০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন তারেক রহমান বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে পশু কোরবানি সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে কোরবানি চলছে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

রেকর্ডের ঝড় তুললেন ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ বৈভব সূর্যবংশী

আইপিএল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখে দিলেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী। এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে তিনি ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৪ বছর পুরনো এক কীর্তি ভেঙে দিলেন — ক্রিস গেইলের ২০১২ সালের সিজনের ৫৯ ছক্কা ভাঙিয়ে এবার বৈভব পৌঁছে গেছেন ৬৫ ছক্কায়। তার এই অভূতপূর্ব শক্তি-প্রদর্শনকে সম্মান জানিয়ে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ উপাধি দেওয়া হয়, যা গেইলের ‘ইউনিভার্স বস’-এর আধুনিক প্রতিলিপির মতো হয়ে উঠেছে।

ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বৈভব হায়দরাবাদের বোলিং লাইন-আপকে চাপে রেখেছেন। প্যাট কামিন্স ও সাকিব হোসেনের মতো বিশ্বমানের বোলারদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি আইপিএল প্লে-অফের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ডের অংশীদার হন। আউট হওয়ার আগে তাঁর ইনিংসটা ছিল প্রকৃতিই বিধ্বংসী — ২৯ বলে ৯৭ রান, স্ট্রাইক রেট ৩৩৪.৪৮। মাত্র ৩ রান দূরে থাকায় তিনি ২০১৩ সালে গেইলের করা ৩০ বলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছুঁতে পারেননি; নতুবা সেদিকেও নতুন রেকর্ডের दावा ছিল।

ইনিংসের প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে বৈভব একাই ৮টি ছক্কা মেরেছিলেন — এটা আইপিএলের পাওয়ার প্লে-এ কোন ব্যাটারের একক সর্বোচ্চ ছক্কা এবং ২০০৮ সালে সনাথ জয়াসুরিয়ার করা ৭টির রেকর্ড ভাঙল। এই দারুণ সূচনার ফলে রাজস্থান রয়্যালস একটি বিশাল সংগ্রহের ভিত্তি পেয়েছে এবং প্রতিপক্ষ বোলারদের মনোবল ছবি হয়ে পড়ে।

বয়স মাত্র ১৫ বছর ৪৩ দিন হলেও বৈভবের কীর্তি কেবল আইপিএলে সীমাবদ্ধ নেই। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের পরিসংখ্যানে তিনি দ্রুততমভাবে ১০০টি ছক্কা করার রেকর্ড গড়েছেন — মাত্র ৫১৫ বল খেলেই তিনি ওই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এছাড়া আইপিএলের ইতিহাসে ২০ বলের কম সময়ের মধ্যে ৫টি হাফ-সেঞ্চুরি করার মাপকাঠিতে তিনি এখন নিকোলাস পুরানের পাশে আছেন; এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অভিষেক শর্মা, যিনি ৬ বার এই কীর্তি করেছেন। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করছে বৈভব কেবল একদিনের বিস্ফোরণ নন, বরং নিয়মিতভাবে উচ্চমান বজায় রাখতে সক্ষম এক প্রতিভা।

বিশেষজ্ঞরা এবং ক্রিকেট বিশ্ব এখন এই কিশোরের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্ভীক ব্যাটিং, প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং ধারাবাহিক রেকর্ড-ভাঙার সক্ষমতা দেখে মনে হচ্ছে বৈভব সূর্যবংশী আগামী দিনে আরও বড় মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবেন। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে তার এই পারফরম্যান্স আইপিএলের রোমাঞ্চকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং তরুণ এই খেলোয়াড়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করবে—এসবই এখন সমগ্র ক্রিকেটপ্রেমীদের নিয়ন্ত্রণে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান

রেকর্ডের ঝড় তুললেন ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ বৈভব সূর্যবংশী

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

আইপিএল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখে দিলেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী। এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে তিনি ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৪ বছর পুরনো এক কীর্তি ভেঙে দিলেন — ক্রিস গেইলের ২০১২ সালের সিজনের ৫৯ ছক্কা ভাঙিয়ে এবার বৈভব পৌঁছে গেছেন ৬৫ ছক্কায়। তার এই অভূতপূর্ব শক্তি-প্রদর্শনকে সম্মান জানিয়ে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ উপাধি দেওয়া হয়, যা গেইলের ‘ইউনিভার্স বস’-এর আধুনিক প্রতিলিপির মতো হয়ে উঠেছে।

ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বৈভব হায়দরাবাদের বোলিং লাইন-আপকে চাপে রেখেছেন। প্যাট কামিন্স ও সাকিব হোসেনের মতো বিশ্বমানের বোলারদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি আইপিএল প্লে-অফের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ডের অংশীদার হন। আউট হওয়ার আগে তাঁর ইনিংসটা ছিল প্রকৃতিই বিধ্বংসী — ২৯ বলে ৯৭ রান, স্ট্রাইক রেট ৩৩৪.৪৮। মাত্র ৩ রান দূরে থাকায় তিনি ২০১৩ সালে গেইলের করা ৩০ বলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছুঁতে পারেননি; নতুবা সেদিকেও নতুন রেকর্ডের दावा ছিল।

ইনিংসের প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে বৈভব একাই ৮টি ছক্কা মেরেছিলেন — এটা আইপিএলের পাওয়ার প্লে-এ কোন ব্যাটারের একক সর্বোচ্চ ছক্কা এবং ২০০৮ সালে সনাথ জয়াসুরিয়ার করা ৭টির রেকর্ড ভাঙল। এই দারুণ সূচনার ফলে রাজস্থান রয়্যালস একটি বিশাল সংগ্রহের ভিত্তি পেয়েছে এবং প্রতিপক্ষ বোলারদের মনোবল ছবি হয়ে পড়ে।

বয়স মাত্র ১৫ বছর ৪৩ দিন হলেও বৈভবের কীর্তি কেবল আইপিএলে সীমাবদ্ধ নেই। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের পরিসংখ্যানে তিনি দ্রুততমভাবে ১০০টি ছক্কা করার রেকর্ড গড়েছেন — মাত্র ৫১৫ বল খেলেই তিনি ওই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এছাড়া আইপিএলের ইতিহাসে ২০ বলের কম সময়ের মধ্যে ৫টি হাফ-সেঞ্চুরি করার মাপকাঠিতে তিনি এখন নিকোলাস পুরানের পাশে আছেন; এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অভিষেক শর্মা, যিনি ৬ বার এই কীর্তি করেছেন। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করছে বৈভব কেবল একদিনের বিস্ফোরণ নন, বরং নিয়মিতভাবে উচ্চমান বজায় রাখতে সক্ষম এক প্রতিভা।

বিশেষজ্ঞরা এবং ক্রিকেট বিশ্ব এখন এই কিশোরের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্ভীক ব্যাটিং, প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং ধারাবাহিক রেকর্ড-ভাঙার সক্ষমতা দেখে মনে হচ্ছে বৈভব সূর্যবংশী আগামী দিনে আরও বড় মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবেন। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে তার এই পারফরম্যান্স আইপিএলের রোমাঞ্চকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং তরুণ এই খেলোয়াড়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করবে—এসবই এখন সমগ্র ক্রিকেটপ্রেমীদের নিয়ন্ত্রণে।