ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনি একটি প্রশাসনিক আদেশ জারি করে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো মজুত দেশের সীমানার বাইরে পাঠানো হবে না। এই নির্দেশনার তথ্য দুই জন উচ্চপদস্থ ইরানী কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে।
খামেনির এ অবস্থান চলমান শান্তিচুক্তির প্রধান শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল করে তুলতে পারে। সরকারি নির্দেশ শীঘ্রই কূটনৈতিক আলোচনার গতিকে প্রভাবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করার বিষয়টি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা এটি নিয়ে নেব। আমাদের এটার প্রয়োজন বা চাওয়া নেই। পাওয়ার পর সম্ভবত আমরা এটি ধ্বংস করে দেব, কিন্তু তাদের কাছে এটি রাখতে দেব না।” ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছেন যে এমন উপাদানগুলো ইরানের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হবে এবং যেকোনো শান্তিচুক্তিতে এটি বাধ্যতামূলক ধারায় থাকবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সে কারণেই দাবি জানিয়েছেন যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো ও ইরান-সমর্থিত ছায়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সহায়তা বন্ধ না হলে তিনি সংঘাত শেষ ঘোষণা করবেন না।
ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিবেচনায়, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বিদেশের হাতে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়বে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ একাত্মতা রয়েছে—সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কোনোভাবেই দেশ ছাড়বে না।”
বর্তমানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি তেহরানের আস্থা সীমিত এবং ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানি নীতিনির্ধারকরা সন্দিহিত।
ইরানের প্রধান শান্তি মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, “শত্রুর দৃশ্যমান ও গোপন তৎপরতা” নির্দেশ করে যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত আবার বিমান হামলা শুরু করার জন্য একটি সাময়িক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তিনি এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বলেছেন যে যেসব মৌলিক বিষয়—বিশেষত পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার—সেগুলোতেই এখনও গভীর অমিল আছে।
তেহরান বারবার জোর দিয়েছেন যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টি বা আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তারা বিস্তারিত শান্তিচর্চায় বসবে। এমন অবস্থায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঞ্চয় দেশের বাইরে না পাঠানোর খামেনির নির্দেশ যে কূটনৈতিক মঞ্চকে আরও জটিল করবে, সে বিষয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























