১০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় দলের ডেরায় ডুলির নতুন যুগের সূচনা

জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জামাল ভূঁইয়ার মাঠে দলের প্রস্তুতি। সোমবার বিকেলে কিংস অ্যারেনায় প্রথমবার কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটান এই আমেরিকান প্রশিক্ষক।

বসুন্ধরা কিংসের ১০ জন ফুটবলারের ক্লাব দায়িত্বের কারণে এখনও ক্যাম্পে যোগ দিতে না পারায় ডুলি প্রথম সেশনটি অবশিষ্ট ১৬ জন ফুটবলারকে নিয়েই চালান। মাঠে লড়াই শুরুর আগে তিনি খেলোয়াড়দের সামনে নিজের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও কোচিং দর্শন তুলে ধরেন।

ডুলি ফুটবলারদের কাছে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ যোগাযোগকে প্রধান কথা হিসেবে তুলে ধরেন। নিজের কোচিং অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি ঘটনাসমূহ স্মরণ করান যেখানে কোনো খেলোয়াড় কোচের নির্দেশ মেনে নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি এবং সেটি ম্যাচ পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বাংলাদেশের দলে এমন বিভ্রান্তি যেন না ঘটে, সেজন্য কোনো কৌশল বা নির্দেশনা বুঝতে সমস্যা হলে তা খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রশিক্ষণের গুণগত মান বাড়াতে ডুলি কেবল শারীরিক অনুশীলনে মনোনিবেশ করেননি; মনোযোগ ও কৌশলগত দক্ষতার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ পাসিং ড্রিল ও পরিচিত ‘চোর-চোর’ ধরন বদলে তিনি খেলাকে পজিশনাল ৫ বনাম ২ গেমে রূপান্তর করেন, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও স্থানীয়তা বাড়ায়।

ডুলির পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের ফুটবলারদের স্ট্যামিনা আন্তর্জাতিক মানের হলেও ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পেছনে প্রধানত মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো ভুলগুলোই দায়ী। এই দুর্বলতা দমন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা তাঁর অগ্রাধিকার।

প্রথম দিনের অনুশীলনটি মূলত পরিচিতি ও নির্দেশনার মধ্যেই শেষ হয়েছে। আগামীকাল দলের দ্বিতীয় সেশন রয়েছে; তবে সেই অনুশীলনে বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা সময়মতো উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে পারেনি। পুরো দল একসঙ্গে জড়ো হলে ডুলি তার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল এবং বিস্তারিত গেম প্ল্যান নিয়ে পূরোদমে কাজ শুরু করবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারাগারের চার দেয়ালে ১৬১ ‘ভিআইপি’র ঈদ

জাতীয় দলের ডেরায় ডুলির নতুন যুগের সূচনা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জামাল ভূঁইয়ার মাঠে দলের প্রস্তুতি। সোমবার বিকেলে কিংস অ্যারেনায় প্রথমবার কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটান এই আমেরিকান প্রশিক্ষক।

বসুন্ধরা কিংসের ১০ জন ফুটবলারের ক্লাব দায়িত্বের কারণে এখনও ক্যাম্পে যোগ দিতে না পারায় ডুলি প্রথম সেশনটি অবশিষ্ট ১৬ জন ফুটবলারকে নিয়েই চালান। মাঠে লড়াই শুরুর আগে তিনি খেলোয়াড়দের সামনে নিজের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও কোচিং দর্শন তুলে ধরেন।

ডুলি ফুটবলারদের কাছে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ যোগাযোগকে প্রধান কথা হিসেবে তুলে ধরেন। নিজের কোচিং অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি ঘটনাসমূহ স্মরণ করান যেখানে কোনো খেলোয়াড় কোচের নির্দেশ মেনে নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি এবং সেটি ম্যাচ পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বাংলাদেশের দলে এমন বিভ্রান্তি যেন না ঘটে, সেজন্য কোনো কৌশল বা নির্দেশনা বুঝতে সমস্যা হলে তা খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রশিক্ষণের গুণগত মান বাড়াতে ডুলি কেবল শারীরিক অনুশীলনে মনোনিবেশ করেননি; মনোযোগ ও কৌশলগত দক্ষতার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ পাসিং ড্রিল ও পরিচিত ‘চোর-চোর’ ধরন বদলে তিনি খেলাকে পজিশনাল ৫ বনাম ২ গেমে রূপান্তর করেন, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও স্থানীয়তা বাড়ায়।

ডুলির পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের ফুটবলারদের স্ট্যামিনা আন্তর্জাতিক মানের হলেও ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পেছনে প্রধানত মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো ভুলগুলোই দায়ী। এই দুর্বলতা দমন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা তাঁর অগ্রাধিকার।

প্রথম দিনের অনুশীলনটি মূলত পরিচিতি ও নির্দেশনার মধ্যেই শেষ হয়েছে। আগামীকাল দলের দ্বিতীয় সেশন রয়েছে; তবে সেই অনুশীলনে বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা সময়মতো উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে পারেনি। পুরো দল একসঙ্গে জড়ো হলে ডুলি তার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল এবং বিস্তারিত গেম প্ল্যান নিয়ে পূরোদমে কাজ শুরু করবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।