতিরে কিউবাকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী অনেক প্রধান যুক্তরাষ্ট্র বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘসময় দেখেই এসেছেন, আর তিনি তাতেই পরিবর্তন আনতে চান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-সংক্রান্ত ইস্যুতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলে ট্রাম্প সহ তার সমর্থকরা কিউবা ইস্যুতে কঠোর চমক দেখিয়ে সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করতে পারেন। কিছু পর্যবেক্ষক ভেনেজুয়েলায় অপহরণের মতো আকস্মিক অভিযানের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার অপর প্রান্তে রুবিও জানিয়েছেন, কিউবার সামরিক একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বোন আদিস লাস্ত্রেস মোরেরাকে ফ্লোরিডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যার তথ্য তিনি প্রকাশ করেছেন। সংক্ষিপ্তভাবে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার ফলে কিউবার ঘরে তীব্র জ্বালানি ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘবিন্দু বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামনে এসেছে। রুবিও আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতেই কিউবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানবিক তহবিল হিসেবে প্রায় ১০ কোটি ডলার গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীন ও রাশিয়া কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছে চাপ ও জবরদস্তি বন্ধ করতে, আর ক্রেমলিন এই চাপকে ‘সহিংসতার কাছাকাছি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কথা বলতে বলতে বলা যায়, বর্তমানে কিউবা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এক নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জটিল ও বন্ধুত্বহীন করে তুলবে, এবং এর প্রভাব ক্যারিবীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতেও গভীরভাবে পড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইসি জানালেন: স্থানীয় সরকার ভোটেও পোস্টার থাকবে না

রুবিও কিউবাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ ঘোষণা করলেন, চীন ও রাশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ইউএস সিনেটর মার্কো রুবিও বলেছেন, কিউবা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনা খুবই কম। রুবিওর এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে নতুন কড়া কূটনৈতিক ও আইনগত পদক্ষেপের পথে রয়েছে।

রুবিও বলেন, ১৯৯৬ সালে দুটি বিমানের ভূপাতনের ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আনিত হত্যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং চলমান উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন এক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, যদিও ওয়াশিংটন কূটনৈতিক পথকে প্রাধান্য দিচ্ছে, প্রয়োজন পড়লে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবেন এবং তা করার অধিকার ও আইনি ভিত্তি রয়েছে।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ রুবিওর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছেন যে, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয়নি। রদ্রিগেজের অভিযোগ, রুবিও মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছেন এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব উস্কে দেনায় তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে সামরিক আগ্রাসনকে উসকে দেওয়া। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার ওপর ‘নির্দয় ও পদ্ধতিগত’ নীতির দায়ি করেছেন।

ওই ঘটনায় মিয়ামিতে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে এক স্থানীয় আইন কর্মকর্তাও মন্তব্য করেছেন যে, রাউল কাস্ত্রোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা করা হলে তা নানা উপায়ে হতে পারে। রুবিও নিজেও বলেছেন, গ্রেফতার বা আনা নিয়ে প্রণালীগত গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমে বিস্তারিত বলা হবে না।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সম্মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবাকে ‘ব্যর্থ দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তার প্রশাসন মানবতার খাতিরে কিউবাকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী অনেক প্রধান যুক্তরাষ্ট্র বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘসময় দেখেই এসেছেন, আর তিনি তাতেই পরিবর্তন আনতে চান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-সংক্রান্ত ইস্যুতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলে ট্রাম্প সহ তার সমর্থকরা কিউবা ইস্যুতে কঠোর চমক দেখিয়ে সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করতে পারেন। কিছু পর্যবেক্ষক ভেনেজুয়েলায় অপহরণের মতো আকস্মিক অভিযানের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার অপর প্রান্তে রুবিও জানিয়েছেন, কিউবার সামরিক একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বোন আদিস লাস্ত্রেস মোরেরাকে ফ্লোরিডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যার তথ্য তিনি প্রকাশ করেছেন। সংক্ষিপ্তভাবে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার ফলে কিউবার ঘরে তীব্র জ্বালানি ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘবিন্দু বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামনে এসেছে। রুবিও আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতেই কিউবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানবিক তহবিল হিসেবে প্রায় ১০ কোটি ডলার গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীন ও রাশিয়া কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছে চাপ ও জবরদস্তি বন্ধ করতে, আর ক্রেমলিন এই চাপকে ‘সহিংসতার কাছাকাছি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কথা বলতে বলতে বলা যায়, বর্তমানে কিউবা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এক নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জটিল ও বন্ধুত্বহীন করে তুলবে, এবং এর প্রভাব ক্যারিবীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতেও গভীরভাবে পড়তে পারে।