০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ঢাকার যানজট কমাতে তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল করল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, জহিরকে প্রশাসক নিয়োগ নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে আটকে পড়ায় সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র কিছু অংশ বদলে গেছে, কিছু পালিয়েছে

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে ওই সময়ে একটি বিশাল ক্ষমতাভিত্তিক ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। তিনি যারা ওই সময় অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছিল, তাদের তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

রনি বলেন, এই ‘কোম্পানি’ মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথমত ছিল শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী — যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় সুবিধা গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয়ত ছিল প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য, বিশেষ করে তারা যারা চট্টগ্রামে বসবাস করে অথবা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়সবলম্বন থাকতো। তৃতীয়ত ছিল এনজিও ও ব্যাংকিং খাতের একটি চক্র, যারা বিভিন্ন জরিপ বা রিপোর্টের আড়ালে কোটি কোটি টাকা এনে নিজের মতো করে খরচ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অর্থনৈতিক লুটপাটের প্রসঙ্গে রনি জানান, ওই সরকারের আগে দেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু ১৮ মাসের মধ্যে তা বাড়িয়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। অতিরিক্ত যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ব্যবহার হয়েছে — তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ মওকুফ, রিশিডিউল কৌশল ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুবিধা করে টাকা ছাপানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থশ্রোত শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। রনির দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রচুর অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি।

ভিডিওর শেষ অংশে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়কেও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় ওই কোম্পানির শীর্ষ নেতারা প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে নাজেহাল ও অপমান করার কোনো কসরত সঞ্চয় করেননি, যার ফলে এখন তাদের নৈতিক সাহস অথবা ‘মোরাল কারেজ’ শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি থেকেই রনির মতে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলিয়ে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে একাত্মতা বা সমঝোতা করেছে, কিছু অংশ নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছে এবং অপর অংশ বিচার এড়াতে দেশ ছাড়ে পালিয়ে গেছে।

রনির সব দাবি তিনি নিজের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ হিসেবে উত্থাপন করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঢাকার যানজট কমাতে তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র কিছু অংশ বদলে গেছে, কিছু পালিয়েছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে ওই সময়ে একটি বিশাল ক্ষমতাভিত্তিক ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। তিনি যারা ওই সময় অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছিল, তাদের তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

রনি বলেন, এই ‘কোম্পানি’ মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথমত ছিল শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী — যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় সুবিধা গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয়ত ছিল প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য, বিশেষ করে তারা যারা চট্টগ্রামে বসবাস করে অথবা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়সবলম্বন থাকতো। তৃতীয়ত ছিল এনজিও ও ব্যাংকিং খাতের একটি চক্র, যারা বিভিন্ন জরিপ বা রিপোর্টের আড়ালে কোটি কোটি টাকা এনে নিজের মতো করে খরচ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অর্থনৈতিক লুটপাটের প্রসঙ্গে রনি জানান, ওই সরকারের আগে দেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু ১৮ মাসের মধ্যে তা বাড়িয়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। অতিরিক্ত যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ব্যবহার হয়েছে — তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ মওকুফ, রিশিডিউল কৌশল ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুবিধা করে টাকা ছাপানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থশ্রোত শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। রনির দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রচুর অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি।

ভিডিওর শেষ অংশে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়কেও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় ওই কোম্পানির শীর্ষ নেতারা প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে নাজেহাল ও অপমান করার কোনো কসরত সঞ্চয় করেননি, যার ফলে এখন তাদের নৈতিক সাহস অথবা ‘মোরাল কারেজ’ শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি থেকেই রনির মতে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলিয়ে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে একাত্মতা বা সমঝোতা করেছে, কিছু অংশ নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছে এবং অপর অংশ বিচার এড়াতে দেশ ছাড়ে পালিয়ে গেছে।

রনির সব দাবি তিনি নিজের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ হিসেবে উত্থাপন করেছেন।