০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হচ্ছে কাল হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে দৃষ্টিহীন নূরজাহানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হজ শেষ: দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন তারেক রহমান বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে পশু কোরবানি

রোনালদো ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন: পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ

বিশ্ব ফুটবলের অপরাজেয় এক নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—৪১ বছর বয়সেও তিনি এখনও মাঠে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। সৌদি আরবের আল নাসর ক্লাব থেকে নিয়মিতভাবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন তিনি এবং ২০২৬ সালের আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদায়ের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি রোনালদোর পক্ষ থেকে, তাই ভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই জেগে উঠছে এক প্রশ্ন: ২০৩০ বিশ্বকাপেও কি তাকে দেখা যাবে?

এই কৌতূহল মিটিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেন পর্তুগাল জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। সম্প্রতি স্পেনের রেডিও স্টেশন কাদেনা সেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিনেজ বললেন, রোনালদো ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। তার মতে, রোনালদোর এই অবস্থান অর্জন শুধুই প্রতিভা নয়; কঠোর পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তা তার মূল শক্তি।

মার্টিনেজ আরও বলেন, রোনালদো কেবল ট্রফি বা ব্যক্তিগত পুরস্কারের জন্য খেলেন না। তার আসল চালিকা শক্তি হল জয়ের এক অবিরাম ক্ষুধা—প্রতিটি সাফল্যের পরও তিনি বেশি করে নিজেকে প্রমাণ করার বাসনা পোষণ করেন। কোচ বলেন, দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেছে রোনালদোর অভ্যাস, জীবনযাপন ও অনুশীলনই তাকে আলাদা রেখেছে।

তিনি তুলনা করেও জানান, মেস্ত অনেক বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও রোনালদোর মনোভাব সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক খেলোয়াড় একবার বড় সম্মান পেলেই আগ্রাসী লড়াই বা জয়ের তাগিদ হারিয়ে ফেলে—কিন্তু রোনালদো কখনো তাই করেননি। মাঠে তার একাগ্রতা ও লড়াকু মানসিকতা এক অনন্য উদাহরণ।

মার্টিনেজের মতে, জেনেটিক কিছু সুবিধা থাকলেও রোনালদোর দীর্ঘ সময় ধারের সাফল্যের পেছনে মূল কারণ তার অনবরত কঠোর পরিশ্রম ও ইস্পাতসম শক্ত মন। এই মিলিত কারণেই তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে আদর্শ হিসেবে রয়ে গেছেন এবং নতুন প্রজন্মের ওপর তার প্রভাব স্পষ্ট।

সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্তে বলা হয়—২০০৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় রোনালদোর। পরের সময়ে দেশের জার্সিতে তার রেকর্ড রয়েছে ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ১৪৩টি গোল—যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষ করে দেশের হয়ে গোলের এক গৌরবময় রেকর্ড হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়। পাশাপাশি তিনি পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র ফুটবলারের খেতাবও অর্জন করেছেন।

সব মিলিয়ে, কোচ মার্টিনেজের বিবৃতিতে রোনালদোর ভবিষ্যত নিয়ে যেন আশাবাদী সুর বজায় থাকে। তার কঠিন পরিশ্রম, বাধ্যতামূলক ডিএনএ-র মতো দক্ষতা এবং অবিচল মানসিকতা যদি বজায় থাকে, তাহলে ২০২৬-র পর ২০৩০ বিশ্বকাপেও তার উপস্থিতি সায়াহ্নের বদলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি

রোনালদো ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন: পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের অপরাজেয় এক নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—৪১ বছর বয়সেও তিনি এখনও মাঠে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। সৌদি আরবের আল নাসর ক্লাব থেকে নিয়মিতভাবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন তিনি এবং ২০২৬ সালের আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদায়ের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি রোনালদোর পক্ষ থেকে, তাই ভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই জেগে উঠছে এক প্রশ্ন: ২০৩০ বিশ্বকাপেও কি তাকে দেখা যাবে?

এই কৌতূহল মিটিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেন পর্তুগাল জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। সম্প্রতি স্পেনের রেডিও স্টেশন কাদেনা সেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিনেজ বললেন, রোনালদো ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। তার মতে, রোনালদোর এই অবস্থান অর্জন শুধুই প্রতিভা নয়; কঠোর পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তা তার মূল শক্তি।

মার্টিনেজ আরও বলেন, রোনালদো কেবল ট্রফি বা ব্যক্তিগত পুরস্কারের জন্য খেলেন না। তার আসল চালিকা শক্তি হল জয়ের এক অবিরাম ক্ষুধা—প্রতিটি সাফল্যের পরও তিনি বেশি করে নিজেকে প্রমাণ করার বাসনা পোষণ করেন। কোচ বলেন, দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেছে রোনালদোর অভ্যাস, জীবনযাপন ও অনুশীলনই তাকে আলাদা রেখেছে।

তিনি তুলনা করেও জানান, মেস্ত অনেক বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও রোনালদোর মনোভাব সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক খেলোয়াড় একবার বড় সম্মান পেলেই আগ্রাসী লড়াই বা জয়ের তাগিদ হারিয়ে ফেলে—কিন্তু রোনালদো কখনো তাই করেননি। মাঠে তার একাগ্রতা ও লড়াকু মানসিকতা এক অনন্য উদাহরণ।

মার্টিনেজের মতে, জেনেটিক কিছু সুবিধা থাকলেও রোনালদোর দীর্ঘ সময় ধারের সাফল্যের পেছনে মূল কারণ তার অনবরত কঠোর পরিশ্রম ও ইস্পাতসম শক্ত মন। এই মিলিত কারণেই তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে আদর্শ হিসেবে রয়ে গেছেন এবং নতুন প্রজন্মের ওপর তার প্রভাব স্পষ্ট।

সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্তে বলা হয়—২০০৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় রোনালদোর। পরের সময়ে দেশের জার্সিতে তার রেকর্ড রয়েছে ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ১৪৩টি গোল—যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষ করে দেশের হয়ে গোলের এক গৌরবময় রেকর্ড হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়। পাশাপাশি তিনি পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র ফুটবলারের খেতাবও অর্জন করেছেন।

সব মিলিয়ে, কোচ মার্টিনেজের বিবৃতিতে রোনালদোর ভবিষ্যত নিয়ে যেন আশাবাদী সুর বজায় থাকে। তার কঠিন পরিশ্রম, বাধ্যতামূলক ডিএনএ-র মতো দক্ষতা এবং অবিচল মানসিকতা যদি বজায় থাকে, তাহলে ২০২৬-র পর ২০৩০ বিশ্বকাপেও তার উপস্থিতি সায়াহ্নের বদলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।