পাকিস্তান দাবি করেছে যে আফগানিস্তানের সীমান্তঘেঁষা সন্ত্রাসী আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে দেশসমর্থিত নয়—ভারত-সমর্থিত—২৬ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বুধবার (১০ জুন) দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তারার according to পোস্টে বলা হয়েছে, ‘‘সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’-এর পরিকল্পনাকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে নিখুঁত ও সূক্ষ্মভাবে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে ভারত সমর্থিত ২৬ জন নিহত হয়েছে।’’
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এখানে ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ শব্দটি ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে; দেশটিতে এই শব্দটি প্রায়শই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই টিটিপিকে ভারতের পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগে দাগিয়ে এসেছে।
তথ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে চারটি লক্ষ্যে হামলা চালানো হয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ কমান্ডার আলিম খান খুশালি ও কমান্ডার আখতার মুহাম্মদ জানি খেলের এক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি গোপন আস্তানা এবং একটি গোলাবারুদের ভাণ্ডার ও কেন্দ্র — যা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে বলে সবাইকে জানানো হয়েছে।
তারার বলেন, এই অভিযানগুলো পাকিস্তানে আগের সন্ত্রাসী ঘটনার প্রেক্ষিতে চালানো হয়েছে; তাতে মঙ্গলবার পেশোয়ারের মুসা দারায় ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি (এফসি) পোস্টে হওয়া হামলাটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি দাবি করেন, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ রূপকল্প (জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুমোদিত ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটির নির্দেশে) অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেশ থেকে বিদেশি ও বিদেশি সহায়তাপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে অভিযান চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান শাসনপ্রাপ্ত সরকার বলেছে যে ওই বিমান হামলায় প্রচণ্ড ক্ষতি হয়েছে এবং তাতে সশস্ত্রগোষ্ঠীর সদস্যরাই নয়, বেসামরিকরাও হতাহত হয়েছেন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে প্রকাশিত পোস্টে বলেছেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে তিনটি এলাকায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী ও একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। তিনি আরও জানান, অন্তত ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন এবং এই হামলাকে তারা ‘‘মানবিক অপরাধ ও আগ্রাসন’’ হিসেবে নিন্দা করেছে।
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ টিটিপিকে আশ্রয়-প্রশ্রয়, গোলাবারুদ, অস্ত্র ও খাদ্য ইত্যাদি সহায়তা করছে; তালেবান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। দুইপক্ষের এই অভিযোগপ্রমাণের লড়াই ও পারস্পরিক অভিযোজনের মধ্যেই সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক নজির হিসেবে বলা হয়, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে; তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ওই হামলায় ৮০ এর বেশি লোক প্রাণ হারায়।
উভয় পক্ষে দেওয়া বিবরণে ভিন্নতা থাকায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন উৎস থেকে আঘাতের পরিসর ও নিহতদের শনাক্তকরণ এখনও যাচাইবহুলভাবে নিশ্চিত হয়নি। প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঘটনার আরও স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত আশা করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























