০৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ফুটবল শান্তির দূত: দ্রগবা ও আইভরি কোস্টের বদলে যাওয়া গল্প

ফুটবল অনেক সময় কেবল ক্রীড়া ছাড়িয়ে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজন ভাঙতে পারে—আইভরি কোস্টে সেই বাস্তব উদাহরণ দিয়েছেন দিদিয়ের দ্রগবা। ২০০২ সাল থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশটিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে ফেলেছিল; দীর্ঘ সংঘাত করে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এমন একটা সময়ে একটি ফুটবলারের সাহসিকতা পুরো দেশকে অন্য পথে নিয়ে যায়।

২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে, বিশ্বকাপ (জার্মানি ২০০৬) ফুটবলের টিকিট নিশ্চিত করে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সেই জয়ের উত্তেজনায় যখন সমগ্র জাতি আনন্দে ভাসছিল, দ্রগবা ক্যামেরার সামনে ও তার দলের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে হাঁটু গেড়ে বসেন এবং সরাসরি দেশের বিবাদগ্রস্ত পক্ষগুলোর প্রতি আবেদন জানান। তিনি বলেছিলেন, ‘উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম নির্বিশেষে আমরা এক হতে পারি’—এই এক মিনিটের আবেগঘন বার্তা তখন লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

দ্রগবার আবেদন ছিল শান্তি ও ক্ষমার ডাক: তিনি বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর কাছে অস্ত্র নামানোর আহ্বান জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রক্রিয়াগতভাবে হস্তান্তরের তাগাদা দেন এবং দেশের সম্পদকে বিনষ্ট না করার অনুরোধ করেন। একজন জাতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তার এই অনুরোধ সাধারণ মানুষ, রাজনীতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মনে গভীর ছাপ ফেলে।

তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আলোচনার পথে ফিরে আসে বিরোধী পক্ষগুলো; তত্ক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি ও কথোপকথনের দরজা খুলে। পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগগুলো শক্তিশালী হয়ে ২০০৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দ্রগবার প্রভাবে সেই বছরের এক প্রতিনিধিত্বশীল ক্রিয়া ছিল জাতীয় দলের ম্যাচটি বুয়াক শহরে আয়োজিত করা—একটি এমন জায়গায় যেখানে পূর্বে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি বলে পরিচিততা ছিল। ম্যাচের সময় পুরো দেশ একবত্‌ একটি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গায়—একটি শক্তিশালী প্রতীক যা বিভেদ ভুলে যাওয়ার ইচ্ছাকে প্রকাশ করে।

এভাবে একজন খেলোয়াড়ের একক পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ধার পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। দ্রগবার এই কীর্তি কেবল আইভরি কোস্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বিশ্বব্যাপী ফুটবলকে মানবিক সংহতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তিনি প্রমাণ করলেন যে ক্রীড়াবিদ হিসেবে কেউ যদি ইতিবাচক ভূমিকা নিতে চায়, তা থেকে সমাজে গভীর পরিবর্তন আসতে পারে।

আজও তাঁকে কেবল একজন দুর্দান্ত স্ট্রাইকার বা গোলদাতা হিসেবে নয়, বরং শান্তির দূত ও জাতির এক ঐতিহাসিক নেতার মতো শ্রদ্ধা করা হয়। আইভরি কোস্টের সেই বিষম সময়ে দ্রগবার উদ্যোগ মানুষের মধ্যে নীরব আশার সঞ্চার করেছিল—এবং ফুটবলের পটভূমিতে ভূমিকা বদলে দেয়ার একটি শক্তিশালী উদাহরণ রেখে যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ফুটবল শান্তির দূত: দ্রগবা ও আইভরি কোস্টের বদলে যাওয়া গল্প

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ফুটবল অনেক সময় কেবল ক্রীড়া ছাড়িয়ে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজন ভাঙতে পারে—আইভরি কোস্টে সেই বাস্তব উদাহরণ দিয়েছেন দিদিয়ের দ্রগবা। ২০০২ সাল থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশটিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে ফেলেছিল; দীর্ঘ সংঘাত করে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এমন একটা সময়ে একটি ফুটবলারের সাহসিকতা পুরো দেশকে অন্য পথে নিয়ে যায়।

২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে, বিশ্বকাপ (জার্মানি ২০০৬) ফুটবলের টিকিট নিশ্চিত করে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সেই জয়ের উত্তেজনায় যখন সমগ্র জাতি আনন্দে ভাসছিল, দ্রগবা ক্যামেরার সামনে ও তার দলের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে হাঁটু গেড়ে বসেন এবং সরাসরি দেশের বিবাদগ্রস্ত পক্ষগুলোর প্রতি আবেদন জানান। তিনি বলেছিলেন, ‘উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম নির্বিশেষে আমরা এক হতে পারি’—এই এক মিনিটের আবেগঘন বার্তা তখন লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

দ্রগবার আবেদন ছিল শান্তি ও ক্ষমার ডাক: তিনি বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর কাছে অস্ত্র নামানোর আহ্বান জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রক্রিয়াগতভাবে হস্তান্তরের তাগাদা দেন এবং দেশের সম্পদকে বিনষ্ট না করার অনুরোধ করেন। একজন জাতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তার এই অনুরোধ সাধারণ মানুষ, রাজনীতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মনে গভীর ছাপ ফেলে।

তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আলোচনার পথে ফিরে আসে বিরোধী পক্ষগুলো; তত্ক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি ও কথোপকথনের দরজা খুলে। পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগগুলো শক্তিশালী হয়ে ২০০৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দ্রগবার প্রভাবে সেই বছরের এক প্রতিনিধিত্বশীল ক্রিয়া ছিল জাতীয় দলের ম্যাচটি বুয়াক শহরে আয়োজিত করা—একটি এমন জায়গায় যেখানে পূর্বে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি বলে পরিচিততা ছিল। ম্যাচের সময় পুরো দেশ একবত্‌ একটি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গায়—একটি শক্তিশালী প্রতীক যা বিভেদ ভুলে যাওয়ার ইচ্ছাকে প্রকাশ করে।

এভাবে একজন খেলোয়াড়ের একক পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ধার পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। দ্রগবার এই কীর্তি কেবল আইভরি কোস্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বিশ্বব্যাপী ফুটবলকে মানবিক সংহতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তিনি প্রমাণ করলেন যে ক্রীড়াবিদ হিসেবে কেউ যদি ইতিবাচক ভূমিকা নিতে চায়, তা থেকে সমাজে গভীর পরিবর্তন আসতে পারে।

আজও তাঁকে কেবল একজন দুর্দান্ত স্ট্রাইকার বা গোলদাতা হিসেবে নয়, বরং শান্তির দূত ও জাতির এক ঐতিহাসিক নেতার মতো শ্রদ্ধা করা হয়। আইভরি কোস্টের সেই বিষম সময়ে দ্রগবার উদ্যোগ মানুষের মধ্যে নীরব আশার সঞ্চার করেছিল—এবং ফুটবলের পটভূমিতে ভূমিকা বদলে দেয়ার একটি শক্তিশালী উদাহরণ রেখে যায়।