০৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একাংশ বদলে গেছে, একাংশ পালিয়েছে: গোলাম মাওলা রনি

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ড. মোহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, সেই সময় ক্ষমতার কেন্দ্র থেকেই একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে ওঠে। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সেই গোষ্ঠীকেই তিনি ‘ড. ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ নাম দেন এবং তাদের বিতরণ, কার্যক্রম ও বিপুল অর্থ লোপাটের বিবরণ তুলে ধরেন।

রনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে দাবি করেন, এই কোম্পানির কয়েকটি প্রধান অংশ ছিল। একটি অংশে ছিলেন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় সুবিধা ও সুযোগ আদায় করেছিল। অন্য একটি অংশে ছিলেন প্রশাসনিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সামরিক বাহিন্যের এমন কিছু সদস্য, যারা চট্টগ্রামের বা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে পারিবারিক বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে প্রবেশ করেছে। তাছাড়া এনজিও ও ব্যাংকিং খাতে যুক্ত একটি বড় চক্রও নানাভাবে নিয়োগ, জরিপ বা রিপোর্টের আড়ালে কোটি কোটি টাকার ফান্ড এনে নিজস্বভাবে ব্যয় করেছে বলে রনি অভিযোগ করেন।

অর্থনৈতিক লুটপাটের ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন। রনির দাবি, আগে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, অন্তর্বর্তীকালীন ১৮ মাসে তা প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাড়তি ওই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (রনির ভাষ্যে আড়াই লাখ কোটি টাকা) কোথায় ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ঋণ মওকুফ ও রিশিডিউলের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুবিধা প্রদান করে রাষ্ট্রীয় লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা নষ্ট করার অভিযোগও করেছেন তিনি। রনির কথায়, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা খরচ দেখালেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস দেখা যায়নি।

ভিডিওর শেষ অংশে রনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র শীর্ষ ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমান করত—যার ফল এখন তাদের থেকে নৈতিক সাহস বা ‘মোরাল কারেজ’ কেটে গেছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির কারণেই কোম্পানির একটি বড় অংশ এখন নিজের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমান নেতৃত্বের সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় আছে, কিছু অংশ তাদের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছে এবং বাকি অংশ বিচার এড়াতে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে।

রনির এই অভিযোগগুলো এখনও বিচারের মুখোমুখি নয়; তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই তথ্য তুলে ধরলেও এসব নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া — সংশ্লিষ্টদের দিক থেকে — এখনও পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একাংশ বদলে গেছে, একাংশ পালিয়েছে: গোলাম মাওলা রনি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ড. মোহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, সেই সময় ক্ষমতার কেন্দ্র থেকেই একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে ওঠে। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সেই গোষ্ঠীকেই তিনি ‘ড. ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ নাম দেন এবং তাদের বিতরণ, কার্যক্রম ও বিপুল অর্থ লোপাটের বিবরণ তুলে ধরেন।

রনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে দাবি করেন, এই কোম্পানির কয়েকটি প্রধান অংশ ছিল। একটি অংশে ছিলেন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় সুবিধা ও সুযোগ আদায় করেছিল। অন্য একটি অংশে ছিলেন প্রশাসনিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সামরিক বাহিন্যের এমন কিছু সদস্য, যারা চট্টগ্রামের বা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে পারিবারিক বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে প্রবেশ করেছে। তাছাড়া এনজিও ও ব্যাংকিং খাতে যুক্ত একটি বড় চক্রও নানাভাবে নিয়োগ, জরিপ বা রিপোর্টের আড়ালে কোটি কোটি টাকার ফান্ড এনে নিজস্বভাবে ব্যয় করেছে বলে রনি অভিযোগ করেন।

অর্থনৈতিক লুটপাটের ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন। রনির দাবি, আগে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, অন্তর্বর্তীকালীন ১৮ মাসে তা প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাড়তি ওই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (রনির ভাষ্যে আড়াই লাখ কোটি টাকা) কোথায় ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ঋণ মওকুফ ও রিশিডিউলের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুবিধা প্রদান করে রাষ্ট্রীয় লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা নষ্ট করার অভিযোগও করেছেন তিনি। রনির কথায়, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা খরচ দেখালেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস দেখা যায়নি।

ভিডিওর শেষ অংশে রনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র শীর্ষ ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমান করত—যার ফল এখন তাদের থেকে নৈতিক সাহস বা ‘মোরাল কারেজ’ কেটে গেছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির কারণেই কোম্পানির একটি বড় অংশ এখন নিজের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমান নেতৃত্বের সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় আছে, কিছু অংশ তাদের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছে এবং বাকি অংশ বিচার এড়াতে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে।

রনির এই অভিযোগগুলো এখনও বিচারের মুখোমুখি নয়; তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই তথ্য তুলে ধরলেও এসব নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া — সংশ্লিষ্টদের দিক থেকে — এখনও পাওয়া যায়নি।