০১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈশ্বিক চাপের কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৩ লাখ টাকা জরিমানা রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হচ্ছে কাল হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে দৃষ্টিহীন নূরজাহানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হজ শেষ: দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

মারাকানায় গোল উৎসব: পানামাকে ৬-২ হারাল ব্রাজিল

রিও দে জেনেরিওর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির বন্ধ ম্যাচে দুরন্ত ফুটবল খেলায় পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচে সেলেসাওরা আক্রমণাত্মক খেলায় দাপট দেখিয়ে নিজেদের শক্তি ও গভীর স্কোয়াডের সক্ষমতার প্রতিফলন দিয়েছে, ফলে মূল প্রতিযোগিতায় নামার আগে দলের আত্মবিশ্বাস замет্যভাবে বেড়েছে।

খেলাটি শুরুর মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে তারকা ফরওয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সরাসরি গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। খেলার এক পর্যায়ে পানামাও সমতা ফেরায় যখন মাইকেল মুরিলোর একটি ফ্রি-কিক বক্সে গিয়ে ব্রাজিলের মাথিউস কুনহার শরীর ছুঁয়ে জালে ঢুকে যায় — দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি আত্মঘাতী গোল হিসেবেই রেকর্ড হয়। এই ধাক্কা দ্রুত সামলে নিয়ে ব্রাজিল আধিপত্য বজায় রাখে এবং অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো প্রথমার্ধের শেষের দিকে একটি দুর্দান্ত শট থেকে দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন।

বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি কৌশলগত বদল আনে এবং একযোগে অনেক খেলোয়াড় পরিবর্তন করে—ফলাফল হিসেবে পানামার রক্ষণভাগ আরও উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং ব্রাজিলের গোলঝড় শুরু হয়। তরুণ রায়ান তৃতীয় গোলটি করে দলের রোমাঞ্চ বাড়ান। এরপর লুকাস পাকেতার একটি শট প্রতিপক্ষের এনির মধ্যে লেগে জালে গিয়ে স্কোর ৪-১ হয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে ইগর থিয়াগো পেনাল্টি থেকে গোল করলে পরবর্তীতে ডিফেন্ডার দানিলো চমৎকার একটি ফিনিশিং করে দলের ষষ্ঠ গোলটি নিশ্চিত করেন। মাঝখানে পানামার হার্ভে এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কিছুটা কমালেও সেটা ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। পরিসংখ্যান বলছে সেলেসাওরা মোট ১৪টি শট নেয় এবং তাদের এক্সপেক্টেড গোলস (xG) ছিল ২.২৬—যা আক্রমণ ও সুযোগ তৈরির দিক থেকে তাদের কার্যকারিতা তুলে ধরে। আনচেলত্তির এই ম্যাচে বিভিন্ন খেলোয়াড়কে খেলানোর সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে দলের দুর্বলতার চিহ্নিত করে পরবর্তী সামঞ্জস্য আনার সুযোগ করে দেবে। পাসিং কন্ট্রোল, মোবাইলিটি ও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং—এই সব কিছুই ব্রাজিলিয়ানদের খেলার মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এলো এবং এগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিল একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আরও খেলবে; আগামী ৭ জুন তারা মোহামেদ সালাহ নেতৃত্বাধীন মিশরের বিরুদ্ধে নামবে। এরপর ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে তাদের পথচলা শুরু হবে। ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল ২০ জুন হাইতির এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। মারাকানায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই জয়ের ফলে সেলেসাও ভক্তদের মধ্যে নতুন করে হেক্সা (ছয়তম বিশ্বকাপ) প্রত্যাশা জাগছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈশ্বিক চাপের কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

মারাকানায় গোল উৎসব: পানামাকে ৬-২ হারাল ব্রাজিল

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

রিও দে জেনেরিওর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির বন্ধ ম্যাচে দুরন্ত ফুটবল খেলায় পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচে সেলেসাওরা আক্রমণাত্মক খেলায় দাপট দেখিয়ে নিজেদের শক্তি ও গভীর স্কোয়াডের সক্ষমতার প্রতিফলন দিয়েছে, ফলে মূল প্রতিযোগিতায় নামার আগে দলের আত্মবিশ্বাস замет্যভাবে বেড়েছে।

খেলাটি শুরুর মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে তারকা ফরওয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সরাসরি গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। খেলার এক পর্যায়ে পানামাও সমতা ফেরায় যখন মাইকেল মুরিলোর একটি ফ্রি-কিক বক্সে গিয়ে ব্রাজিলের মাথিউস কুনহার শরীর ছুঁয়ে জালে ঢুকে যায় — দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি আত্মঘাতী গোল হিসেবেই রেকর্ড হয়। এই ধাক্কা দ্রুত সামলে নিয়ে ব্রাজিল আধিপত্য বজায় রাখে এবং অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো প্রথমার্ধের শেষের দিকে একটি দুর্দান্ত শট থেকে দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন।

বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি কৌশলগত বদল আনে এবং একযোগে অনেক খেলোয়াড় পরিবর্তন করে—ফলাফল হিসেবে পানামার রক্ষণভাগ আরও উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং ব্রাজিলের গোলঝড় শুরু হয়। তরুণ রায়ান তৃতীয় গোলটি করে দলের রোমাঞ্চ বাড়ান। এরপর লুকাস পাকেতার একটি শট প্রতিপক্ষের এনির মধ্যে লেগে জালে গিয়ে স্কোর ৪-১ হয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে ইগর থিয়াগো পেনাল্টি থেকে গোল করলে পরবর্তীতে ডিফেন্ডার দানিলো চমৎকার একটি ফিনিশিং করে দলের ষষ্ঠ গোলটি নিশ্চিত করেন। মাঝখানে পানামার হার্ভে এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কিছুটা কমালেও সেটা ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। পরিসংখ্যান বলছে সেলেসাওরা মোট ১৪টি শট নেয় এবং তাদের এক্সপেক্টেড গোলস (xG) ছিল ২.২৬—যা আক্রমণ ও সুযোগ তৈরির দিক থেকে তাদের কার্যকারিতা তুলে ধরে। আনচেলত্তির এই ম্যাচে বিভিন্ন খেলোয়াড়কে খেলানোর সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে দলের দুর্বলতার চিহ্নিত করে পরবর্তী সামঞ্জস্য আনার সুযোগ করে দেবে। পাসিং কন্ট্রোল, মোবাইলিটি ও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং—এই সব কিছুই ব্রাজিলিয়ানদের খেলার মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এলো এবং এগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিল একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আরও খেলবে; আগামী ৭ জুন তারা মোহামেদ সালাহ নেতৃত্বাধীন মিশরের বিরুদ্ধে নামবে। এরপর ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে তাদের পথচলা শুরু হবে। ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল ২০ জুন হাইতির এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। মারাকানায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই জয়ের ফলে সেলেসাও ভক্তদের মধ্যে নতুন করে হেক্সা (ছয়তম বিশ্বকাপ) প্রত্যাশা জাগছে।