ভেনিজুয়েলায় স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহতের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষ উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে সরবরাহ সীমিত ও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো কঠিনভাবে লেগে আছে। (সূত্র: ডয়চে ভেলে)
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। রাজধানী কৃশাকাস (কারাকাস) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে ধীরে ধীরে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করেছে — ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টার পর থেকেই দুর্গন্ধ তীব্র হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে। তবু নিখোঁজ আত্মীয়-পরিজনদের আশায় অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে অপেক্ষা করছেন। মিরেল্লা হেরেরা নামের এক নারী ধসে পড়া ভবনের পাশে বসে ছেলের খোঁজে অপেক্ষা করছেন; তিনি সিএনএনকে বলেছেন, “এই অপেক্ষা পাগল করে দিচ্ছে। নিজেকে শান্ত রাখতে পানি খাচ্ছি, হাঁটছি। ভাবছি, যদি তারা এখনও বেঁচে থাকে, তখন হয়তো বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নাসা ও ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৫ জুনের ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ রাডার ডেটা অনুযায়ী প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক নামের গবেষকরা এই তথ্য দ্রুত ও প্রাথমিক মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অপর্যাপ্ত সম্পদ ও তীব্র ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও এলাকা থাকায় উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনের সন্ধানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 




















