০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহ হিলবাকী ইসি জানালেন: স্থানীয় সরকার ভোটেও পোস্টার থাকবে না দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা — নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত পল্লবীর রামিসা হত্যায় প্রধান আসামি সোহেল নৃশংস স্বীকারোক্তি রামিসা হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন—ডিবি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা, নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সংকেত ইপিআই’র সঙ্গে নিয়মিতভাবে হামের টিকা চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাটছাঁট সত্ত্বেও প্রয়োজন ৩৭ হাজার কোটি টাকা পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ ২০২৬-২৭ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ

পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরছেন আফগান নারী ক্রিকেটাররা

তালেবান ক্ষমতায় কব্জা হবার পর দীর্ঘদিন মুখ থুবড়ে পড়া আফগান নারী ক্রিকেটে ফেরার নতুন আশার সূচনা হলো। অনিশ্চয়তা আর প্রাণভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এসব নারী ক্রিকেটার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

আগামী মাসে একটি শরণার্থী দলের রূপে তারা ইংল্যান্ড সফর করবেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, এই সফরে শুধু টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ও অনুশীলনই নয়—তোমরা লর্ডস গ্রাউন্ডে বসে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালও উপভোগ করার সুযোগ পাবে।

ইসিবি বলেছে, এটা কেবল একটি ক্রিকেট সফর নয়; সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াগত দিক থেকে এর গুরুত্ব বিশেষ। সফরে যে দলে স্থান পেয়েছেন, তারা হলেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সেই সাবেক চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়রা, যাদের তালেবান শাসনের সময় জমজমাট খেলাধুলা থেকে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।

এদের অধিকাংশ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অনুশীলন করে দক্ষতা ধরে রেখেছেন। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলবার সুযোগ তাদের কাছে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এখন সেই পথ খুলে যাচ্ছে।

বিশ্বক্রীড়া মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মেল জোন্স প্রশংসা করে বলেছেন, ‘এই ক্রিকেটাররা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে—সবকিছু হারিয়েও তারা ক্রিকেট ছাড়েনি।’

ইসিবির ডেপুটি প্রধান নির্বাহী ক্লেয়ার কনর এই মানবিক উদ্যোগকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ক্রিকেটের কাজই হল অন্তর্ভুক্তি ও সুযোগ সৃষ্টি করা।’ তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সফর আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

এই সফর তাদের জন্য কেবল ক্রীড়া নয়—এক বছর ভুলে যাওয়া স্বপ্নের ফিরে পাওয়ার, নিজের সত্তা ও দক্ষতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যয়ের একটি পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইসি জানালেন: স্থানীয় সরকার ভোটেও পোস্টার থাকবে না

পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরছেন আফগান নারী ক্রিকেটাররা

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

তালেবান ক্ষমতায় কব্জা হবার পর দীর্ঘদিন মুখ থুবড়ে পড়া আফগান নারী ক্রিকেটে ফেরার নতুন আশার সূচনা হলো। অনিশ্চয়তা আর প্রাণভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এসব নারী ক্রিকেটার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

আগামী মাসে একটি শরণার্থী দলের রূপে তারা ইংল্যান্ড সফর করবেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, এই সফরে শুধু টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ও অনুশীলনই নয়—তোমরা লর্ডস গ্রাউন্ডে বসে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালও উপভোগ করার সুযোগ পাবে।

ইসিবি বলেছে, এটা কেবল একটি ক্রিকেট সফর নয়; সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াগত দিক থেকে এর গুরুত্ব বিশেষ। সফরে যে দলে স্থান পেয়েছেন, তারা হলেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সেই সাবেক চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়রা, যাদের তালেবান শাসনের সময় জমজমাট খেলাধুলা থেকে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।

এদের অধিকাংশ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অনুশীলন করে দক্ষতা ধরে রেখেছেন। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলবার সুযোগ তাদের কাছে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এখন সেই পথ খুলে যাচ্ছে।

বিশ্বক্রীড়া মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মেল জোন্স প্রশংসা করে বলেছেন, ‘এই ক্রিকেটাররা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে—সবকিছু হারিয়েও তারা ক্রিকেট ছাড়েনি।’

ইসিবির ডেপুটি প্রধান নির্বাহী ক্লেয়ার কনর এই মানবিক উদ্যোগকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ক্রিকেটের কাজই হল অন্তর্ভুক্তি ও সুযোগ সৃষ্টি করা।’ তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সফর আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

এই সফর তাদের জন্য কেবল ক্রীড়া নয়—এক বছর ভুলে যাওয়া স্বপ্নের ফিরে পাওয়ার, নিজের সত্তা ও দক্ষতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যয়ের একটি পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।