তালেবান ক্ষমতায় কব্জা হবার পর দীর্ঘদিন মুখ থুবড়ে পড়া আফগান নারী ক্রিকেটে ফেরার নতুন আশার সূচনা হলো। অনিশ্চয়তা আর প্রাণভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এসব নারী ক্রিকেটার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।
আগামী মাসে একটি শরণার্থী দলের রূপে তারা ইংল্যান্ড সফর করবেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, এই সফরে শুধু টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ও অনুশীলনই নয়—তোমরা লর্ডস গ্রাউন্ডে বসে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালও উপভোগ করার সুযোগ পাবে।
ইসিবি বলেছে, এটা কেবল একটি ক্রিকেট সফর নয়; সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াগত দিক থেকে এর গুরুত্ব বিশেষ। সফরে যে দলে স্থান পেয়েছেন, তারা হলেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সেই সাবেক চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়রা, যাদের তালেবান শাসনের সময় জমজমাট খেলাধুলা থেকে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।
এদের অধিকাংশ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অনুশীলন করে দক্ষতা ধরে রেখেছেন। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলবার সুযোগ তাদের কাছে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এখন সেই পথ খুলে যাচ্ছে।
বিশ্বক্রীড়া মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মেল জোন্স প্রশংসা করে বলেছেন, ‘এই ক্রিকেটাররা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে—সবকিছু হারিয়েও তারা ক্রিকেট ছাড়েনি।’
ইসিবির ডেপুটি প্রধান নির্বাহী ক্লেয়ার কনর এই মানবিক উদ্যোগকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ক্রিকেটের কাজই হল অন্তর্ভুক্তি ও সুযোগ সৃষ্টি করা।’ তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সফর আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।
এই সফর তাদের জন্য কেবল ক্রীড়া নয়—এক বছর ভুলে যাওয়া স্বপ্নের ফিরে পাওয়ার, নিজের সত্তা ও দক্ষতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যয়ের একটি পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























