২০১৪ সালের বিশ্ব জয়ী দল হিসেবে বড় প্রত্যাশা নিয়ে নামেছিল জার্মানি; কিন্তু শেষ দুটো বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়ে দেশভক্তদের মনে হতাশাই পেতেছে। সেই হারানো গৌরব ফেরাতে এবার কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়েছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে আবার দলে ফিরিয়েছে জার্মানি।
ফ্রাঙ্কফুর্টে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নয়্যার ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের একমাত্র পুরনো সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন। নবনির্বাচিত এই স্কোয়াডে নয়্যারকে নিয়েই স্পষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন নাগলসমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মানুষ জানে নয়্যার কী calibre-এর খেলোয়াড় এবং দলের জন্য তার অবদান কত বড়। আমরা তাকে ১ নম্বর (প্রধান গোলকিপার) হিসেবেই পরিকল্পনা করছি।’
নয়্যার দলে ফিরলেও নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকবে ইয়োশুয়া কিমিখের কাঁধেই। চোট কাটিয়ে ফেরেন জ্যামাল মুসিয়ালা, এবং জিতেই জায়গা ধরে রেখেছেন লিরয় সানে ও কাই হাভার্টজের মতো অভিজ্ঞ তরুণরা—যারা মাঝমাঠ ও আক্রমণে সৃজনশীলতা যোগ করবেন।
এই স্কোয়াডে এক অন্য চমক হিসেবে ডাক পেয়েছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লেনার্ট কার্ল; তার আশ্চর্যমনোভাবাপন্ন আহ্বান ফুটবলভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। অন্যদিকে নিয়মিত মুখ নিকলাস ফুলক্রুগ এবং রবার্ট আনড্রিখের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নও উঠেছে।
জার্মানির রক্ষণভাগ সামলাবেন অ্যান্টোনিও রুদিগার ও জোনাথন টাহের মতো অভিজ্ঞরা। পাশাপাশি ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস ও নিক ভোল্টেমাডরাও মাঝমাঠ ও আক্রমণে দলের শক্তি বাড়াবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ বছর ধরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ‘সি’ গ্রুপে জার্মানির প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে কুরাসাও, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর। অভিজ্ঞ নয়্যারকে পেছনে রেখে কিমিখ-মুসিয়ালা-মহলের সৃজনশীলতা দিয়ে জার্মানি এবার কতদূর যেতে পারে—সেটা দেখাই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। দল ঘোষণার পর থেকেই আশাব্যঞ্জক কথা ও সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে; এখন মাঠে সেই কথার জবাব মিলবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























