০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জুলাই স্মৃতির অবমাননার অভিযোগ: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জুলাই অবমাননার অভিযোগে শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগে জিডি বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত ও দায়বহ বুদ্ধিচর্চা অপরিহার্য: তথ্যমন্ত্রী জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই একক ডিজিটাল আইডি — জীবনভর সরকারি সেবার লক্ষ্য নতুন ভোটার হওয়ার সময়সীমা বাড়ালো ইসি তিন বাহিনীর বঞ্চিত ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না: চিফ হুইপ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়: চিফ হুইপ প্রবাসী আয়ে রিজার্ভে সুর ফেরেছে: রিজার্ভ পুনরায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে

বিশ্বকাপ থেকে ইরান বাদ পড়ায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিতর্কিত বিদায়ের কারণে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও এর প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলাটি বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করেছেন ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক লতফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি। আফ্রাসিয়াবি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রভাষক ও ওবামা প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টার পরিচয় দিয়ে এই মামলা করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার অপব্যবহার ইরানকে অবৈধভাবে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছে। নথিতে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ইরান বনাম মিশর ম্যাচের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেই ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানের দেওয়া এক গোলে ভিএআর-এর মাধ্যমে অফসাইড ঘোষণার ফলে সেটি বাতিল করা হয়। আফ্রাসিয়াবির দাবি, ওই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল ভুল ও পরিকল্পিতভাবে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯১ মিলিয়ন ইরানি সমর্থক মানসিক কষ্ট ও ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কেবল মাঠের উপরেই সীমাবদ্ধ নয়—মামলায় আরও বলা হয়েছে টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি দলের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। খেলোয়াড়দের রাতবিরতি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা, প্রশিক্ষণ শিবির হঠাৎ করে স্থানান্তর এবং দলের ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির ভিসা প্রত্যাখ্যানসহ এই সব ঘটনাকে আফ্রাসিয়াবি ফিফার দৃষ্টান্তহীন দ্বৈতনীতি ও বৈষম্যের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী এই বাধাগুলো দলের অনুশীলন ও মেন্টাল স্টেটকে বিঘ্নিত করেছে এবং পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আফ্রাসিয়াবি বলেছেন, মামলা জিতলে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের বড় অংশ তিনি ইরানের যুব ক্রীড়া ও ফুটবল উন্নয়নে খরচ করবেন। ফিফার মতো একটি শক্তিশালী সংস্থার বিরুদ্ধে এত বিশাল পরিমাণের মামলা দায়ের করা অভিনব ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ফুটবল অঙ্গনে এর প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

ফিফা কর্তৃপক্ষ এ সম্পর্কিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও দেয়নি। মামলার তাৎপর্য, আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নানা প্রশ্ন উঠা শুরু করেছে—কিন্তু এই মুহূর্তে এসব অভিযোগ আদালতের মাধ্যমে বিচারকেই অপেক্ষা করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

বিশ্বকাপ থেকে ইরান বাদ পড়ায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিতর্কিত বিদায়ের কারণে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও এর প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলাটি বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করেছেন ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক লতফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি। আফ্রাসিয়াবি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রভাষক ও ওবামা প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টার পরিচয় দিয়ে এই মামলা করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার অপব্যবহার ইরানকে অবৈধভাবে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছে। নথিতে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ইরান বনাম মিশর ম্যাচের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেই ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানের দেওয়া এক গোলে ভিএআর-এর মাধ্যমে অফসাইড ঘোষণার ফলে সেটি বাতিল করা হয়। আফ্রাসিয়াবির দাবি, ওই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল ভুল ও পরিকল্পিতভাবে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯১ মিলিয়ন ইরানি সমর্থক মানসিক কষ্ট ও ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কেবল মাঠের উপরেই সীমাবদ্ধ নয়—মামলায় আরও বলা হয়েছে টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি দলের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। খেলোয়াড়দের রাতবিরতি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা, প্রশিক্ষণ শিবির হঠাৎ করে স্থানান্তর এবং দলের ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির ভিসা প্রত্যাখ্যানসহ এই সব ঘটনাকে আফ্রাসিয়াবি ফিফার দৃষ্টান্তহীন দ্বৈতনীতি ও বৈষম্যের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী এই বাধাগুলো দলের অনুশীলন ও মেন্টাল স্টেটকে বিঘ্নিত করেছে এবং পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আফ্রাসিয়াবি বলেছেন, মামলা জিতলে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের বড় অংশ তিনি ইরানের যুব ক্রীড়া ও ফুটবল উন্নয়নে খরচ করবেন। ফিফার মতো একটি শক্তিশালী সংস্থার বিরুদ্ধে এত বিশাল পরিমাণের মামলা দায়ের করা অভিনব ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ফুটবল অঙ্গনে এর প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

ফিফা কর্তৃপক্ষ এ সম্পর্কিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও দেয়নি। মামলার তাৎপর্য, আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নানা প্রশ্ন উঠা শুরু করেছে—কিন্তু এই মুহূর্তে এসব অভিযোগ আদালতের মাধ্যমে বিচারকেই অপেক্ষা করছে।